Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কেটিভি বাংলা ডিজিটাল: ‘ভাইকিং রো’ তে মলিন সাম্বা! হাল্যান্ডের জোড়া গোলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ব্রাজিলের। ২-১ গোলে জিতে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে। কেরিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে গোল করেও ‘ট্র্যাজিক হিরো’ নেইমার (Neymar)।

‘ভাইকিং রো’ তে মলিন সাম্বা! (Neymar)
হাল্যান্ডের জোড়া গোলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ব্রাজিলের। কথাতেই আছে, ‘মর্নিং শোজ দ্যা ডে’। ১২ মিনিটে ব্রুনো গুইমারেজ পেনাল্টি মিস করতেই বোঝা গিয়েছিল, ব্রাজিলের কপালে দুঃখ আছে। আর সেটাই হল। ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপ খেলতে এসে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ গোলে ব্রাজিলকে হারিয়ে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল নরওয়ে। সেই সঙ্গে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে অপরাজেয় থাকার রেকর্ডও অক্ষুন্ন রাখল তারা। শেষ পাঁচ বিশ্বকাপে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের কাছে হারার রেকর্ডও এদিন বদলাতে পারলেন না নেইমার, ভিনিসিয়াসরা। শেষ বাঁশি বাজতেই নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়াম হলুদ রঙকে ফিকে করে হয়ে উঠল লালে-লাল। কান্নায় ভেঙে পড়া ব্রাজিল সমর্থকরা তখনও এই ফল বিশ্বাস করতে পারছেন না। এবারও হল না। ২৪ বছরের কাপ জয়ের অপেক্ষা আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে দিল নরওয়ে (Neymar)।
এদিন ম্যাচে ব্রাজিল সব কিছুই করল। একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করল, পেনাল্টি আদায় করল। কিন্তু আসল কাজটাই করতে পারল না। দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিলেন নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হাল্যান্ড ও গোলরক্ষক নেইল্যান্ড। ৮০ ও ৯০ মিনিটে গোল করে মার্কিন মুলকে ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিলেন হাল্যান্ড। সেইসঙ্গে ৭ গোল করে চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে মেসি ও এমবাপেকে ধরে ফেললেন। শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমালেও ‘ট্র্যাজিক হিরো’ হয়েই বিশ্বকাপকে বিদায় জানালেন নেইমার।
৪ মিনিটে গোল (Neymar)
এদিন ম্যাচের প্রথমার্ধের শুরুটা হয়েছিল ঝড়ের মতো। ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্সের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ৪ মিনিটে গোল করে দেয় নরওয়ে। কিন্তু অফসাইডের কারণে মার্টিন ওডেগার্ডের গোলটি বাতিল হয়ে যায়। এর পরই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল ব্রাজিলও। ১২ মিনিটে নরওয়ের বক্সে বিপজ্জনক ভাবে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন কুনহা। তাঁকে ফাউল করে নরওয়ের ডিফেন্ডার আজের। ভারের সাহায্য নিয়ে পেনাল্টি দেন রেফারি। কিন্তু সুবর্ণ সুযোগ হেলায় হারান ব্রুনো গুইমারেজ। তাঁর শট বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে দুরন্ত সেভ করে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক নেইল্যান্ড। কেন যে শেষ মুহূর্তে ভিনিসিয়াস পেনাল্টি শটটা নিজে না নিয়ে গুইমারেজকে মারতে দিলেন! আর তারই খেসারত দিতে হল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপে এই প্রথম পেনাল্টি মিস করল ব্রাজিল। ছন্নছাড়া ফুটবল, একাধিক সুযোগ নষ্ট, জঘন্য রক্ষণের খেসারত দিতে হল কার্লো আন্সেলোত্তির দলকে।

গোটা ম্যাচে বল পজেশন নিজেদের দখলেই রেখেছিল নরওয়ে। মাঝমাঠেই নরওয়ের আক্রমণ ভাঙার চেষ্টা না করে, তাদের ভিতরে ঢুকতে দিল ব্রাজিলের মাঝমাঠ ও ডিফেন্স। ৪০ মিনিটেও গোলের সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু আবারও নরওয়ের ত্রাতা হয়ে ওঠেন গোলরক্ষক নেইল্যান্ড। ভিনিসিয়াসের শট অনবদ্য সেভ করেন তিনি। প্রথমার্ধের খেলা গোলশূন্য ভাবেই শেষ হয়।
গত জাপান ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও মনে হয়েছিল দ্বিতীয়ার্ধে অন্য ব্রাজিলকে দেখা যাবে। ৫৮ মিনিটে কুনহার জায়গায় এন্ড্রিককে নামিয়ে চমক দিয়েছিলেন আন্সেলোত্তি। আর নেমেই ভিনিসিয়াসের কোটি টাকার ডিফেন্স চেড়া অনবদ্য পাশ থেকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন ব্রাজিলের তরুণ তুর্কি। নরওয়ের গোলরক্ষক নেইল্যান্ডকে একা পেয়েও তাঁকে পরাস্ত করতে পারলেন না। ৬২ মিনিটে রায়ানের শট আবারও আটকে নিশ্চিত দুর্গ পতন সামলে দেন সেই নেইল্যান্ড। অপরদিকে, এর মাঝে বারকেয়ক আক্রান্ত করে নরওয়ে। যতবারই তারা পাল্টা আক্রমণে উঠেছে ব্রাজিলের ডিফেন্স নড়ে গিয়েছিল।
আরও পড়ুন: Diabetes Cure Temple: মন্দিরে গেলেই সারবে সুগার! কোথায় জানেন?
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ৬৭ মিনিটে নেইমারকে নামান আন্সেলোত্তি। কিন্তু, নেমেই বিশ্রী ফাউল করে দেখলেন হলুদ কার্ড। যে কাজটা নেইমারের কথা ছিল, সেটাই করলেন হাল্যান্ড। এতক্ষণ পর্যন্ত তাঁকে খুব একটা নড়াচড়ার জায়গা দেয়নি ব্রাজিল ডিফেন্স, বিশেষ করে গ্যাব্রিয়েল সর্বক্ষণ তাঁকে কড়া পাহারায় রেখেছিলেন। কিন্তু শেষ কোয়ার্টারে ‘ওস্তাদের মার’ দিলেন। ৮০ মিনিটে একটি ক্রস থেকে হেডে গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দিলেন। গোল খেয়ে পরিশোধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। তখনই আবারও হাল্যান্ডের ‘ল্যান্ডফল’। ৯০ মিনিটে ব্রাজিলের বক্সের বাইরে ফাঁকায় বল পেয়ে জোড়ালো গড়ানে শটে জালে জড়িয়ে দেন। ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারের কিছুই করার ছিল না। দু’টো গোলের পর সেইভাবে সেলিব্রেশন বা উচ্ছ্বাস করতে দেখা গেল না হাল্যান্ডকে। এই শীতল ওউদ্ধত্তেই ব্রাজিলের পতন নিশ্চিত করলেন।
আরও পড়ুন: Jagannath Dev Puja: কোন ফুলে সন্তুষ্ট জগন্নাথ দেব?
দলকে জেতানোর একাধিক দৃষ্টান্ত (Neymar)
ব্রাজিলের বিদায় তখন নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু, তখনও ইনজুরি টাইমের ৭ মিনিট খেলা বাকি ছিল। আর এইরকম পরিস্থিতি থেকে দলকে জেতানোর একাধিক দৃষ্টান্ত রয়েছে কোচ আন্সেলোত্তির। তাই তখনও আশায় বুক বেঁধে ছিলেন ব্রাজিল সমর্থকরা। কিন্তু এই ব্রাজিল দলে পুরনো ব্রাজিলীয় ফুটবলের ডিএনএ যে নেই। দিশা হারিয়ে মাথা গরম করে প্রতিপক্ষ ফুটবলারদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়াল।তবুও ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (৯০+১০ মিনিট), ভেসে আসা লম্বা ক্রসে বক্সের মধ্যে হেড করতে উঠলে ক্যাসেমিরোকে ফাউল করেন নরওয়ের ডিফেন্ডার। পেনাল্টি দিতে ভুল করেননি রেফারি। এবার নিজেই শট নিতে যান নেইমার। তাঁকে মানসিকভাবে চাপে ফেলতে নরওয়ের গোলরক্ষক নেইল্যান্ড অনর্গল ‘মন্তব্য’ করলেন। কিন্তু তাঁকে কার্যত দাঁড় করিয়ে বল জালে ঠেলে ব্যবধান কমান ব্রাজিলীয় কিংবদন্তি। কিন্তু তাতে ম্যাচের ভাগ্য বদলায়নি। ব্রাজিলের কাছে স্বান্তনা পুরষ্কার বলা চলে। তবে, কেরিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে নিজের নামের পাশে দেশের জার্সিতে একটা গোল তো বসাতে পারলেন নেইমার! একদম খালি হাতে তাঁকে ফেরানোর মতো নিষ্ঠুর হতে পারেননি ফুটবল দেবতা।



