Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শীত পড়লেই যেন লেপের বাইরে পা (Winter Hunger) রাখতে ইচ্ছে করে না। ঠান্ডার কামড়ে শরীর জবুথবু হয়ে থাকে, আর সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে খিদের অনুভূতিও। অনেকেই লক্ষ্য করেন, শীতকালে অন্য সময়ের তুলনায় বারবার কিছু না কিছু খেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু প্রশ্ন হল-শীত এলেই খিদে কেন বেড়ে যায়? আর এই অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব?
শীত এলেই খিদে কেন বেড়ে যায়? (Winter Hunger)
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে আমাদের শরীরে একটি (Winter Hunger) স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়, যাকে বলা হয় থার্মোজেনেসিস। ঠান্ডার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শরীর নিজেকে উষ্ণ রাখার জন্য বেশি শক্তি বা ক্যালরি খরচ করে। ফলে শরীরের এনার্জির চাহিদা বেড়ে যায়। এই বাড়তি শক্তির প্রয়োজন মেটাতে মস্তিষ্ক থেকে খাবারের চাহিদার সংকেত পাঠানো হয়, যার ফলে খিদে আরও তীব্র হয়।
ভারসাম্য বদলে যাওয়া (Winter Hunger)
এর পাশাপাশি শীতকালে সূর্যের আলো তুলনামূলকভাবে কম (Winter Hunger) পাওয়া যায়। এর প্রভাবে শরীরে ‘সেরোটোনিন’ নামক হরমোনের মাত্রা কমে যেতে পারে, যা আমাদের মন ভালো রাখা ও তৃপ্তির অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে রাত বড় হওয়ায় ‘মেলাটোনিন’ হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এই হরমোনের ভারসাম্য বদলে যাওয়াও খিদে বাড়ার অন্যতম কারণ।

বিপাকক্রিয়াও কিছুটা বেড়ে যায়
শীতকালে মেটাবলিক কার্যকলাপ বা বিপাকক্রিয়াও কিছুটা বেড়ে যায়। তখন শরীর দ্রুত শক্তি ব্যবহার করে এবং তার বদলে কার্বোহাইড্রেট বা ভারী খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়। গরম, ঝাল বা তেল-মশলাযুক্ত খাবার খেতে বেশি মন চায়, কারণ এগুলো সাময়িকভাবে আরাম ও উষ্ণতার অনুভূতি দেয়।
মানসিক কারণ
শুধু শারীরিক নয়, মানসিক কারণও এখানে বড় ভূমিকা নেয়। ঠান্ডার দিনে কম চলাফেরা, ঘরে বেশি সময় থাকা এবং আরাম খোঁজার প্রবণতার কারণে অনেকেই অজান্তেই বেশি খেয়ে ফেলেন। একঘেয়েমি বা মানসিক স্বস্তির জন্যও খাবারের দিকে ঝোঁক বাড়ে।
আরও পড়ুন: Happy New Year 2026: বছরের শুরু কেন জানুয়ারিতেই? জানেন আসল কারণ?
তবে এই অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা একেবারেই অসম্ভব নয়। প্রথমত, শীতকালেও পর্যাপ্ত জলপান করা জরুরি। জল কম খেলে অনেক সময় খিদে বেশি মনে হয়। পাশাপাশি ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার বেছে নিলে পেট দীর্ঘ সময় ভরা থাকে। এই সময় স্যুপ, ওটস, হার্বাল টি, বাদাম, শাক-সবজি খুব ভালো বিকল্প।

এগুলিতে ক্যালরি কম হলেও পুষ্টিগুণ বেশি। বারবার খেতে পারেন, তবে পরিমাণ যেন কম হয়। ওটস, বাজরা, জোয়ার, ব্রাউন রাইস, রাঙা আলু এবং মরশুমি শাক-সবজি শীতকালে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়াতে সাহায্য করে।
ডিসক্লেইমার: এই প্রতিবেদনটি সাধারণ তথ্য ও পরামর্শের উদ্দেশ্যে লেখা। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।


