Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেশজুড়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে ঘিরে তৈরি হওয়া অসন্তোষের আবহে এবার তার প্রভাব পড়ল কলকাতাতেও (Aliah University)। জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে বৃহস্পতিবার পার্ক সার্কাস চত্বরে বিক্ষোভ ও মিছিলের আয়োজন করেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি সংহতি জানাতে তাঁরা পার্ক সার্কাস মোড়ে জড়ো হয়ে বিভিন্ন দাবিতে সরব হন। প্রতিবাদে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড এবং প্রতিবাদী পোস্টার। গোটা এলাকাজুড়ে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ।
পুলিশি নিরাপত্তায় ঘেরা পার্ক সার্কাস চত্বর (Aliah University)
বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেই কারণে ঘটনাস্থলে আগে থেকেই মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ গোটা কর্মসূচির উপর কড়া নজর রাখে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। যদিও বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়, তবুও প্রশাসন কোনও ঝুঁকি নিতে চায়নি।
স্যানিটারি ন্যাপকিন হাতে ছাত্রীর অভিনব প্রতিবাদ
এই বিক্ষোভ কর্মসূচির সবচেয়ে আলোচিত এবং নজরকাড়া মুহূর্ত ছিল এক ছাত্রীর অভিনব প্রতিবাদ। তাঁকে হাতে একটি স্যানিটারি ন্যাপকিন নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়। এই প্রতীকী প্রতিবাদের মাধ্যমে তিনি শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি ক্ষোভ, বঞ্চনা এবং প্রশাসনের ভূমিকার বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। সামাজিক মাধ্যমে এই দৃশ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই এই প্রতিবাদকে সৃজনশীল ও প্রতীকী বলে মনে করেন, আবার কেউ কেউ এর সমালোচনাও করেন। তবে নিঃসন্দেহে এটি গোটা বিক্ষোভের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে।

জাতীয় পতাকা হাতে সংহতির বার্তা (Aliah University)
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া বহু শিক্ষার্থীর হাতে ছিল ভারতের জাতীয় পতাকা। তাঁদের বক্তব্য, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা রক্ষা করা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখা একটি জাতীয় দায়িত্ব। সেই কারণেই জাতীয় পতাকাকে সামনে রেখে তাঁরা নিজেদের দাবি তুলে ধরেছেন। বিক্ষোভকারীরা বলেন, শিক্ষার পরিবেশ যদি দুর্নীতি, অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনায় বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎও সংকটের মুখে পড়বে।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব আন্দোলনকারীরা
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তাঁদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক ও ভর্তি পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সামনে এসেছে। এর ফলে লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, এই পরিস্থিতির নৈতিক দায় শিক্ষামন্ত্রীর এড়ানোর সুযোগ নেই। তাই অবিলম্বে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান (Aliah University)
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি এবং পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়মের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেন। তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র তদন্ত করলেই হবে না, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে তার জন্য কঠোর আইন এবং স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের মতে, একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শুধু পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপই বাড়ছে না, তাঁদের বহু বছরের পরিশ্রমও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

দিল্লির আন্দোলনের সঙ্গে সংহতির বার্তা (Aliah University)
কলকাতার এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো। বিক্ষোভকারীরা জানান, দেশের যে কোনও প্রান্তে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি ও অধিকারের আন্দোলন হলে তার প্রতি সমর্থন জানানো প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর দায়িত্ব। তাঁদের মতে, শিক্ষা কোনও নির্দিষ্ট রাজ্যের বিষয় নয়; এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। তাই দিল্লির আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে কলকাতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন : Taratala Compensation: মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
আন্দোলনের প্রধান দাবিগুলি
দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ। স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় কার্যকর নীতি গ্রহণ। বর্তমান শিক্ষাগত সংকটের নৈতিক দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।



