Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ্য ভাতা বা ডিএ মামলায় বড় রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট (DA Verdict)। রাজ্যের একাধিক যুক্তি খারিজ করে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ডিএ কোনও দয়া বা অনুগ্রহ নয়, বরং এটি রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একটি আইনসিদ্ধ অধিকার। এই রায়ে রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি যেমন স্বীকৃতি পেল, তেমনই রাজ্য প্রশাসনের উপর তৈরি হল বিপুল আর্থিক চাপ।

বকেয়া ডিএ মেটানোর কড়া সময়সীমা (DA Verdict)
বিচারপতি সঞ্জয় কারোলের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ যত দ্রুত সম্ভব মেটাতে হবে। পাশাপাশি, বাকি ৭৫ শতাংশ ডিএ ১৪ এপ্রিলের মধ্যেই পরিশোধ করতে হবে। শুধু তাই নয়, ওই ৭৫ শতাংশ বকেয়ার প্রথম কিস্তি ৩১ মার্চের মধ্যেই দিতে হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে আদালত। এছাড়াও, রাজ্য সরকারকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে হবে, যাতে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে কত টাকা, কবে এবং কীভাবে কর্মীদের দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই বকেয়া ডিএ পাওয়ার অধিকার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে নির্দেশে জানানো হয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি (DA Verdict)
বকেয়া ডিএ-র মোট অঙ্ক নির্ধারণ এবং পরিশোধের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে সুপ্রিম কোর্ট গঠন করেছে একটি চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি। এই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রাকে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি তারলোক সিং চৌহান, হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি গৌতম ভাদুড়ি, কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (CAG) অথবা তাঁর মনোনীত সমমর্যাদার সর্বোচ্চ সিনিয়র অফিসার এই কমিটিকে আগামী ৬ মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র মোট অঙ্ক এবং পরিশোধের কাঠামো চূড়ান্ত করতে হবে। বাকি ৭৫ শতাংশ টাকা কত কিস্তিতে এবং কত সময়ের মধ্যে দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্তও নেবে এই কমিটিই। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, প্রতিটি কিস্তির টাকা কর্মীরা ঠিকমতো পাচ্ছেন কি না, তার উপর কড়া নজর রাখবে এই কমিটি।

ডিএ মৌলিক অধিকার নয় (DA Verdict)
যদিও এই মামলায় আদালত রাজ্যের একটি যুক্তি আংশিকভাবে মেনে নিয়েছে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, ডিএ মৌলিক অধিকার নয় এবং এর হার পরিবর্তনশীল। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, এআইসিপিআই সূচকই ডিএ নির্ধারণের একমাত্র মাপকাঠি নয় এবং সংবিধানের আর্টিকেল ৩০৯ অনুযায়ী রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট এক্তিয়ার রয়েছে। কিন্তু আদালত একেবারে পরিষ্কার করে দিয়েছে এই এক্তিয়ার দেখিয়ে ডিএ প্রদানে বিলম্ব করা চলবে না। রোপা এবং এআইসিপিআই নিয়ম মেনেই কর্মচারীদের প্রাপ্য মেটাতে হবে। অর্থাৎ, হার নির্ধারণে রাজ্যের কিছু স্বাধীনতা থাকলেও, বকেয়া রেখে দেওয়ার কোনও আইনগত অধিকার নেই।
আরও পড়ুন: Lalbazar CP: অ্যাকশনে নতুন সিপি: রাতের কলকাতায় সতর্ক লালবাজার
নজর এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ের দিকে
এই রায়ের ফলে রাজ্য প্রশাসনের উপর যে বিপুল আর্থিক চাপ তৈরি হল, তা নিয়ে ওয়াকিবহাল মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ১০০ শতাংশ বকেয়া ডিএ মেটানোর কড়া নির্দেশ কার্যকর করা রাজ্যের পক্ষে কতটা সম্ভব, সেই প্রশ্ন উঠছে বারবার। একদিকে আইনি বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে রাজ্যের আর্থিক সীমাবদ্ধতা এই দুইয়ের মাঝে ভারসাম্য রেখে রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মী থেকে শুরু করে প্রশাসনিক মহল এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।



