Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গতকাল দিনের শুরু থেকেই বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন প্রান্তে অসহনীয় গরমে নাজেহাল হয়ে পড়েছিলেন সাধারণ মানুষ (West Bengal)। জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় কার্যত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়। দুপুর গড়াতেই রাস্তাঘাট ফাঁকা হতে শুরু করে। প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যে মানুষ যখন কিছুটা স্বস্তির আশায় আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল, ঠিক তখনই বিকেলের পর হঠাৎ করেই বদলে যায় আবহাওয়ার চিত্র। সন্ধ্যা নামার আগেই কালো মেঘে ঢেকে যায় গোটা আকাশ। শুরু হয় প্রবল দমকা হাওয়া। মুহূর্তের মধ্যে সেই ঝোড়ো হাওয়া রূপ নেয় ভয়ংকর কালবৈশাখীতে। কয়েক মিনিটের তাণ্ডবেই বাঁকুড়া জেলার পাত্রসায়ের ব্লকের নারায়ণপুর, বারাসাত, রামপুর সহ একাধিক এলাকা কার্যত লন্ডভন্ড হয়ে যায়।

কয়েক মিনিটের ঝড়েই তছনছ গ্রামাঞ্চল (West Bengal)
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রবল ঝড়ের দাপটে একের পর এক বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে। কোথাও রাস্তার উপর গাছ ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়, আবার কোথাও বাড়ির উপর বিশাল গাছ চাপা পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি হয়। বহু কাঁচা ও টিনের ঘর আংশিক কিংবা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে যায়। গ্রামের মানুষজন জানিয়েছেন, ঝড়ের গতি এতটাই বেশি ছিল যে অনেকেই ঘর থেকে বের হওয়ার সুযোগ পর্যন্ত পাননি। আচমকা বিকট শব্দে বাড়ির চাল উড়ে যায়, জানলার কাচ ভেঙে পড়ে এবং বিদ্যুতের খুঁটি কেঁপে ওঠে। বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবাও বিঘ্নিত হয়।
অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন বহু পরিবার (West Bengal)
সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয়, একাধিক বাড়ির উপর বিশাল গাছ ভেঙে পড়লেও অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান পরিবারের সদস্যরা। অনেকেই তখন ঘরের ভিতরে ছিলেন। আচমকা গাছ ভেঙে পড়তেই চিৎকার শুরু হয়ে যায় এলাকাজুড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে এসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে উদ্ধার করতে সাহায্য করেন। কেউ হারিয়েছেন ঘরের চাল, কারও রান্নাঘর সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে, আবার অনেক পরিবারের প্রয়োজনীয় নিত্যদিনের জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে ঝড় ও বৃষ্টির জেরে। রাতের অন্ধকার নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্ক আরও বাড়তে থাকে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছলেন বিজেপি বিধায়ক (West Bengal)
ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে পৌঁছে যান সোনামুখী বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক দিবাকর ঘরামী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় মন্ডল সভাপতি অনুপ ঘোষ এবং অন্যান্য বিজেপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং মানসিকভাবে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। যেসব পরিবারের ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁদের হাতে আপাতকালীন আর্থিক সাহায্যও তুলে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।
“ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব”
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপি বিধায়ক দিবাকর ঘরামী জানান, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু মানুষ অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়েছেন। তাঁদের দ্রুত সরকারি ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হবে। তিনি বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে আমরা সব রকমভাবে আছি। যাঁদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁদের যাতে দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ মেলে, তার জন্য আমরা সর্বতোভাবে চেষ্টা করব।”
আরও পড়ুন: Abhishek Banerjee: “সব জানতেন অভিষেক!” দাবি গিয়াস মোল্লার
আতঙ্ক কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা
ঝড় থেমে গেলেও ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন এখনও স্পষ্ট এলাকাজুড়ে। রাস্তার পাশে পড়ে রয়েছে উপড়ে যাওয়া গাছ, অনেক বাড়ির টিনের চাল উড়ে গিয়েছে, বিদ্যুৎ পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বহু জায়গায়। স্থানীয় মানুষজন নিজেদের উদ্যোগেই গাছ সরানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামতির কাজে হাত লাগিয়েছেন।



