Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত রাজধানী (Avijit Dipke)। আন্দোলন শুরু হওয়ার আগেই কড়া হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামল প্রশাসন। বিমানে দিল্লি পৌঁছনোর পরই আটক করা হল ‘ককরোচ’ নেতা অভিজিৎ দীপ, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাদের। যন্তর মন্তরে তাঁদের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিমানেই তাঁদের আটক করা হয়। ফলে আন্দোলন শুরুর আগেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
‘স্বৈরাচারীরা ভয় পেয়েছে’ (Avijit Dipke)
পুলিশের এই পদক্ষেপেও অবশ্য আন্দোলনকারীদের মনোবলে ভাটা পড়েনি। তাঁদের বক্তব্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলবেই। বিক্ষোভকারীদের কথায়, “স্বৈরাচারীরা ভয় পেয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারকে ইস্তফা দিতেই হবে।” নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজধানীর বুকে প্রতিবাদের মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরতেই তাঁরা অনড়। তবে দিল্লি পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, এই বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি (Avijit Dipke)।
‘ককরোচ’দের পিছনে বিদেশি শক্তি (Avijit Dipke)
অন্যদিকে, এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপি। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের অভিযোগ, দেশের শান্তি ও সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, এই ধরনের অস্থিরতা তৈরির পিছনে রয়েছে দুটি নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠী—রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডি’ জোট এবং আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সহযোগীরা, যাঁদের তিনি ‘ককরোচ’ বলে কটাক্ষ করেন। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ফলে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে প্রতিবাদ এখন রাজনৈতিক চাপানউতোরের কেন্দ্রবিন্দুতে।
ইন্টারনেট বন্ধ, ড্রোনে নজরদারি (Avijit Dipke)
বিক্ষোভ ঘিরে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জনপথ-কর্তব্যপথ ক্রসিংয়ের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে একাধিক এলাকায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকার কথা। পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে চলছে নজরদারি। শহরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অন্তত ২৬ হাজার পুলিশ ও আধাসেনা।
১৬৩ ধারা জারি, রেল পরিষেবাতেও প্রভাব (Avijit Dipke)
মধ্য দিল্লির একাধিক এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা বলবৎ রয়েছে। বিধিনিষেধ অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে, নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থার প্রভাব পড়েছে রেল পরিষেবাতেও। নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে ট্রেন চলাচল নিয়ে কড়াকড়ির জেরে একাধিক ট্রেন বাতিল হয়েছে বলে খবর। বাতিলের তালিকায় রয়েছে কলকাতা থেকে দিল্লিগামী জোড়া রাজধানী এক্সপ্রেসও।

আরও পড়ুন: Mahalaya: মহালয়ার ভোরে গঙ্গার ঘাটে পিতৃস্মরণ, তর্পণে উপচে পড়ল ভিড়
সব মিলিয়ে, জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে ঘোষিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শনিবার দিল্লিতে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। একদিকে আন্দোলনকারীদের অনড় মনোভাব, অন্যদিকে প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা এবং বিজেপির রাজনৈতিক আক্রমণ—সব মিলিয়ে রাজধানীর পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।



