Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: লখনউতে রিঙ্কু-নারিন জুটির ম্যাজিকে নাটকীয় জয় কেকেআর-এর (Rinku Singh)।
প্লে-অফের দৌড়ে টিকে রইল নাইট বাহিনী (Rinku Singh)
টানটান নাটকের মঞ্চে দৃশ্য নির্মাণ হচ্ছে আর দর্শকরা ভাবছেন এই বুঝি ক্লাইম্যাক্স এল ঠিক সেই সময় দূরে বসে ডিরেক্টর মুচকি হাসছেন আর লিখছেন অ্যান্টি ক্যালিম্যাক্স। শেষ হয়েও যেন হইল না শেষ। ম্যাচ যায় সুপার ওভারে আর সেখানে বাজিমাত করলেন নারিন (Rinku Singh)।
লখনউ সুপার জায়ান্টসের ঘরের মাঠ যেন থ্রিলার মঞ্চ। সেখানেই লেখা হল এই মরশুমের প্রথম নাটকীয় মুহূর্ত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনার পারদ বেড়েছে ক্রমাগত। খেলা যত এগোতে থাকে তত রঙ্গমঞ্চ হয়ে ওঠে রোমাঞ্চকর আর সেখানে সুপার ওভারে লেখা হয় খেলার ফলাফল।
প্রতিশোধ যত পুরনো হয় ততই যেন মধুর হয়, আর সেটাই হয়েছে কেকেআর বনাম LSG-এর ম্যাচে। চলতি মরশুমের প্রথমবার যখন মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল সেই ম্যাচও গিয়েছিল শেষ ওভার পরযন্ত কিন্তু সেই ম্যাচে জয় ছিনিয়ে আনেন মুকুল চৌধুরী। আর ২৬ এপ্রিলের ম্যাচে জয় পেল নাইট বাহিনী সৌজন্যে নারিন এবং রিঙ্কু।

উত্তেজনার চাপা টেনশনে এই যুদ্ধ তখন নার্ভের আর যে শেষ পর্যন্ত নিজের নার্ভের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবে সেই ম্যাচে শেষ হাসি হাসবে। সেই নিয়ন্ত্রণ রেখে নারিন এবং নাইট বাহিনী হাসল শেষ হাসি। এ যেন নারিনের ঋণ শোধ, দীর্ঘদিন দল তাঁর উপর যে ভরসা দল দেখিয়েছে তিনি এই দিন সেটারই মান রাখলেন (Rinku Singh)।

সুপার ওভার জুড়ে নারিন দাপট। সেখানেই ম্যাচের রং বদলে দেন সুনীল নারিন। লখনউয়ের দুই তারকা ব্যাটসম্যান নিকোলাস পুরান এবং এইডেন মার্করামকে অনায়াসে ঘায়েল করেন নারিন। চাপের মুখে তখন সম্পূর্ণ ভাঙে পড়েছে লখনউ। মাত্র ১ রান তাঁরা তোলে সুপার ওভারে। যা লজ্জার নজির। কলকাতার হয়ে ব্যাট করতে নেমে রিঙ্কু একটি চার হাঁকিয়ে ম্যাচ জিতে নেয়। আর এই জয়ের হাত ধরে KKR পয়েন্ট টেব্লের আটে উঠে এল। তাদের ৮ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট। আর লখনৌ ৮ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে নেমে গেল দশে।

২৬ এপ্রিল ম্যাচে অন্যতম খারাপ ক্রিকেটের প্রদর্শন করল লখনউ। নিজেদের ঘরের মাঠে বারবার তাঁরা ব্যর্থ। একানায় চারটি ম্যাচ খেলে চারটিতেই হেরেছে তারা, এই পরাজয় তাঁদের ধারাবাহিকতার অভাব। তবে এই দিনের ম্যাচে দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান ঋষভ পন্থ করলেও ম্যাচ হারের দায় তাঁর উপরও বর্তায়। প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে তাঁর শট খেলার প্রবণতাই কাল হয়ে দাঁড়ায় দলের। বারবার তাঁর যে দায়িত্বজ্ঞানহীন স্বভাব নিয়ে সমালোচনা হয়েছে আর এবার সেটা আরও বাড়ল। সবার একটাই প্রশ্ন যে কবে দায়িত্ব নিয়ে ম্যাচ এগিয়ে নিয়ে যাবেন পন্থ?
এই ম্যাচেও ব্যর্থ হয় নাইট ব্যাটাররা। এই বিপর্যয়ের দিন একমাত্র উজ্জ্বল রিঙ্কু সিং। ৩১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কলকাতার সামনে সমূহ বিপদ যখন সেই সময় দলের ত্রাণ কর্তা হয়ে মঞ্চে অবতীর্ণ হন রিঙ্কু। ৬ নম্বরে নেমে যে ইনিংস তিনি খেললেন সেটা ছিল মহাকাব্যিক (Rinku Singh)।
‘দেওয়ালে পিঠ থেকে গেলে ঘুরে দাঁড়াতে হয়’ এই বহুল জনপ্রিয় গানের লাইনই যেন মনে পড়ে যায় রিঙ্কুর ইনিংস দেখার সময়। ব্যাট হাতে তিনি ৫১ বলে ৮৩ করে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৭টি চার এবং ৫টি ছক্কা। তাঁর এই দিনের ইনিংস ছিল আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। প্রতিটা নিখুঁত শট ছিল অব্যর্থ। তাঁর কল্যাণে ১৫৫ রান তোলে কলকাতা। রিঙ্কুই নাইট বাহিনীকে লড়াই করার রশদ জোগাড় করে দেন। বল হাতে মহসিন খান জ্বলে উঠলেন LSG-র হয়ে। চার ওভারে ২৩ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে তিনি একাই ভেঙে দেন KKR-এর ব্যাটিং।
১৫৫ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় লখনউ। বৈভব অরোরা দ্বিতীয় ওভারেই ফেরান মিচেল মার্শকে। বড় শট খেলতে গিয়ে বল আকাশে তুলে দেন বল, আর ব্যাকওয়ার্ড পজিশন থেকে দৌড়ে এসে দুরন্ত ক্যাচ নেন রোভনম্যান পাওয়েল। মাত্র ২ রানেই ফিরে যান মার্শ, শুরুতেই চাপে পড়ে যায় দল (Rinku Singh)।
এরপর ইনিংসের হাল ধরার চেষ্টা করেন অধিনায়ক ঋষভ পন্থ এবং মার্করাম। কিন্তু তাঁদের রান তোলার গতি এত ধীর ছিল যে তাঁরা হেলা থেকে ছিটকে যেতে থাকে। দুই জন মাইল ৫৭ রানের জুটি গড়লেও কাজে আসে না সেটা। এই জুটি ভাঙার কাজটা করেন ক্যামেরন গ্রিন। তাঁর বলে মার্করামেরে ক্যাচ যায় রিঙ্কুর হাতে আর সেখানে নিজের দুরন্ত ফিলিডিং প্রতিভার পরিচয় দেন রিঙ্কু। এরপর নারিনের স্পেলে ফেরেন পন্থ। ৪২ রানে তিনি ফেরার পর আর কেউ হাল ধরতে পারেননি। নিকোলাস পুরান সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
আরও পড়ুন: Today weather: দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া
বৈভব অরোরা প্রথম তিন ওভারে দেন মাত্র ১৩ রান। সুনীল নারিন ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন। বরুণ চক্রবর্তী (২ উইকেট), ক্যামেরন গ্রিন (১ উইকেট), অনুকূল রায় (১ উইকেট) ও অন্যরাও নিয়মিত লাইন-লেন্থে বল করে LSG-এর ব্যাটারদের চাপে রাখেন (Rinku Singh)।
বল হাতে যেমন দাপট দেখিয়েছেন কলকাতার ব্যাটাররা তেমন ফিল্ডিংয়েও ছিল দুরন্ত। রিঙ্কু একই পাঁচটা ক্যাচ নিয়ে এই ম্যাচের নায়ক। শেষ বলে সামি চোকা হাঁকিয়ে ম্যাচ ড্র করলেও সুপার ওভারে মুখ থুবড়ে পড়ে LSG। নারিন এক রান দিয়ে তুলে নেন দুই উইকেট। নাইট বাহিনী পরপর দুই ম্যাচ জিতে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও ব্যাটিং বিপর্যয় বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে (Rinku Singh)।


