Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : আর জি কর কাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড়। রাজ্যে পালাবদলের পর মামলার ফাইল ফের খোলার পর প্রথমবার গ্রেফতার হলেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ (RG Kar Case)। পুলিশ ওড়িশা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে। আর জি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর পর তাঁর দেহ তড়িঘড়ি সৎকার করে দেওয়ার ঘটনায় নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল।

তড়িঘড়ি শেষকৃত্য ঘিরে প্রশ্ন (RG Kar Case)
অভিযোগ, নিহতের পরিবারের প্রয়োজনীয় সম্মতি ও সই ছাড়াই দেহ সৎকারের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, কেন এত তাড়াহুড়ো করে শেষকৃত্য করা হল? পরিবারের সম্মতি ছাড়া কীভাবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হল? এই ঘটনাকে ঘিরেই প্রমাণ লোপাটের সম্ভাবনা নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে আসে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছিল নাম (RG Kar Case)
রাজ্যে পালাবদলের পর আর জি কর কাণ্ডের দু’বছরের শোকসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে নির্মল ঘোষের নাম ফের সামনে আসে। তড়িঘড়ি শেষকৃত্যের ঘটনা নিয়ে সরকারের তরফে নতুন করে তদন্তের ইঙ্গিতও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। এরপরই তদন্তের গতি বাড়ে বলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়।
পুলিশের কাছে অভিযোগ পরিবারের (RG Kar Case)
ঘটনার পর নিহতের বাবা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে শেষকৃত্যের গোটা প্রক্রিয়া এবং সেই সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। পরিবারের অনুমতি, সৎকারের সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া—সবকিছুই তদন্তকারীদের নজরে আসে।
ওড়িশা থেকে গ্রেপ্তার (RG Kar Case)
অভিযোগের তদন্তে নির্মল ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন দেখা দেয়। এরপরই তাঁকে ওড়িশা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই গ্রেপ্তার আর জি কর মামলার তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁর কাছ থেকে শেষকৃত্যের সময়কার ঘটনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে তদন্তকারীদের আশা।
আরও পড়ুন : Abhishek Banerjee PA: শালবনি জমি মামলায় ফের সিআইডি-র জেরার মুখে সুমিত রায়
তদন্তে এবার কোন দিকে নজর?
নির্মল ঘোষের গ্রেফতারের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তদন্ত কি এবার আরও উচ্চপর্যায়ে পৌঁছবে? তড়িঘড়ি সৎকারের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল, কার নির্দেশে তা কার্যকর হয়েছিল এবং সেখানে কোনও প্রমাণ নষ্ট করা হয়েছিল কি না এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্ত এগোবে। ফলে নির্মল ঘোষের গ্রেফতারের পর আর জি কর মামলায় পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর।
আরজি কর কাণ্ডে নতুন করে দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে ওড়িশা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে। পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকালে পুরীর কাছে একটি হোটেল থেকে তাঁকে আটক করে তদন্তকারীরা। এরপর তাঁকে সড়কপথে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, নতুন এফআইআর দায়ের হওয়ার পর থেকেই ওড়িশায় ছিলেন নির্মল। তদন্তকারীদের নজর এড়াতে তিনি নতুন মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড ব্যবহার করছিলেন বলে দাবি পুলিশের। পুরনো ফোনটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন অনুসরণ করেই তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পান তদন্তকারীরা।
এরপর বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ পুরী সংলগ্ন একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে নির্মল ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক ভাবে তাঁকে ওড়িশার আদালতে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে সরক পথে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হচ্ছে , শুক্রবার নির্মল ঘোষকে ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করা হতে পারে।
আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর পর তাঁর দেহ দ্রুত সৎকার করা এবং সেই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলে সোমবার খড়দহ থানায় এফআইআর দায়ের করেন মৃতার বাবা। ওই অভিযোগে নির্মল ঘোষ ছাড়াও সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে।
মৃতার পরিবারের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট ময়নাতদন্তের পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার পরেও দ্রুত শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য চাপ তৈরি করা হয়েছিল। পরিবারের আরও অভিযোগ, তাঁরা শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর্যাপ্ত সময় পাননি। শ্মশানে দাহের খরচ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
আরও পড়ুন : Rathindra Bose: নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে কি কড়া বার্তা স্পিকারের
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা ওই দিনের ঘটনাপ্রবাহ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং শেষকৃত্য দ্রুত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কোনও প্রভাব খাটানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।
পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ উড়িষ্যা থেকে পুলিশের জালে , অভয়া শেষকৃত্য তড়িঘড়ি করানোর অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে পুলিশের জালে নেওয়া হয়। রাজ্যে পালা বদলের পর অভয়া কাণ্ডের দুবছরের শোকসভায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনা সামনে এনেছিলেন পরে অভয়ার বাবা অভিযোগ দায়ের করেন পুলিশের কাছে ।



