Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেশ সোনা জিতেছে (Para Athlete), দেশের পতাকা উড়েছে বিশ্বমঞ্চে—তাতে কার কী যায় আসে? আসল ব্যাপার তো হলো নেতার সাক্ষাৎ পাওয়া! সদ্য কমনওয়েলথ গেমসে ইতিহাস গড়া প্যারা অ্যাথলিট দিলীপ গাভিটকে নাকি খোদ রাজ ঠাকরে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। নেতার সঙ্গে দেখা করার কী সৌভাগ্য! কিন্তু সমস্যা হলো, নেতার সময় অমূল্য, আর সোনাজয়ী অ্যাথলিটের সময় তো ছাইয়ের সমান। তাই যথাসময়ে হাজির হয়েও দিলীপকে সাকুল্যে মোটে দু’ঘণ্টা বসেই কাটাতে হলো! ভাবুন কাণ্ড, দেশের জন্য পদক এনে যারা দেশকে গর্বিত করেছেন, তাঁদের কিনা এক নেতার দরজায় টুলের ওপর দীর্ঘক্ষণ প্যারেড করে কাটাতে হলো।
নেতার ব্যস্ততা বনাম পদকজয়ীর সময় (Para Athlete)
নাসিকের রাজপুত্রের রাজনৈতিক কর্মসূচি বলে কথা, তা সাধারণ মানুষের সোনা জেতার চেয়ে কি কম গুরুত্বপূর্ণ? যথাসময়ে কোচ বৈজনাথ কালেকে সঙ্গে নিয়ে দিলীপ যখন হাজির হন, তখন কে জানত যে এই ‘ডাক’-এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্তহীন অপেক্ষা। ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে, দু’ঘণ্টা পেরিয়ে গেল, কিন্তু নেতার দেখা নেই। শেষে অপমান গিলতে না পেরে কোচ ও অ্যাথলিট যখন ফুঁসে উঠে ফিরে আসতে চাইলেন, তখন এমএনএস-এর অতিউৎসাহী কর্মীরা নাকি আরও কিছুক্ষণ বসে থাকার অনুরোধ ছুড়ে দিলেন! বাহ রে! নেতার একটু কৃপাদৃষ্টি পাওয়ার জন্য কি তবে সোনাজয়ী অ্যাথলিটরা লাইন দেবেন?
মুখে কুলুপ আঁটা (Para Athlete)
এই চরম অসম্মানের পরেও কোচের কী দারুণ শিষ্টাচার (Para Athlete)! সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বৈজনাথ বাবু বেশ নরম সুরেই বলে দিলেন, ‘‘আমরা বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেছিলাম। স্যর নানা কাজে খুবই ব্যস্ত। আমরা পরে দেখা করে নেব।’’
আরও পড়ুন: Bhawanipur CFL: আর কবে? মোহনবাগানকে হারিয়ে প্রশ্ন রবি-সাহিলদের!
অন্যদিকে, খোদ ইতিহাসের পাতা ওল্টানো দিলীপ গাভিট তো রা কাড়েননি। চার বছর বয়সে গাছ থেকে পড়ে হাত হারানোর পর চিকিৎসকদের গাফিলতিতে কনুই থেকে হাত হারানোর লড়াইয়ের চেয়েও বোধহয় এই নেতার ঘরের বাইরে দু’ঘণ্টা অপেক্ষা করাটা অনেক বেশি যন্ত্রণাদায়ক ঠেকেছে তাঁর কাছে। কৃষক পরিবারের সন্তান দেশের প্রথম টি৪৭ বিভাগে ১০০ মিটার সোনাজয়ী, আবার একই ইভেন্টে মহম্মদ বাসিলের রুপো জেতার গল্প—এসব তো তুচ্ছ ব্যাপার, আসল সম্মান তো নেতার সাক্ষাৎ না পেয়ে ফিরে আসাতেই!



