Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল, অংশুমান চক্রবর্ত্তী: ৩৪ ও ১৫ বছরের পালাবদলের পর (WB Cabinet Ministers) বাংলায় বিজেপির নতুন রাজনৈতিক বার্তা, ‘আমি নয়, আমরা’-শুভেন্দুর টিম গড়তে ধাপে ধাপে এগোচ্ছে বিজেপি
প্রথমবার ৩৪ বছর পরে এবং দ্বিতীয়বার ১৫ বছর (WB Cabinet Ministers) পর বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। তবে ১৯৭৭ কিংবা ২০১১ সালের তুলনায় এ বার শুধু সরকার বদলই নয়, অনেকে মনে করছেন বদল দেখা যাচ্ছে নতুন ক্ষমতাসীন দলের কাজের ধরন ও মানসিকতাতেও। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-কবে গঠিত হবে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা?
বঙ্গে পদ্ম ফুল (WB Cabinet Ministers)
গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই (WB Cabinet Ministers) পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল, রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠনের রাস্তা প্রায় নিশ্চিত। পরপর দু’বার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে প্রত্যাশামতোই মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ব্রিগেড ময়দান থেকে তাঁর দপ্তরের আরও পাঁচ মন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হয়। নতুন মন্ত্রীদের তালিকায় রয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া এবং ক্ষুদিরাম টুডু। ইতিমধ্যেই তাঁরা নিজ নিজ দপ্তরের কাজকর্ম বুঝে নিতে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে প্রাথমিক বৈঠকও সেরে ফেলেছেন।
মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া স্থগিত (WB Cabinet Ministers)
তবে এখানেই থেমে রয়েছে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের (WB Cabinet Ministers) প্রক্রিয়া। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় বাকি সদস্যদের নাম ঘোষণায় কোনও তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রের দাবি, পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনে দু’এক দিন বেশি সময় লাগলেও আপত্তি নেই, কিন্তু তাড়াহুড়োয় কোনও যোগ্য দাবিদার যেন বঞ্চিত না হন, সেদিকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
যোগ্যতাই মাপকাঠি (WB Cabinet Ministers)
বিজেপির সূত্র মারফত জানা যায় শুভেন্দু অধিকারীর (WB Cabinet Ministers) নেতৃত্বে যে মন্ত্রিসভা তৈরি হচ্ছে, সেখানে যোগ্যতাই হবে একমাত্র মাপকাঠি। যাতে শুধু বিরোধীরাই নন, সাধারণ মানুষও কারও দিকে আঙুল তুলতে না পারেন।”
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই কয়েকজন জয়ী বিধায়ককে নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ক্ষেত্র নিয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা দপ্তরের বিষয়ে শঙ্কর ঘোষ ও স্বপন দাশগুপ্তকে আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করতে বলা হয়েছে। একইভাবে স্বাস্থ্য দপ্তর নিয়ে কাজের প্রাথমিক রূপরেখা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চিকিৎসক-বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ও ইন্দ্রনীল খাঁকে। যদিও ভবিষ্যতে তাঁরা ওই দপ্তরের দায়িত্বই পাবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
কতজন মন্ত্রী রাখার পরিকল্পনা? (WB Cabinet Ministers)
শঙ্কর ঘোষ আগের বিধানসভায় বিরোধী দলের হুইপ ছিলেন। অন্যদিকে শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ও ইন্দ্রনীল খাঁ-দু’জনেই পেশায় চিকিৎসক হওয়ায় স্বাস্থ্য প্রশাসনে তাঁদের ভূমিকা (WB Cabinet Ministers) গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে বিজেপি নেতৃত্ব এখনও কোনও নাম চূড়ান্ত করতে নারাজ। সূত্রের দাবি, খুব বড় বা খুব ছোট-কোনও ধরনের মন্ত্রিসভাই তৈরি করতে চাইছে না কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। শুভেন্দুর টিমে প্রায় তিরিশ জনের মতো মন্ত্রী রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর আগে ১৯৭৭ সালে জ্যোতি বসু এবং ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার দিনই তাঁদের অধিকাংশ মন্ত্রীও একসঙ্গে শপথ নিয়েছিলেন। কিন্তু এ বার সেই রীতি থেকে অনেকটাই সরে এল বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার চার দিন পরেও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা মাত্র ছয়।
কেন এই ব্যতিক্রমী পথ? (WB Cabinet Ministers)
গেরুয়া শিবিরের একাংশের ব্যাখ্যা, বাংলাকে বিজেপি শুধুমাত্র আর একটি রাজ্য হিসেবে দেখছে না। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে বাংলার আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর এই রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তাই সরকার গঠনের প্রতিটি পদক্ষেপ ‘ফুলপ্রুফ’ করতেই চাইছেন নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ।
দলীয় সূত্রে খবর, আরএসএস, বিজেপির সাংগঠনিক শাখা এবং পরিষদীয় দলের মধ্যে সমন্বয় রেখেই ঝকঝকে ও বিতর্কহীন মন্ত্রিসভা গঠনের চেষ্টা চলছে। মন্ত্রী হওয়ার দাবিদার অনেক। ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও অসন্তোষ বা ভুল সিদ্ধান্ত না হয়, সেদিকেও নজর রাখছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
শপথ নেওয়ার পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (WB Cabinet Ministers) বলেছিলেন, “আমি নই, আমরা।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই বার্তার প্রতিফলনই দেখা যাচ্ছে নতুন সরকার গঠনের পদ্ধতিতে। মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি অন্যান্য মন্ত্রীদেরও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ রেখে প্রশাসনিক কাঠামো গড়তে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব।
উত্তরবঙ্গের এক বিজেপি বিধায়কের কথায়,
বিজেপির পরিষদীয় দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাই তাঁর মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে পার্টি কাদের মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইছে, সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমেই যোগ্যদের বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
আরও পড়ুন: UP Storm: ঝড়ের দাপটে বিপর্যস্ত উত্তর প্রদেশ, মৃত ৮৯!
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বাংলায় বিজেপির এই ধীর ও হিসেবি পদক্ষেপ ভবিষ্যতের প্রশাসনিক কাঠামোর ইঙ্গিত বহন করছে। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত কাদের নিয়ে গড়ে ওঠে শুভেন্দু অধিকারীর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা এবং নতুন সরকারের কাজের ধরণ কতটা আলাদা হয়ে ওঠে অতীতের তুলনায়।


