Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে ফের রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহ তৈরি হল (Hingalganj)। একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক দেবেশ মণ্ডলের গ্রেফতারের দাবিতে তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করলেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

শ্রীধরকাটিতে বিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচি (Hingalganj)
রবিবার হিঙ্গলগঞ্জের গোবিন্দকাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত শ্রীধরকাটি এলাকায় অবস্থিত প্রাক্তন বিধায়ক দেবেশ মণ্ডলের বাড়ির সামনে জড়ো হন বিজেপির কর্মী ও সমর্থকেরা। সেখানে তাঁরা স্লোগান তুলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে দেবেশ মণ্ডলের বিরুদ্ধে। অথচ এখনও পর্যন্ত কোনও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তাই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-এর মাধ্যমে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে দাবি তোলেন তাঁরা।
‘গ্রেফতার না হলে বৃহত্তর আন্দোলন’ (Hingalganj)
বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, শুধুমাত্র প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ না থেকে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে পারে দল। তাঁদের বক্তব্য, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে তারা বদ্ধপরিকর এবং প্রশাসন যদি দ্রুত পদক্ষেপ না করে, তাহলে আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়ানো হবে। বিজেপি কর্মীদের দাবি, সাধারণ মানুষের স্বার্থে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সেই কারণেই তাঁরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন বলে জানান।
অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন দেবেশ মণ্ডল (Hingalganj)
অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন প্রাক্তন বিধায়ক দেবেশ মণ্ডল। তিনি বলেন, বিজেপির কয়েকজন নেতা ও কর্মী তাঁর বাড়ির সামনে এসে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু এতদিন পরে হঠাৎ কেন এই কর্মসূচি নেওয়া হল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। দেবেশ মণ্ডলের বক্তব্য, তিনি কোনও ধরনের বেআইনি কাজ বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং রাজনৈতিক স্বার্থে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, জনগণের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক জীবনের স্বচ্ছতাকেই কলঙ্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতা (Hingalganj)
বিক্ষোভের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় হিঙ্গলগঞ্জ থানা এবং হেমনগর কোস্টাল থানার পুলিশ। পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদেরও। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যাতে না ঘটে, সেদিকে কড়া নজর রাখেন নিরাপত্তারক্ষীরা। পুলিশের উপস্থিতিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়। যদিও রাজনৈতিক তরজার জেরে এলাকায় উত্তেজনার পারদ কিছুটা চড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আরও পড়ুন: Beguner Malaikari: ভিন্ন স্বাদের বেগুন রেসিপি, জামাইষষ্ঠী স্পেশাল বেগুনের মালাইকারি!
রাজনৈতিক লড়াইয়ে নতুন মাত্রা
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সংঘাত ও পারস্পরিক অভিযোগের মাত্রা আরও বাড়তে পারে। হিঙ্গলগঞ্জের এই ঘটনাও সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক লড়াইয়েরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।



