Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শুধু ডিম, রাজমা কিংবা সাধারণ সবজি নয় এবার সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের পাতে উঠতে পারে চিকেন বিরিয়ানি (Thalapathy Vijay)। সপ্তাহে অন্তত একদিন মিড ডে মিলে বিরিয়ানি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে তামিলনাড়ু সরকার। আপাতত প্রস্তাবের স্তরে থাকলেও বাস্তবায়িত হলে দেশের মিড ডে মিল ব্যবস্থায় এটি নিঃসন্দেহে এক অভিনব উদ্যোগ হয়ে উঠতে পারে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থলপতি বিজয়ের সরকারের এই পরিকল্পনা ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা। কারণ, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেখানে মিড ডে মিলের খাবারের মান, মেনু এবং পুষ্টিগুণ নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে, সেখানে স্কুলপড়ুয়াদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম পথপ্রদর্শক তামিলনাড়ু।

মিড ডে মিলের ইতিহাসে তামিলনাড়ুর বিশেষ ভূমিকা
ভারতে স্কুলপড়ুয়াদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের সরকারি উদ্যোগের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে তামিলনাড়ুর নাম। পঞ্চাশের দশকেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কে. কামরাজের আমলে স্কুলে পড়ুয়াদের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল একদিকে যেমন স্কুলে পড়ুয়াদের উপস্থিতি বাড়ানো, অন্যদিকে তেমনই দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের পুষ্টির ঘাটতি কমানো। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকার নিজেদের মতো করে এই প্রকল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তামিলনাড়ুর মিড ডে মিল শুধুমাত্র ক্ষুধা মেটানোর কর্মসূচি না থেকে পড়ুয়াদের পুষ্টি নিশ্চিত করার একটি বড় সামাজিক প্রকল্পে পরিণত হয়েছে। দেশের মধ্যে স্কুলের মিড ডে মিলে ডিম দেওয়ার ক্ষেত্রেও তামিলনাড়ু অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল। পরে পড়ুয়াদের জন্য আলাদা করে প্রাতঃরাশের ব্যবস্থাও চালু করা হয়। অর্থাৎ স্কুলপড়ুয়াদের পুষ্টির বিষয়টি নিয়ে রাজ্যটি বরাবরই অন্যদের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে থেকেছে।
পুষ্টিকর খাবারের মেনুতে নতুন সংযোজন (Thalapathy Vijay)
এবার সেই ধারাতেই আরও এক ধাপ এগোতে চাইছে তামিলনাড়ু। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সপ্তাহে অন্তত একদিন সরকারি স্কুলগুলির মিড ডে মিলে চিকেন বিরিয়ানি দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। বিরিয়ানিকে শুধু মুখরোচক খাবার হিসেবে দেখছে না সরকার। পরিকল্পনার পিছনে রয়েছে পড়ুয়াদের পুষ্টির বিষয়টিও। চিকেনের মাধ্যমে প্রোটিন এবং ভাতের মাধ্যমে কার্বোহাইড্রেট—দুইয়ের সমন্বয়ে একটি তুলনামূলকভাবে পুষ্টিকর খাবার হিসেবেই এই মেনুকে দেখা হচ্ছে। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জানা যাচ্ছে, প্রস্তাবটি বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী থলপতি বিজয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর চূড়ান্ত সম্মতি মিললেই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের পথে এগোতে পারে।
‘কামরাজ শুরু করেছিলেন, এবার বিরিয়ানি’ (Thalapathy Vijay)
তামিলনাড়ুর শিক্ষামন্ত্রী রাজমোহনের বক্তব্যে এই পরিকল্পনার পিছনে সরকারের ভাবনাটিও স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর মতে, রাজ্যে একের পর এক সরকার পড়ুয়াদের পুষ্টির কথা মাথায় রেখে মিড ডে মিল ব্যবস্থায় নতুন কিছু সংযোজন করেছে। কামরাজের সরকার মিড ডে মিল চালু করেছিলেন। পরবর্তীকালে কলাইনার করুণানিধির আমলে খাবারের সঙ্গে ডিম যুক্ত হয়। এমজিআরের সময় প্রকল্পটি আরও বিস্তৃত হয়ে প্রকৃত পুষ্টিকেন্দ্রিক খাদ্য প্রকল্পের রূপ নেয়। এরপর জয়ললিতার সরকার সপ্তাহের প্রতিদিন ডিম দেওয়ার ব্যবস্থা করে। সেই ধারাবাহিকতার কথাই তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁরও ইচ্ছা রয়েছে সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য সপ্তাহে অন্তত একদিন বিরিয়ানি চালু করার। অর্থাৎ, সরকারের যুক্তি হল—সময়ের সঙ্গে পড়ুয়াদের পুষ্টির প্রয়োজন এবং খাদ্যাভ্যাসের কথা মাথায় রেখে মিড ডে মিলের মেনুতেও পরিবর্তন আসা প্রয়োজন।
শুধু দুপুরের খাবার নয়, ব্রেকফাস্ট প্রকল্পেও বড় বদল
মিড ডে মিলে বিরিয়ানি দেওয়ার পরিকল্পনার পাশাপাশি তামিলনাড়ু সরকার স্কুলের প্রাতঃরাশ প্রকল্প নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে।পূর্ববর্তী ডিএমকে সরকারের সময়ে স্কুলপড়ুয়াদের জন্য আলাদা করে ব্রেকফাস্ট প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। এই প্রকল্পে পড়ুয়া পিছু প্রতিদিন ১৫ টাকা করে বরাদ্দ ছিল। কিন্তু বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় একই ধরনের খাবার পরপর দিতে হত। ফলে খাবারের বৈচিত্র্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ত। এবার সেই সমস্যার সমাধানেও উদ্যোগী হয়েছে সরকার। প্রাতঃরাশ প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। বরাদ্দ বাড়লে প্রতিদিনের মেনুতে আরও বেশি বৈচিত্র্য আনা সম্ভব হবে বলে সরকারের আশা। অর্থাৎ, শুধু দুপুরের খাবারেই নয়, স্কুলে দিনের শুরু থেকেই পড়ুয়াদের পুষ্টির দিকে নজর দিতে চাইছে সরকার।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত? (Thalapathy Vijay)
মিড ডে মিলের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র স্কুলে পড়ুয়াদের খাবার দেওয়া নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্কুলে উপস্থিতি, পড়াশোনায় মনোযোগ, অপুষ্টি কমানো এবং দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের পুষ্টির অধিকার নিশ্চিত করার মতো একাধিক বিষয়। অনেক পরিবারের কাছে স্কুলের খাবারই দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎস। ফলে মেনুতে বৈচিত্র্য আনা এবং খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ বাড়ানো হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ুয়াদের উপর পড়তে পারে। চিকেন বিরিয়ানি চালু করার প্রস্তাব তাই শুধুমাত্র একটি নতুন খাবার যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নয়। এর মাধ্যমে স্কুলের খাবারকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার পাশাপাশি পড়ুয়াদের পুষ্টির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।
দেশজুড়ে নজর কাড়তে পারে তামিলনাড়ুর এই উদ্যোগ (Thalapathy Vijay)
মিড ডে মিলে বিরিয়ানি দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের অন্য রাজ্যগুলির কাছেও এটি একটি নতুন নজির তৈরি করতে পারে। কারণ, সরকারি স্কুলের মধ্যাহ্নভোজের মেনুতে সাধারণত ভাত, ডাল, সবজি, ডিম কিংবা স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য বিভিন্ন খাবারই বেশি দেখা যায়।সেই জায়গায় সপ্তাহে নির্দিষ্ট একটি দিনে চিকেন বিরিয়ানি দেওয়ার পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। বিশেষ করে তামিলনাড়ু যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের খাদ্য প্রকল্পে একের পর এক নতুন উদ্যোগ নিয়েছে, তাই এই সিদ্ধান্তও জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসতে পারে। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে খাবারের গুণমান, রান্না ও পরিবেশনের ব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং বিপুল সংখ্যক পড়ুয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর মতো বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুন: College Street: সরকারের পরিকল্পনায় বইপাড়া উন্নয়নের আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা হবে তো?
এখন নজর মুখ্যমন্ত্রীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে
সব মিলিয়ে, তামিলনাড়ুর সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য মিড ডে মিল ব্যবস্থায় আরও একটি বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সপ্তাহে একদিন চিকেন বিরিয়ানি এবং উন্নত মানের ব্রেকফাস্ট দুই পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত হলে স্কুলের খাদ্য প্রকল্পে নতুন মাত্রা যোগ হবে। তবে আপাতত বিরিয়ানি রয়েছে প্রস্তাবের স্তরেই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে মুখ্যমন্ত্রী থলপতি বিজয়কেই। তাঁর অনুমোদন মিললে হয়তো খুব শীঘ্রই তামিলনাড়ুর সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের পাতে দেখা যাবে বহু প্রতীক্ষিত সেই বিরিয়ানি।



