Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলা চলচ্চিত্রে পৌরাণিক বিষয়ভিত্তিক সিনেমা বরাবরই দর্শকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র (Papia Adhikari)। সেই ধারাকেই নতুন আঙ্গিকে ফিরিয়ে আনতে চলেছে কৃষ্টি ক্রিয়েশনের প্রযোজনায় নির্মিত চলচ্চিত্র ‘নবদুর্গা মাতৃরূপেন সংস্থিতা’। সত্যব্রতের পরিচালনা, চিত্রনাট্য ও সংলাপে তৈরি এই ছবির বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৪ জুলাই, শুক্রবার, দুপুর ২টায় নন্দন–৩-এ।

এই ছবির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে অভিনেত্রী তথা বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। দীর্ঘদিন পর তিনি আবারও বড়পর্দায় ফিরছেন, তবে এবার একেবারেই ভিন্ন এক রূপে। দেবী দুর্গার মহামায়া এবং নবদুর্গার আধ্যাত্মিক শক্তির প্রতীক হিসেবে তাঁকে দেখা যাবে এক বিশেষ পৌরাণিক চরিত্রে, যা ইতিমধ্যেই দর্শক মহলে কৌতূহল তৈরি করেছে।
আধ্যাত্মিক আবহে সমৃদ্ধ সঙ্গীত আয়োজন (Papia Adhikari)
এই ছবির আরেকটি বড় শক্তি এর সঙ্গীত। কুন্দন সাহা ও শ্বেতা গুপ্তর সুরারোপে তৈরি হয়েছে ছবির গান, যেখানে কণ্ঠ দিয়েছেন ভজন সম্রাট অনুপ জলোটা, পণ্ডিত তুষার দত্ত, রিয়া এবং নীলিমা। শুধু গান নয়, স্তোত্র পাঠের মধ্যেও আধ্যাত্মিক আবহকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। শুভ দাশগুপ্ত, অর্পণ কুমার শর্মা, নিবেদিতা সেন এবং বিল্লদল চট্টোপাধ্যায় তাঁদের কণ্ঠে সেই পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন। ফলে ছবিটি কেবল একটি পৌরাণিক চলচ্চিত্র নয়, বরং সঙ্গীত, ভক্তি এবং সংস্কৃতির এক সমন্বিত উপস্থাপনা হতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজনীতি ও অভিনয়ের যুগলবন্দি (Papia Adhikari)
ভারতীয় রাজনীতিতে বহু অভিনেতা-অভিনেত্রী সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি অভিনয়ে এমন প্রত্যাবর্তনের ঘটনা খুব বেশি দেখা যায় না। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভের পর টলিগঞ্জের প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন পাপিয়া অধিকারী। প্রশাসনিক ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি অভিনয়ে ফিরে এসেছেন এমন একটি চরিত্র নিয়ে, যা কেবল শিল্পসত্তাকেই নয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও তুলে ধরবে। অনেকের মতে, এই প্রত্যাবর্তন তাঁর অভিনয় জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।

টলিপাড়ার পরিবর্তনের বার্তা (Papia Adhikari)
পাপিয়া অধিকারীর সাম্প্রতিক ভূমিকা শুধু একজন অভিনেত্রী হিসেবেই নয়, বরং টলিপাড়ার প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও আলোচনায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে টলিউডে কাজের পরিবেশ নিয়ে নানা বিতর্ক সামনে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে প্রযোজক, পরিচালক এবং কলাকুশলীদের একাংশ অভিযোগ করেছেন যে, শিল্পের স্বাধীন পরিবেশ নানা কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন পাপিয়া অধিকারী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও উন্মুক্ত, স্বচ্ছ ও কর্মবান্ধব করে তোলাই এখন অন্যতম লক্ষ্য।
পরিচালকদের পুরনো সংগঠনে ফেরার আহ্বান (Papia Adhikari)
চলচ্চিত্র জগতের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংগঠনকে ঘিরে মতবিরোধের কথাও শোনা গেছে। এই প্রেক্ষাপটে ডিরেক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া-এর সঙ্গে যুক্ত একাধিক প্রবীণ ও নবীন পরিচালকদের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পাপিয়া অধিকারী। তাঁর মতে, সুস্থ চলচ্চিত্র পরিবেশ গড়ে তুলতে সব পক্ষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। অভিজ্ঞ ও নতুন পরিচালকদের সমন্বয়েই বাংলা চলচ্চিত্র শিল্প আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।
২৪ জুলাইয়ের বিশেষ প্রদর্শনী ঘিরে প্রত্যাশা (Papia Adhikari)
নন্দন–৩-এ আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীকে ঘিরে ইতিমধ্যেই চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। একদিকে দেবী দুর্গার পৌরাণিক উপস্থাপনা, অন্যদিকে একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর দীর্ঘ বিরতির পর বড়পর্দায় প্রত্যাবর্তন—এই দুইয়ের সমন্বয়ে ছবিটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সাংস্কৃতিক মহলের একাংশের মতে, এই চলচ্চিত্র বাংলা পৌরাণিক সিনেমার ধারাকে নতুন করে আলোচনায় আনতে পারে।
আরও পড়ুন: July21 Mamata: রাতভর ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে পাহারায় ছিল মমতা-অভিষেক!
বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য নতুন সম্ভাবনা
বর্তমান সময়ে বাংলা সিনেমায় পৌরাণিক কাহিনিভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র তুলনামূলকভাবে কম নির্মিত হয়। সেই জায়গায় ‘নবদুর্গা মাতৃরূপেন সংস্থিতা’ নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। দর্শক যদি ছবিটিকে গ্রহণ করেন, তবে ভবিষ্যতে বাংলা চলচ্চিত্রে পুরাণ, ইতিহাস এবং আধ্যাত্মিক বিষয়কে কেন্দ্র করে আরও বড় বাজেটের সিনেমা নির্মাণের পথ সুগম হতে পারে।



