Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলে রবিবার দুপুরটা যেন আচমকাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মগরাহাট পশ্চিমের প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন সংখ্যালঘু উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী গিয়াস উদ্দিন মোল্লা ডায়মন্ড হারবার এসপি অফিসে পৌঁছে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন (Abhishek Banerjee)। তাঁর অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ডায়মন্ড হারবার জেলার প্রাক্তন অ্যাডিশনাল এসপি মিতুন কুমার দে এবং ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি। দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিত গিয়াস মোল্লার এই প্রকাশ্য বিস্ফোরণ শুধু দলীয় অন্দরে নয়, গোটা রাজ্য রাজনীতিতেই নতুন জল্পনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

“পুলিশ অফিস থেকেই ঠিক হত টিকিট” (Abhishek Banerjee)
সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে গিয়াস উদ্দিন মোল্লা দাবি করেন (Abhishek Banerjee), তৎকালীন অ্যাডিশনাল এসপি মিতুন কুমার দে প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে সরাসরি রাজনৈতিক প্রভাব খাটাতেন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, পঞ্চায়েত প্রধান থেকে জেলা পরিষদ বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনে কারা দলীয় টিকিট পাবেন, সেই সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নাকি নেওয়া হত পুলিশ আধিকারিকের অফিস থেকে। এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, প্রশাসনিক পদে থাকা কোনও আধিকারিক যদি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ করেন, তবে তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গিয়াস মোল্লার আরও অভিযোগ, কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ওই পুলিশ আধিকারিক এবং দীর্ঘদিন ধরেই ডায়মন্ড হারবার এলাকায় একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।
থানার ভিতরে নির্যাতনের অভিযোগ (Abhishek Banerjee)
শুধু রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নয়, এক তৃণমূল কর্মীর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও সামনে আনেন প্রাক্তন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, থানার ভিতরেই ওই কর্মীকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছিল। গিয়াস মোল্লার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি তখন মন্ত্রী পদে থাকাকালীন এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলেন। কিন্তু তার কোনও ফল মেলেনি। বরং তাঁকেই অপমান ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি, তাঁকে নাকি লাঠি নিয়ে মারতে তেড়ে এসেছিলেন মিতুন কুমার দে। একজন মন্ত্রীর মুখে এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।

“সবটাই জানতেন অভিষেক” (Abhishek Banerjee)
গিয়াস উদ্দিন মোল্লার অভিযোগের সবচেয়ে বিস্ফোরক অংশ হল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি-কে সরাসরি কাঠগড়ায় তোলা। তাঁর দাবি, বিষয়টি তিনি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং অভিষেক ব্যানার্জি দু’জনকেই জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গিয়াস মোল্লার কথায়, “সবটাই জানতেন অভিষেক ব্যানার্জি। তাঁর নির্দেশেই এসব কাজ করেছেন মিতুন কুমার দে।” এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ, অভিষেক ব্যানার্জি বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান মুখ এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
পদোন্নতি ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রশ্ন (Abhishek Banerjee)
প্রাক্তন মন্ত্রীর অভিযোগ অনুযায়ী, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এসডিপিও থেকে অ্যাডিশনাল এসপি পদে উন্নীত হন মিতুন কুমার দে এবং দীর্ঘদিন ডায়মন্ড হারবার এলাকায় থেকেই প্রভাব বিস্তার করেন। গিয়াস মোল্লার দাবি, রাতারাতি এসডিপিও অফিসের জায়গা বদলে সেটিকে অ্যাডিশনাল এসপির অফিসে রূপান্তরিত করা হয়েছিল। এই ঘটনাকেও তিনি প্রশাসনিক প্রভাব ও রাজনৈতিক মদতের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই অভিযোগগুলি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং দলীয় ক্ষমতার কাঠামো ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: Howrah Station: হাওড়া স্টেশন চত্বরে উচ্ছেদ অভিযান, রাতভর চলল বুলডোজার

“ভয়ে এতদিন মুখ খুলিনি”
দীর্ঘদিনের তৃণমূল নেতা গিয়াস মোল্লা দাবি করেছেন, এতদিন তিনি আতঙ্কের মধ্যেই ছিলেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, দলের কর্মীরা তাঁর উপর হামলা চালাতে পারে কিংবা প্রাণনাশের ঘটনাও ঘটতে পারে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর পরই তিনি সাহস করে মুখ খুলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-র সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ার পর তিনি নিজেকে নিরাপদ মনে করছেন। এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে তৃণমূলের অন্দরে কি তবে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমে ছিল?



