Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের স্বপ্ন ভেঙে গেলেও দেশে ফিরে বীরের সম্মান পেলেন তারকা রেফারি ওমর আব্দুলকাদির আরতান (Omar Abdulkadir Artan)।
দেশে ফিরে বীরের সম্মান (Omar Abdulkadir Artan)
ফুটবলে বারবার সামনে এসেছে তারকা প্লেয়ারদের নাম। আবার অনেক সময় সেই দলের কোচদের নামও সামনে এসেছে তবে ফুটবলে নাম করেছেন বেশ কয়েকজন রেফারিও। তাদের মধ্যে শ্রেষ্ট রেফারি হিসেবে উঠে আসে যাঁর নাম পিয়েরলুইজি কোলিনা। ১৯৯৮ থেকে ২০০৩—টানা ছয় বছর আইএফএফএইচএসের বর্ষসেরা রেফারি হয়েছিলেন কলিনা। ২০০২ সালে ব্রাজিল–জার্মানি ফাইনাল, ১৯৯৯ সালে বায়ার্ন মিউনিখ–ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফাইনাল পরিচালনা করা এই ইতালিয়ান কারও কারও চোখে ‘রেফারিদের রেফারি’। এনার পাশাপাশি আরেক রেফারি এবার চর্চায় আর তিনি হলেন সোমালিয়ার রেফারি ওমর আব্দুলকাদির আরতান (Omar Abdulkadir Artan)।
এমন অনেক সময় আসে যখন মানুষ তাঁর স্বপ্নের খুব কাছাকাছি চলে আসে কিন্তু সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। পরিশ্রমের কোনও বিকল্প নেই আমরা জানলেও এমন অনেক সময় আসে যখন চারপাশের কোনও কারণে সেই স্বপ্ন সফল হয় না। হয়ত সেক্ষত্রে নিজেদের কোনও হাতও থাকে না। এমনই হয়েছে সোমালিয়ার এই তারকা রেফারির সঙ্গে। মার্কিন বাধার মুখে পড়ে বিশ্বকাপ পরিচালনার স্বপ্ন ভেঙেছে ওমর আব্দুলকাদিরের (Omar Abdulkadir Artan)।
বুধবার সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে পৌঁছালে তাঁকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে ভিড় জমিয়েছিলেন শত-শত সমর্থক এবং ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। সেখানে এনাদের পাশাপাশি ছিলেন সরকারি প্রতিনিধিরা। স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে দেশে ফিরে তিনি পেলেন নায়কের সম্মান। একদিকে যখন মার্কিন অভিবাসন নীতির সমালোচনা চলছে চারদিকে তখন সোমালিয়ার বিমান বন্দরে ছিল উচ্ছ্বাসের বাতাবরণ। ব্যানার হাতে সমর্থকরা ওমরের নামে স্লোগান দিতে থাকেন। এক মুহূর্তে হতাশা পড়ন্ত হয় গর্বের উদযাপনে। তাঁকে দেওয়া হয় সংবর্ধনা (Omar Abdulkadir Artan)।

সেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরতান বলেন, ‘আমি আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে পরবর্তী বিশ্বকাপে অবশ্যই উপস্থিত থাকব। সোমালিয়ার জনগণ যেন এতে হতাশ না হন এবং আত্মবিশ্বাস ধরে রাখেন।’ আফ্রিকার অন্যতম সেরা রেফারি তিনি। ২০২৫ সালে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবলের বর্ষসেরা রেফারির সম্মান পান। এরপরই ২০২৬ বিশ্বকাপে রেফারি হিসেবে তাঁর নির্বাচন ছিল ঐতিহাসিক। ফুটবলের এই সর্বোচ্চ যজ্ঞে সামিল হতে পারা যেকোন কারোর কাছে গর্বের এবং সম্মানের।
তবে গত সপ্তাহান্তে ইস্তানবুল থেকে মায়ামিতে পৌঁছানোর পর মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন কর্মকর্তারা তাঁকে বাধা দেন। বৈধ ভিসা ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও প্রায় ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। পরে তুরস্কগামী একটি বিমানে ফেরত পাঠানো হয় ওমরকে।
আরও পড়ুন: Land Rights: পালাবদলের পর দখল হওয়া জমি ফিরে পেলেন প্রকৃত মালিকেরা
এরপরেই আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে শোরগোল পড়ে গেছে। সোমালিয়া সরকার ফিফার সঙ্গে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আলোচনা চালালেও সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে পারেনি। দেশের প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আরতানের আন্তর্জাতিক সাফল্য সোমালি জনগণের জন্য গর্ব ও সম্মানের বিষয়।’ তবে সোমালিয়ার সাধারণ মানুষের কাছে ওমরের অর্জন এই ঘটনার বেদনাকে ছাড়িয়ে গেছে এবং তাঁরা এই তারকা রেফারিকে সাদরে বরণ করে নিয়েছেন এবং দিয়েছেন বীরের সম্মান (Omar Abdulkadir Artan)।


