Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর (East Bengal vs Al Arabi AFC) প্রাথমিক পর্বে বুধবার যুবভারতী স্টেডিয়ামে কুয়েতের শক্তিশালী ক্লাব আল আরাবি এসসি-র মুখোমুখি হচ্ছে ইস্টবেঙ্গল। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে লাল-হলুদ শিবিরকে নিয়ে শুরু হয়ে গেছে নানা জল্পনা। কুয়েতের এই দলের নতুন কোচ গোরান সাবলিচ দায়িত্ব নেওয়ার পরই নড়েচড়ে বসেছেন। আর ইস্টবেঙ্গল সম্পর্কে নিখুঁত ধারণা পেতে তিনি শরণাপন্ন হয়েছেন পরিচিত এক মুখের—ভারতের প্রাক্তন জাতীয় কোচ ইগর স্টিমাচের।
ইগর স্টিমাচের পরামর্শে তৈরি গোরান
দীর্ঘদিন ভারতের জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকার সুবাদে ভারতীয় ফুটবল এবং কলকাতার দুই প্রধান ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানকে হাতের তালুর মতো চেনেন ক্রোয়েশিয়ান কোচ ইগর স্টিমাচ। আর আল আরাবির বর্তমান কোচ গোরান সাবলিচের সঙ্গে তাঁর পুরনো সতীর্থ ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর ইস্টবেঙ্গল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে ইগরের সঙ্গেই পরামর্শ করেন গোরান।
ম্যাচের আগে গোরান জানিয়েছেন, “ইগর আমার ভাল বন্ধু। আমি আগে ওর সঙ্গে কথা বলেছি। ইস্টবেঙ্গল দল গত কয়েক বছরে অনেক উন্নতি করেছে। এখানকার লিগ বর্তমানে অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক, যা ভারতীয় ফুটবলের জন্য দারুণ ইতিবাচক।” তিনি আরও যোগ করেন যে ম্যাচটি সহজ হবে না, তবে তাঁরা নিজেদের ফিটনেস ও খেলার স্টাইলের ওপর ভরসা রেখেই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত।
পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে প্রস্তুতি (East Bengal vs Al Arabi AFC)
প্রতিপক্ষের থেকে প্রস্তুতির দিক কিছুটা এগিয়ে আল আরাবি। পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তারা কলকাতায় চলে এসেছে বেশ কিছুদিন আগেই। তুরস্কে এএফসি-র প্রস্তুতি সারার পাশাপাশি তারা পিরামিডস এফসির মতো দলের বিরুদ্ধে প্র্যাকটিস ম্যাচও খেলেছে। সেই ম্যাচে খেলেছিলেন বিশ্বকাপের মঞ্চে মিশরের হয়ে খেলা মোস্তফা জিকো (যাঁর গোলে পিছিয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা এবং একটি ন্যায্য গোলও বাতিল হয়েছিল)। যদিও সেই ম্যাচের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচের সরাসরি কোনও তুলনা টানতে নারাজ আল আরাবি কোচ।
মাঠে নামার অপেক্ষায় পুরনো বন্ধুরা (East Bengal vs Al Arabi AFC)
সৌহার্দ্যের এই তালিকায় শুধু ইগর-গোরানই নন, রয়েছেন রশিদ এবং জায়েদ কুনবারও। প্যালেস্তাইন জাতীয় দলের হয়ে একসঙ্গে খেলা এই দুই ফুটবলার এবার মাঠে নামবেন একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে। জার্সি আলাদা হলেও পুরোনো স্মৃতির রোমন্থন করে এই হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের জন্য সম্পূর্ণ উদগ্রীব তাঁরা।
বিদেশির সংখ্যা বনাম ঘরের মাঠের সুবিধা (East Bengal vs Al Arabi AFC)
কুয়েতের ক্লাবটি মোট ছয়জন বিদেশি নিয়ে কলকাতায় এসেছে—যাঁদের মধ্যে রয়েছেন দু’জন ব্রাজিলিয়ান, একজন নাইজেরিয়ান, একজন প্যালেস্তানীয়, একজন ইথিওপিয়ান এবং একজন সেনেগালের ফুটবলার। পাশাপাশি দলে রয়েছেন সাত-আটজন কুয়েতের জাতীয় দলের ফুটবলার। গোলকিপার সুলেমান আব্দুল গাফুর এক দশকের বেশি সময় ধরে এই ক্লাবেই খেলছেন। এমনকি কুয়েতের এই দলের সঙ্গে রয়েছে এক অদ্ভুত কলকাতা কানেকশনও—দলে রয়েছেন অতীতে কলকাতায় খেলে যাওয়া ফিকরু তেফেরার পাড়াতুতো ভাই।
আরও পড়ুন: East Bengal AFC: বন্ধু থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী! প্যালেস্টাইনের ভয়ংকর রাতের দুই যোদ্ধা এবার মুখোমুখি কলকাতায়
তুলনায় ইস্টবেঙ্গলের বিদেশি ফুটবলারের সংখ্যা কম হলেও, প্রতিপক্ষ কোচ ঘরের মাঠে লাল-হলুদের সমর্থকদের সমর্থন এবং কন্ডিশনকে বড় ‘অ্যাডভান্টেজ’ হিসেবে দেখছেন। ইস্টবেঙ্গলের স্ট্রাইকিং ফোর্সের ভূয়সী প্রশংসা করলেও নির্দিষ্ট কোনও প্লেয়ারকে আলাদা করে বাড়তি গুরুত্ব দিতে নারাজ তিনি।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নাকি নতুন ইতিহাস? (East Bengal vs Al Arabi AFC)
১৩ বছর আগে ২০১২-১৩ মরসুমে এএফসি কাপের (East Bengal vs Al Arabi AFC) সেমিফাইনালে কুয়েত এসসি-র কাছে দুই লেগ মিলিয়ে ৭-২ গোলে হেরেছিল ইস্টবেঙ্গল। দীর্ঘ বছর পর আবারও কুয়েতের কোনও ক্লাবের মুখোমুখি হচ্ছে লাল-হলুদ ব্রিগেড। অতীতের সেই হারের স্মৃতি পেছনে ফেলে কার্লেস কুয়াদ্রাত বা হাবাসরা কি এবার পাশা ঘোরাতে পারবেন? উত্তর মিলবে বুধবার যুবভারতীর সবুজ গালিচায়।



