Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কমনওয়েলথ গেমসে দেশের হয়ে জুডোতে প্রথম স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ত্রিপুরার মেয়ে অস্মিতা দে (Ashmita Dey)। এই অসামান্য সাফল্যের পর তাঁকে জমকালো সংবর্ধনায় ভূষিত করল ত্রিপুরা রাজ্য সরকার। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক পুরস্কারের পাশাপাশি জমি উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে এই সম্মান গ্রহণ করার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অস্মিতা, যা উপস্থিত সকলের নজর কাড়ে।
বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান (Ashmita Dey)
বুধবার আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তর এবং ত্রিপুরা জুডো এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এই সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বর্ণপদক জয়ী অস্মিতা দে-কে সংবর্ধনা জানান ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, এতদিন রাজ্যে ‘সোনার মেয়ে’ বলতে শুধু জিমন্যাস্ট দীপা কর্মকারকেই চেনা হতো, তবে এখন সেই পরিচয়ে যুক্ত হলেন আরও এক কন্যা— অস্মিতা দে। তিনি জানান, অস্মিতার পছন্দ ও মত নিয়েই তাঁকে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে প্রতিভার কোনো কমতি নেই, প্রয়োজন শুধু সঠিক সময়ে তা খুঁজে বের করার।
মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য (Ashmita Dey)
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ত্রিপুরার ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায় জানান, ২০১৮ সালের পর থেকে রাজ্যে ক্রীড়া পরিকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। দীপা কর্মকারের সময় রাজ্যে যেখানে মাত্র দুটি ইনডোর হল (আগরতলা ও বিলোনিয়া) ছিল, বর্তমানে সেই সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এর ফলে খেলোয়াড়রা আরও উন্নত মানের অনুশীলনের সুযোগ পাচ্ছেন। ক্রীড়ামন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, অস্মিতার এই সাফল্য রাজ্যের তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আরও বেশি উৎসাহিত করবে।
কান্নায় ভেঙে পড়লেন অস্মিতা (Ashmita Dey)
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন অস্মিতা দে। তিনি বলেন, কমনওয়েলথ গেমসের এই স্বর্ণপদক দেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। ত্রিপুরায় ফিরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পেরে তিনি ভীষণ আনন্দিত। ছাত্রজীবনের কোচদের অবদানের কথা স্মরণ করার পাশাপাশি তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কোচদের সম্মান জানানোর বার্তা দেন। তবে বক্তব্য রাখার সময় প্রয়াত বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অস্মিতা। কমনওয়েলথ গেমসের ট্রায়ালের ঠিক আগে তাঁর বাবা প্রয়াত হওয়ায় তিনি মেয়ের এই ঐতিহাসিক সোনাজয় দেখে যেতে পারেননি।
আরও পড়ুন: Messi Miami: বাবার মৃত্যু শোক নিয়ে মাঠে ফিরলেন মেসি, চোখের জলে স্বাগত জানাল মায়ামি
উত্তরপ্রদেশ সরকারের থেকেও সম্মান (Ashmita Dey)
উত্তরপ্রদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা অস্মিতা (Ashmita Dey) এর আগেও বিভিন্ন মহলে সংবর্ধিত হয়েছেন। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ উত্তরপ্রদেশ পুলিশ সাব-ইনস্পেক্টর পদে থাকা অস্মিতাকে এবার ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট অফ পুলিশ (ডিএসপি) পদে উন্নীত করতে চলেছে। নিজের কেরিয়ারের এই সাফল্যের পেছনে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন এই কৃতি জুডোকা।



