Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাঁকুড়ার জয়পুর পঞ্চায়েত সমিতিকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অন্দরেই প্রকাশ্যে এল চরম দ্বন্দ্ব ও উত্তেজনার ছবি (Bankura)। অনৈতিক কাজে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করায় এক মহিলা কর্মাধ্যক্ষ ও তাঁর স্বামীর উপর হামলার অভিযোগ উঠল একই পঞ্চায়েত সমিতির অপর এক কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা তথা আইএনটিটিইউসি-র জয়পুর ব্লক সভাপতিকে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পঞ্চায়েত সমিতির দফতর থেকেই শুরু বিতর্কের সূত্রপাত (Bankura)
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই জয়পুর পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড কাজ করছে। সেই পঞ্চায়েত সমিতির মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ দফতরের কর্মাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন রমা গাঙ্গুলী। অভিযোগ, কয়েকদিন আগে তিনি নিজের দফতরে কাজ করছিলেন। সেই সময় আচমকাই সেখানে হাজির হন পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ তথা আইএনটিটিইউসি-র জয়পুর ব্লক সভাপতি প্রশান্ত বসাক। অভিযোগ, দফতরে ঢুকেই রমা গাঙ্গুলীর উপর বিভিন্ন “অনৈতিক কাজ” করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেন প্রশান্ত বসাক। যদিও ঠিক কী ধরনের কাজ করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল, তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি কাজের ক্ষেত্রে নিয়ম বহির্ভূত কিছু সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্যই চাপ দেওয়া হচ্ছিল।
আপত্তি তুলতেই হুমকি! (Bankura)
রমা গাঙ্গুলী ওই কাজে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। তখনই তাঁকে “দেখে নেওয়ার” হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি। বিষয়টি নিয়ে দফতরের মধ্যেই উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, শুধু মৌখিক হুমকিতেই থেমে থাকেননি অভিযুক্ত নেতা। ঘটনার পর রমা গাঙ্গুলী যখন তাঁর স্বামী সুব্রত গাঙ্গুলীর সঙ্গে বাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন তাঁদের উপর হামলার ছক কষা হয়।

রাস্তার মধ্যেই হামলার অভিযোগ (Bankura)
অভিযোগ অনুযায়ী, হেতিয়া থেকে লোকপুর যাওয়ার রাস্তার মধ্যে ৬ থেকে ৭ জন দুষ্কৃতীকে সঙ্গে নিয়ে পথ আটকে দাঁড়ান প্রশান্ত বসাক। এরপর রমা গাঙ্গুলী ও তাঁর স্বামীকে লক্ষ্য করে চড়-থাপ্পড় মারার পাশাপাশি শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, হামলার সময় মহিলা কর্মাধ্যক্ষকে প্রাণে মারারও চেষ্টা করা হয়। ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন রমা গাঙ্গুলী ও তাঁর পরিবার। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়েই ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
থানায় অভিযোগ দায়ের, গ্রেফতার তৃণমূল শ্রমিক নেতা (Bankura)
ঘটনার পর রমা গাঙ্গুলীর স্বামী সুব্রত গাঙ্গুলী জয়পুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। এরপরই জয়পুর পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ এবং আইএনটিটিইউসি-র জয়পুর ব্লক সভাপতি প্রশান্ত বসাককে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতকে বৃহস্পতিবার বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রশান্ত বসাক। তাঁর দাবি, কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেটাই তিনি জানেন না।
আরও পড়ুন: Smart Border: স্মার্ট বর্ডার প্রকল্পে জোর শাহের, ‘প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করতে হবে’

শাসকদলের অন্দরে দ্বন্দ্ব নিয়ে জোর চর্চা
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। একই পঞ্চায়েত সমিতির দুই কর্মাধ্যক্ষের মধ্যে এমন সংঘর্ষ এবং তার জেরে হামলার অভিযোগ সামনে আসায় অস্বস্তিতে শাসকদল। বিরোধীদের দাবি, পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতি ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। অন্যদিকে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে প্রকাশ্যে বড় কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পঞ্চায়েত ব্যবস্থার ভিতরে ক্ষমতার লড়াই ও প্রভাব বিস্তারের রাজনীতি থেকেই এই ধরনের ঘটনা সামনে আসছে।



