Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আপাতত তিলজলার ‘অবৈধ’ বহুতল বুলডোজার (Illegal Construction Tiljala) দিয়ে ভাঙ্গার উপর স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে যে অংশটি ভাঙ্গা হয়েছে, সেই অংশের অবস্থা যদি বিপজ্জনক হয়, তাহলে তা বাড়ির মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে ভাঙতে পারবে পুরসভা। তবে আইন মেনে সব পদক্ষেপ করতে হবে পুলিশ-প্রশাসন ও কলকাতা পুরসভাকে। অগ্নিকাণ্ডের পর তিলজলার ‘অবৈধ’ বহুতল ভাঙ্গা নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় শুক্রবার এমনই নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী।
বহুতলের কোনও স্যাংশন প্ল্যান নেই (Illegal Construction Tiljala)
বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর পর্যবেক্ষণ (Illegal Construction Tiljala), তিলজলার ওই বহুতলের কোনও স্যাংশন প্ল্যান নেই। কোনও প্ল্যান দেখাতে পারেননি বাড়ির মালিক। ওই বাড়িতে ঠিক কীসের কারখানা বা ব্যবসা ছিল, সেই সংক্রান্ত কোনও নথিও দেখাতে পারেননি বাড়ির মালিক। তাই ওই বহুতলে কোনরকম কারখানা বা ব্যবসা চালানো যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। গোটা ঘটনায় রীতিমতো আশঙ্কা প্রকাশ করে বিচারপতি বলেন, ‘যেভাবে মাশরুমের মতো অবৈধ নির্মাণ চতুর্দিকে গড়ে উঠেছে, এটা একদিন ভয়ংকর বিপর্যয় ডেকে আনবে।’ তবে এখনই ওই বহুতলের বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের কোনও ব্যবস্থা করা হচ্ছে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে আদালত। এই সংক্রান্ত নির্দেশ আগে থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের তরফে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হয়নি। আগের সরকারের সময়ে এক ধরনের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ কাজ করেছিল বলে এদিন পর্যবেক্ষণে জানান বিচারপতি।
শুক্রবার মামলার শুনানি (Illegal Construction Tiljala)
যদিও শুক্রবার এই মামলার শুনানিতে বাড়ির (Illegal Construction Tiljala) মালিক দাবি করেন, পুরসভার আইন মেনে বাড়ি ভাঙ্গা হয়নি। ওই বহুতলে একটি ট্যানারি ছিল বলে যে দাবী করা হচ্ছিল, তা ভিত্তিহীন বলেও উড়িয়ে দিয়েছে বাড়ির মালিকপক্ষ। তাদের দাবি ওই বাড়িতে কোনও ট্যানারি ছিল না। আদালতে বাড়ির মালিক পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেন, বাড়িটি ভাঙ্গার পর পুলিশ তাঁকে থানায় ডেকে নাকি জোর করে লিখিয়ে নিয়েছে যে, বাড়ি ভাঙ্গার নোটিশ আগেই দেওয়া হয়েছিল। কোন সরকারি দফতর বাড়িটি ভাঙছে, তাও তাদের জানানো হয়নি। এরপরই ওই বহুতলের মালিক বিচারপতির কাছে আর্জি করেন, যেন বাড়িটি আর ভাঙ্গা না হয় এবং বাড়ির জল ও বিদ্যুতের সংযোগ যেন ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
মালিকের দাবি নস্যাৎ
যদিও তিলজলার ওই বহুতলের মালিকের দাবি নস্যাৎ করে দিয়ে আদালতে রাজ্যের তরফে বলা হয়, ওই বহুতলে কারখানা চালানোর জন্য কোনও নিয়ম মানা হয়নি। ফায়ার লাইসেন্স এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কোনও ছাড়পত্র ছিলনা। বাড়ির মালিকপক্ষকে আগেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা তা গ্রহণ করেনি। তাই বাড়ির দেওয়ালে নোটিশ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল পুরসভার পক্ষ থেকে।
আরও পড়ুন: Petrol Pump: প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বাঁচাবার আর্জি, রবিবার বন্ধ পেট্রোল পাম্প?
সম্পর্কে বক্তব্য শুনে বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী আপাতত তিলজলার ওই বহুতল বুলডোজার দিয়ে ভাঙ্গার ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেন। প্রশাসন ও পুরসভাকে আইন মেনে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন। তবে বাড়ির যে অংশটি ভাঙ্গা হয়েছে, তার বর্তমান অবস্থা যদি বিপজ্জনক হয়, তাহলে তা বাড়ির মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে পুরসভা ভাঙতে পারবে বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি ২২ জুন।


