Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha

কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের চর্চার কেন্দ্রে (Abhishek Banerjee)। কলকাতা পুরসভার তরফে তাঁর নামে একাধিক সম্পত্তিতে নির্মাণ সংক্রান্ত নোটিস পাঠানোকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক। শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন, তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামেও নোটিস জারি হওয়ায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে এ কি শুধুই প্রশাসনিক পদক্ষেপ, নাকি রাজনৈতিক সমীকরণের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত?
কালীঘাট থেকে হরিশ মুখার্জি রোড (Abhishek Banerjee)
কলকাতা পুরসভার তরফে কালীঘাট রোড ও হরিশ মুখার্জি রোডে অবস্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত দুটি বাড়ির নথি ও বিল্ডিং প্ল্যান জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলিতে অনুমোদিত নকশা মেনে নির্মাণ হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। শুধু তাই নয়, মোট ১৭টি সম্পত্তিকে ঘিরে বেনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই নোটিসে নাম রয়েছে অভিষেকের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। ফলে ঘটনাটি নিছক একটি সাধারণ প্রশাসনিক তদন্তের গণ্ডি ছাড়িয়ে রাজনৈতিক তাৎপর্যও বহন করছে।

পুরসভার ৪০১ ধারার নোটিস কী? (Abhishek Banerjee)
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা পুরসভার ৪০১ ধারায় নোটিস পাঠানো হয়েছে। এই ধারার মূল উদ্দেশ্য হল, অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান যাচাই করা, অতিরিক্ত বা অবৈধ নির্মাণ হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা, নির্মাণে কোনও অনিয়ম থাকলে তা পরে নিয়মিতকরণ করা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা, পুরনো নথি ও বাস্তব নির্মাণের মধ্যে অমিল রয়েছে কি না তা নির্ধারণ করা অর্থাৎ, এই তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে নির্মাণ সংক্রান্ত বৈধতা।
“অভিষেকের বাড়িতে বুলডোজার?” (Abhishek Banerjee)
নোটিস সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। ইতিমধ্যেই বিরোধীরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে যদি সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে অবৈধ নির্মাণে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তবে কি এবার প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে? বিশেষ করে “বাড়ির অংশ ভাঙার নির্দেশ”, “অবৈধ নির্মাণ”, “বুলডোজার অভিযান” এই ধরনের শব্দবন্ধ ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত ভাঙার নির্দেশ সরকারি ভাবে নিশ্চিত নয়, তবুও প্রশাসনিক তৎপরতা রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ তৈরি করেছে।
শান্তিনিকেতন বাড়ি নিয়েও বিতর্ক
সূত্রের দাবি, শান্তিনিকেতনে অবস্থিত একটি সম্পত্তির ক্ষেত্রেও নির্মাণ সংক্রান্ত কিছু অসঙ্গতি নজরে এসেছে। অভিযোগ, অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে কিছু অংশ নির্মাণ করা হয়েছে। সেই কারণেই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ব্যাখ্যা বা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা ইতিমধ্যেই “দুর্নীতির প্রতীক” বলে আক্রমণ শুরু করেছে। অন্যদিকে তৃণমূলের একাংশের দাবি, এটি শুধুমাত্র নিয়মমাফিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং বিরোধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দিচ্ছে।
পুরসভা তো এখনও তৃণমূলের হাতেই!
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, কলকাতা পুরসভার পরিচালনার দায়িত্ব এখনও Firhad Hakim-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল প্রশাসনের হাতেই রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে নিজেদের দলের শীর্ষ নেতার পরিবারের বিরুদ্ধেই কেন এমন নোটিস? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এর পিছনে থাকতে পারে, প্রশাসনিক স্বচ্ছতার বার্তা, আদালতের চাপ, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ ভবিষ্যৎ তদন্তের প্রস্তুতি আবার অন্যদের মতে, জনমতের চাপে প্রশাসন বাধ্য হয়েছে পদক্ষেপ নিতে।
বিরোধীদের আক্রমণ তীব্র (Abhishek Banerjee)
বিরোধী শিবিরের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাব খাটিয়ে বহু নির্মাণ বেনিয়ম চাপা রাখা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি বদলাতেই একের পর এক তথ্য সামনে আসছে। বিজেপি ও বাম নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই এই ইস্যুতে সরব হয়েছে। তাদের বক্তব্য, “আইন সবার জন্য সমান হলে তদন্ত হোক সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে।”

আরও পড়ুন: Dilip Ghosh: “রামমোহন কলেজে রাম নেই”, দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
তৃণমূলের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বড় কোনও প্রতিক্রিয়া না এলেও দলের একাংশের বক্তব্য, নোটিস মানেই অপরাধ প্রমাণ নয়। পুরসভা প্রায়শই নথি যাচাইয়ের জন্য এই ধরনের নোটিস পাঠায়। তাই শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে।

পাঠানো হলো ডিমোলিশন নোটিস
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেই এবার কলকাতা পুরসভার কড়া স্ক্যানারে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি। লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থা, অভিষেকের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে থাকা মোট ১৭টি ঠিকানায় নোটিস পাঠাল কলকাতা পুরসভা।
কেএমসি (KMC) আইনের ৪০০(১) ধারা অনুযায়ী এই নোটিসগুলি পাঠানো হয়েছে। যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অনুমোদিত প্ল্যানের বাইরে গিয়ে যদি কোনো অতিরিক্ত বা বেআইনি নির্মাণ করা হয়ে থাকে, তবে তা আগামী ৭ দিনের মধ্যে নিজেদের দায়িত্বে ভেঙে ফেলতে হবে। অথবা সন্তোষজনক কারণ দর্শাতে (Show Cause) হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা না করা হলে পুরসভা নিজেই বুলডোজার দিয়ে সেই বেআইনি অংশ গুঁড়িয়ে দেবে এবং তার সম্পূর্ণ খরচ উদ্ধার করা হবে মালিকপক্ষের কাছ থেকে।
- হরিশ মুখার্জি রোড (১৮৮A): লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের ঠিকানায় পাঠানো নোটিসে বিল্ডিংয়ের লিফট বা এসক্যালেটর বসানোর অনুমতি সংক্রান্ত নথি এবং ‘অ্যাজ-বিল্ট’ ড্রয়িং তলব করা হয়েছে।
- কালীঘাট রোড: ১১৯ এবং ১২১ নম্বর কালীঘাট রোডের বাড়িতে একাধিক নোটিস পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১২১ নম্বর ঠিকানায় লতা ও অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামেও নোটিস রয়েছে।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণি: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলিতে থাকা ৪৬-বি, ২৯-এ এবং ২৯-সি নম্বর Premises-এও পৌঁছে গেছে পুরসভার নোটিস।

একদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বেআইনি সম্পত্তির তালিকা নিয়ে পুর কমিশনারকে পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুরসভার এই মেগা অ্যাকশন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
“আমার বাড়ি ভেঙে দিক কিন্তু আমি কারোর কাছে মাথা নত করব না।” সূত্রের খবর, কলকাতা পুরসভার বাড়ি ভাঙার নোটিশ নিয়ে দলীয় বৈঠকে এই কথাই বললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।



