Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জনপ্রতিনিধিদের জীবন কি শুধুই রাজনীতি, প্রশাসন আর জনসংযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ (Sayani Ghosh)? নাকি তাঁদেরও রয়েছে ব্যক্তিগত অনুভূতি, অবসর কাটানোর অধিকার এবং নিজের মতো করে কিছু মুহূর্ত উপভোগ করার স্বাধীনতা? এই প্রশ্ন নতুন নয়। তবে সেই বিতর্কই আবার সামনে এসেছে যাদবপুরের সাংসদ-অভিনেত্রী সায়নী ঘোষের একটি ২০ সেকেন্ডের রিলকে ঘিরে।

সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে সংসদ ভবনের বাইরে বৃষ্টিভেজা পরিবেশে দাঁড়িয়ে একটি রোম্যান্টিক গানের সঙ্গে রিল তৈরি করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছেন তিনি। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা—কেউ বলছেন এটি একান্তই ব্যক্তিগত মুহূর্ত, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন, সংসদ চলাকালীন একজন সাংসদের এমন কর্মকাণ্ড কতটা শোভন?
বৃষ্টিভেজা সংসদ ভবনের সামনে রোম্যান্টিক রিল (Sayani Ghosh)
মঙ্গলবার সংসদের অধিবেশন চলাকালীন মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে সংসদ ভবনের বাইরে বৃষ্টির আবহ উপভোগ করতে দেখা যায় সায়নী ঘোষকে। সেই সময় তিনি হরিহরণের জনপ্রিয় রোম্যান্টিক গান ‘নহি সামনে তু’-র সুরে একটি প্রায় ২০ সেকেন্ডের ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেটি ফেসবুকে পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, “আমি বাদামী মেঘ চেয়েছিলাম যতদূর এবং কোথাও কোনও ছায়া ছিল না; এই ধরনের বৃষ্টিপাতের মৌসুম কখনোই আসেনি!” এর পাশাপাশি তিনি #MonsoonSession এবং #BarishBreakAtLunch-এর মতো হ্যাশট্যাগও ব্যবহার করেন, যা স্পষ্ট করে দেয় যে ভিডিওটি সংসদের অধিবেশনের বিরতির সময়ই তৈরি করা হয়েছিল (Sayani Ghosh)।
জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত সময়, বিতর্ক কোথায়?
একজন সাংসদ কি নিজের অবসর সময়ে ছবি তুলতে, ভিডিও বানাতে বা সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করতে পারবেন না? এই প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়। কারণ, একদিকে যেমন জনপ্রতিনিধিরাও সাধারণ মানুষের মতোই ব্যক্তিগত জীবনযাপনের অধিকার রাখেন, অন্যদিকে তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপ জনসমক্ষে আসে এবং জনমানসে তার আলাদা প্রভাব পড়ে। বিশেষত যখন সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন সেই সময়ের একটি রিল অনেকের চোখে দায়িত্ববোধের প্রশ্নও তুলে দেয়।
নেটমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া (Sayani Ghosh)
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই সায়নীর ভিডিওর নান্দনিকতা, বৃষ্টিভেজা পরিবেশ এবং তাঁর কবিতার প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে কয়েক মিনিটের ব্যক্তিগত সময় উপভোগ করায় আপত্তির কিছু নেই। তবে অন্য একটি অংশের মত একেবারেই ভিন্ন। তাঁদের প্রশ্ন, সংসদে পাঠানোর উদ্দেশ্য কি রিল তৈরি করা? গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন চলাকালীন এমন ভিডিও কি জনসাধারণের কাছে সঠিক বার্তা দেয়? একজন সাংসদের কাছ থেকে কি আরও বেশি রাজনৈতিক সক্রিয়তা প্রত্যাশিত নয়? এই প্রশ্নগুলিই এখন সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
নতুন রাজনৈতিক দলে নতুন পরিচয় (Sayani Ghosh)
পরবর্তী সময়ে সেই জল্পনায় কার্যত ইতি টেনে সায়নীকে আবার সক্রিয় রাজনীতিতেই দেখা যায়। দিল্লিতে অন্যান্য সাংসদদের সঙ্গে তিনিও নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিআই-তে যোগ দেন। নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর পোশাকেও কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। আগের তুলনায় এখন তাঁকে শাড়ির পাশাপাশি সালোয়ার-কামিজেও দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত উপস্থাপনাতেও বদলের ইঙ্গিত লক্ষ্য করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
আরও পড়ুন: Cockroach janata party: সোনম অনশন ভাঙলেন, তবুও মোদির কড়া বার্তার পরও প্রতিবাদে অনড় পড়ুয়ারা
প্রশংসা যেমন, তেমনই কটাক্ষও
ভিডিওটি প্রকাশের পর অনেকেই মন্তব্য করেছেন, একজন সাংসদেরও ব্যক্তিগত অনুভূতি থাকতে পারে এবং কয়েক মিনিটের অবসর কাটানো কোনও অপরাধ নয়। অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশের বক্তব্য, জনপ্রতিনিধিদের প্রতিটি আচরণই জনসাধারণের কাছে একটি বার্তা বহন করে। তাই সংসদের অধিবেশন চলাকালীন এমন ভিডিও তৈরি করা অনেকের কাছেই দায়িত্ববোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়নি। আবার কেউ কেউ রসিকতার সুরে মন্তব্য করেছেন, সম্প্রতি তরুণ প্রজন্মকে আরও বেশি রিল বানাতে উৎসাহিত করার প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই কেউ প্রশ্ন তুলেছেন—নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের প্রেক্ষাপটে সায়নীর এই রিল কি শুধুই ব্যক্তিগত মুহূর্ত, নাকি সময়ের সঙ্গে তাল মেলানোর একটি নতুন রাজনৈতিক উপস্থাপনা?



