Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে এনডিএ (ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স)-র ক্রমবর্ধমান বিস্তার এবং নতুন রাজনৈতিক দল বা জনপ্রতিনিধিদের যোগদানকে কেন্দ্র করে আবারও জোরালো রাজনৈতিক বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। এনডিএ-র সাম্প্রতিক বৈঠকে তিনজন সাংসদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র নেতৃত্বের উপর মানুষের আস্থা দিন দিন আরও বাড়ছে। তাঁর বক্তব্যে যেমন এনডিএ-র সম্প্রসারণের বার্তা উঠে এসেছে, তেমনই তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক অবস্থান নিয়েও কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি (Shamik Bhattacharya)।
উন্নয়নের রাজনীতির কারণেই এনডিএ-তে যোগদানের আগ্রহ
এনডিএ বৈঠকে তিনজন সাংসদের উপস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে দেশের সাধারণ মানুষ সকলেই উপলব্ধি করছেন যে বর্তমান সময়ে ভারতের উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং বিশ্বমঞ্চে দেশের মর্যাদা আরও সুদৃঢ় করতে সক্ষম একমাত্র নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং জনপ্রতিনিধি মনে করছেন, এই উন্নয়নের ধারার অংশীদার হওয়া প্রয়োজন। সেই কারণেই তাঁরা এনডিএ-র সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। বিজেপি এবং এনডিএ নেতৃত্বও তাঁদের স্বাগত জানাচ্ছে বলে জানান তিনি।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ (Shamik Bhattacharya)
এই বৈঠকে উপস্থিত তিন সাংসদ অতীতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছিলেন, এই প্রসঙ্গ উঠতেই শমীক ভট্টাচার্য তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির দিকে আঙুল তোলেন। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যপদ্ধতি, নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ, অনাস্থা এবং ক্রমবর্ধমান বিতৃষ্ণাই বহু জনপ্রতিনিধিকে দল থেকে দূরে সরে যাওয়ার পথে ঠেলে দিয়েছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকটের প্রতিফলন। শমীকের কথায়, কোনও জনপ্রতিনিধি যদি একটি রাজনৈতিক দল ছেড়ে অন্য জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তার পিছনে সংশ্লিষ্ট দলের সাংগঠনিক পরিবেশ ও নেতৃত্বের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এনডিএ আরও শক্তিশালী হবে (Shamik Bhattacharya)
শমীক ভট্টাচার্যের মতে, নতুন শরিকদের যোগদান শুধুমাত্র সংখ্যাগত দিক থেকেই নয়, রাজনৈতিকভাবেও এনডিএ-কে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি বলেন, যারা বর্তমানে এনডিএ-র অংশ হচ্ছেন, তাঁরা আগামী দিনে জোটের রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং উন্নয়নের কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট যে বিজেপি এই যোগদানকে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে এবং এটিকে এনডিএ-র বিস্তারের ধারাবাহিকতা বলেই ব্যাখ্যা করছে (Shamik Bhattacharya)।
আরও পড়ুন: Bus Accident: বিজেপির কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে ভয়াবহ বাস-লরি সংঘর্ষ
রাজনৈতিক তাৎপর্য
এনডিএ-র বৈঠকে নতুন মুখদের উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে অতীতে অন্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করা সাংসদদের এনডিএ-র মঞ্চে দেখা যাওয়াকে অনেকেই আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে বিজেপি এই ঘটনাকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক সমর্থন বৃদ্ধির দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা বৃদ্ধির প্রতিফলন হিসেবেও তুলে ধরতে চাইছে।



