Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ৪ মে থেকে বঙ্গে পদ্মের আধিপত্য বেড়েছে। রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন প্রবল উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে (Dilip Ghosh)। একদিকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধি, অন্যদিকে প্রশাসনিক কড়াকড়ি, দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতারি, স্কুলে বন্দেমাতরম বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত এবং বুলডোজার রাজনীতি সব মিলিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে বাংলায়। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক।

যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি (Dilip Ghosh)
পেট্রোল ও ডিজেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। পেট্রোলের দাম লিটারে ৩ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৩ টাকা ১১ পয়সা বৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে সকাল ছটা থেকেই। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে ভারত সম্পূর্ণ আলাদা থাকতে পারে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব পড়ছে জ্বালানি বাজারে। সরকার দীর্ঘদিন দাম না বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তেল সংস্থাগুলি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ায় শেষ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্র। তিনি আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী আগেই দেশের মানুষকে সতর্ক করেছিলেন যে ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে। সেই কারণেই “work from home”, গাড়ির সীমিত ব্যবহার এবং জ্বালানি সঞ্চয়ের মতো বিষয় সামনে আনা হয়েছিল। তাঁর কথায়, “আগে কষ্ট করলে পরে কষ্ট কম হবে।”
“সরকার যতটা সম্ভব টেনেছে” (Dilip Ghosh)
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে কেন এখনই দাম বাড়ানো হল, এই প্রশ্ন উঠতেই দিলীপ ঘোষের জবাব ছিল স্পষ্ট, সরকার অনেক দিন ধরে চাপ সামলেছে। Oil কোম্পানিগুলি হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিল। তাঁর মতে, অর্থনৈতিক বাস্তবতা মেনে চলা ছাড়া সরকারের আর উপায় ছিল না। এই মূল্যবৃদ্ধি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রয়োজনের ফল।

স্কুলে বন্দেমাতরম বাধ্যতামূলক (Dilip Ghosh)
রাজ্যের সমস্ত স্কুলে প্রার্থনা সঙ্গীতে বন্দেমাতরম গাওয়া বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েও সরগরম রাজনীতি। বিরোধীদের একাংশ এটিকে সাংস্কৃতিক চাপিয়ে দেওয়া বলে অভিযোগ তুললেও দিলীপ ঘোষ সম্পূর্ণ উল্টো সুরে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “স্কুল থেকেই শিশুদের দেশভক্তি শেখানো উচিত।” তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাক্ষেত্রে “কুশিক্ষা” ও “সংস্কার বিরোধী” ভাবধারা প্রবেশ করেছিল, এখন সেই পরিস্থিতি বদলানো দরকার। দিলীপ ঘোষ বন্দেমাতরমকে শুধু গান নয়, স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেরণার মন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, হাজার হাজার বিপ্লবী এই গান মুখে নিয়ে প্রাণ দিয়েছেন।
শান্তনু সিনহা বিশ্বাস গ্রেফতার (Dilip Ghosh)
ইডির হাতে শান্তনু সিনহা বিশ্বাস গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর চরমে উঠেছে। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ প্রশাসনিক আধিকারিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। তিনি দাবি করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নেতাদের দুর্নীতিগ্রস্ত করেছেন।” তাঁর অভিযোগ, গত পনেরো বছরে চোর-ডাকাতদের নেতা বানানো হয়েছে এবং এখন আইনের চাকা ঘুরতে শুরু করেছে। এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
“টেস্ট ম্যাচ” কবে শুরু হবে? (Dilip Ghosh)
নতুন সরকারের কাজের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই দিলীপ ঘোষ জানান, খুব দ্রুত মন্ত্রিসভা গঠন হবে এবং প্রতিটি বিভাগে কাজ ভাগ করে দেওয়া হবে। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার বহু কেন্দ্রীয় প্রকল্প ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রেখেছিল। তিনি বলেন, বিভিন্ন দফতরে কেন্দ্রের পাঠানো বহু সার্কুলার ও প্রকল্প বছরের পর বছর ফাইলবন্দি হয়ে ছিল। এখন সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, নতুন প্রশাসন নিজেদের “কাজের সরকার” হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

“মোদী নেতাদের কোটিপতি করতে পারেননি” (Dilip Ghosh)
সাক্ষাৎকারের অন্যতম আলোচিত অংশ ছিল দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য। নিজের সাধারণ জীবনযাত্রার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “মোদীজি তাঁর নেতাদের কোটিপতি করতে পারেননি। তিনি সাধারণ মানুষকে উন্নতির সুযোগ দিয়েছেন।” পরোক্ষে তৃণমূল নেতাদের বিপুল সম্পত্তির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এটাই বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে মূল পার্থক্য। এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
বুলডোজার রাজনীতি ও প্রশাসনিক কড়াকড়ি
কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে বুলডোজার অভিযান শুরু হয়েছে। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ জানান, এটি তাঁদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ। তাঁর দাবি, বহু বছর ধরে বেআইনি দখল, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষতি হয়েছে। এবার আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা হবে। তিনি বলেন, “এমএলএ হোক বা নেতা— কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”
আদালতের দ্বারস্থ নওশাদ, কী বললেন দিলীপ?
তিলজলার অগ্নিকাণ্ডের পর বুলডোজার দিয়ে বিল্ডিং ভাঙার বিরুদ্ধে আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকী আদালতে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। এ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “কোর্ট তো খোলাই আছে।” তাঁর বক্তব্য, যদি কোথাও আইনের বাইরে কাজ হয় তবে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া গণতান্ত্রিক অধিকার। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, সরকার বা পুলিশ আইন হাতে নেবে না।
বিজেপি নেতার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা? (Dilip Ghosh)
বিজেপি নেতা প্রশান্ত দেবনাথের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতারির প্রসঙ্গ উঠতেই দিলীপ ঘোষ জানান, কেউ অপরাধ করলে আইন তার বিচার করবেই। তিনি স্বীকার করেন, গত কয়েক বছরে বিভিন্ন দল থেকে বহু মানুষ বিজেপিতে যোগ দিয়েছে এবং তাঁদের “পুরনো অভ্যাস” বা “পুরনো পাপ” থাকতেই পারে। সেই ক্ষেত্রেও আইনি পদক্ষেপ হওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি।
সিভিক পুলিশের লাঠিচার্জ বিতর্ক (Dilip Ghosh)
একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, থানার বাইরে এক সিভিক পুলিশ লাঠিচার্জ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষ জানান, তিনি ঘটনার সত্যতা জানেন না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সিভিক পুলিশকে কে লাঠিচার্জ করার অধিকার দিয়েছে?” একইসঙ্গে তিনি বলেন, যেহেতু স্বরাষ্ট্র দফতর মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে, তাই বিষয়টি সরকারকেই দেখতে হবে।

আরও পড়ুন:Mamata Banerjee: ২৬টি কবিতায় কি ২৬-এর ভোটের অঙ্ক কষলেন মমতা
রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট
দেশ থেকে ছাটাই হচ্ছে একের পর এক দুর্নীতি উড়োনো কাজ ও মানুষ, যাদের একাধারে দোষীও বলা চলে। সমস্ত বক্তব্য মিলিয়ে একটি বিষয় পরিষ্কার, বিজেপি এখন প্রশাসনিক কড়াকড়ি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান এবং জাতীয়তাবাদের প্রশ্নকে সামনে রেখে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে। অন্যদিকে বিরোধীরা এই অবস্থানকে প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি বলে কটাক্ষ করছে।



