Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাত ক্রমশ আরও ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। যুদ্ধের আবহে আবারও প্রাণ হারালেন এক ভারতীয় নাবিক (Iran)। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গিয়েছে, পারস্য উপসাগরে মার্কিন মালিকানাধীন দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলার পিছনে রয়েছে Iran এমনটাই দাবি করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র। এই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে এক ভারতীয় জাহাজকর্মীর, যিনি ‘সেফসি বিষ্ণু’ নামের ট্যাঙ্কারে কর্মরত ছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো পশ্চিম এশিয়া জুড়ে। ইতিমধ্যেই যুদ্ধের ১৩তম দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বাসরা উপকূলের কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ (Iran)
হামলার ঘটনাটি ঘটেছে Al Faw Port–এর কাছাকাছি সমুদ্র এলাকায়, যা অবস্থিত Basra উপকূলের কাছে Iraq–এ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, হঠাৎই একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুনে জ্বলতে শুরু করে দুটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ। জ্বলন্ত ট্যাঙ্কার থেকে কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন এতটাই ভয়াবহ ছিল যে দূর থেকে দেখা যায় সমুদ্রের উপর আগুনের প্রতিফলন। আগুনের তাপে জাহাজের ভেতরে থাকা তেল ছড়িয়ে পড়ে সমুদ্রেও। এই বিপর্যয়ের মাঝেও উদ্ধারকারী দল দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, জ্বলন্ত জাহাজ থেকে মোট ৩৮ জন জাহাজকর্মীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
কোন দুটি ট্যাঙ্কার আক্রান্ত হয়েছিল (Iran)
এই হামলায় যে দুটি ট্যাঙ্কার আক্রান্ত হয়েছে, সেগুলি হল, ‘Zephyros’, ‘Sefacy Vishnu’, ‘সেফসি বিষ্ণু’ ট্যাঙ্কারটি আমেরিকার একটি কোম্পানির মালিকানাধীন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ‘জেফাইরোস’ পরিচালনা করে একটি গ্রিক শিপিং কোম্পানি।মেরিটাইম তথ্য অনুযায়ী, ‘সেফসি বিষ্ণু’ ট্যাঙ্কারটি ২০০৭ সালে তৈরি। এটি মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ। জাহাজটির বৈশিষ্ট্যঃ দৈর্ঘ্য: ২২৮.৬ মিটার, প্রস্থ: ৩২.৫৭ মিটার, মালিকানা: মার্কিন সংস্থা SafeSeas Transport Incorporated এই বিশাল জাহাজটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সমুদ্রপথে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হত।

হামলার পদ্ধতি নিয়ে জল্পনা (Iran)
হামলাটি ঠিক কীভাবে করা হয়েছে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবি
এই হামলায় আন্ডারওয়াটার ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে, যা জাহাজের নীচে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটায়। অন্য একটি সূত্রের মতে, বিস্ফোরক বোঝাই ছোট নৌকা ব্যবহার করা হয়েছিল। এই নৌকাগুলি সরাসরি ট্যাঙ্কারের গায়ে ধাক্কা মেরে বিস্ফোরণ ঘটায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণের পরে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো জাহাজে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই কালো ধোঁয়ার বিশাল স্তম্ভ আকাশ ঢেকে ফেলে।
বিপুল পরিমাণ তেল ছিল জাহাজে (Iran)
জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা TankerTrackers.com–এর তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত দুটি ট্যাঙ্কারে মোট প্রায় ৪ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। এই বিপুল পরিমাণ তেল সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়লে পরিবেশগত বিপর্যয়ও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সমুদ্রের জলের উপর ভাসমান তেলের স্তর সামুদ্রিক প্রাণী এবং সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
শিকার হয়েছিল বাণিজ্যিক জাহাজ (Iran)
এই হামলা কিন্তু প্রথম নয়। এর আগেও একই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে আক্রমণ করা হয়েছে। ১ এবং ২ মার্চ ওমান উপকূলে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। আক্রান্ত জাহাজ দুটি ছিল, MV MKD Vyom, MV Skylight, এই হামলায় মোট তিনজন ভারতীয় নাবিক নিহত হন। ‘স্কাইলাইট’ জাহাজে দুইজন, ‘MKD Vyom’ জাহাজে একজন এছাড়াও ওই ঘটনায় ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হন এবং একজন গুরুতর জখম অবস্থায় এখনও লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন।

আরও পড়ুন: CM Mamata Banerjee: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ফোনেই নতুন রাজ্যপালের নাম! কেন বিস্মিত মুখ্যমন্ত্রী?
সমুদ্রপথে নতুন আতঙ্ক
পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই সমুদ্রপথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। এই অঞ্চলে বারবার হামলার ঘটনা ঘটতে থাকলে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে, সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও বিপদের মুখে পড়তে পারে বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত যদি আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তার প্রভাব শুধু ওই অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও তার বড় প্রভাব পড়তে পারে।



