Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অমল চক্রবর্তী, হুগলি: হুগলি জেলার বলাগড় (Balagarh Bridge) ব্লকের জিরাট গ্রাম পঞ্চায়েত ও এক্তারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে দুই গ্রাম । একপাশে বসন্তপুর যা জিরাট গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে আর অন্য পাশে দ্বারপাড়া গ্রাম যা এক্তারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে পড়ে। আর এই দুই গ্রামের মধ্যে দিয়েই বয়ে চলেছে লোয়ার বেহুলা খাল। খালের উপরে থাকা সেতুর বেহাল দশা। যে কাঠ দিয়ে সেতু তৈরি হয়েছিল তার বেশিরভাগই নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয়রা নিজেদের চলাচলের মতন কোন কোন জায়গায় বাঁশ দিয়ে তাপ্তি দিয়েছেন।
সেতুর অবস্থা খারাপ (Balagarh Bridge)
বসন্তপুর এলাকার দিকে সেতুর অবস্থা আরো খারাপ, (Balagarh Bridge) একটা দিক সম্পূর্ণ হেলে রয়েছে। যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। সেতুর দুপাশে থাকা কাঠের রেলিং তাও ভেঙে গেছে তার উপর দিয়ে চলছে যাতায়াত।
স্থানীয়দের দাবি উপযুক্ত সেতু তৈরি হোক খালের উপর দিয়ে যেন চলাচল করা যেতে পারে। এই সেতুর উপরই নির্ভর দুই গ্রামের পাশে থাকা পাঁচ ছটির বেশি মৌজা ও ৬০ টির বেশি পরিবার।
কাঠের সেতুই ভরসা (Balagarh Bridge)
জিরাট গ্রাম পঞ্চায়েতে থাকা বসন্তপুর (Balagarh Bridge) গ্রাম যার ১০০ শতাংশ আদিবাসী অংশের মানুষ বসবাস করেন l বসন্তপুর মৌজায় থাকা চাষের জমিতে চাষীদের যাতায়াত থেকে শুরু করে ফসল তোলা সমস্ত কিছুতেই নির্ভর এই কাঠের সেতু। আর এই ব্রিজের উপর দিয়েই প্রতিদিন টোনা, প্রতাপপুর, দ্বার পাড়া, সারেন্দা, বেলেশ্বর মৌজার চাষিরা তাদের ফসল চাষের জন্য পারাপার হয়। পাশাপাশি যারা এলাকার স্থানীয় মানুষ তাদের স্কুল যাতায়াত থেকে শুরু করে হাসপাতাল তারাও রোজ দিন বিরম্বনায় পড়েছেন।
প্রশাসনের দ্বারস্থ মানুষ
গ্রামের মানুষেরা প্রশাসনের কাছে বহুবার দ্বারস্থ হয়েছেন। প্রশাসন গ্রামের মানুষদের জানিয়েছিলেন অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দপ্তর থেকে এই সেতু তৈরি করে দেওয়া হবে। এর আগে যিনি এর চেয়ারম্যান ছিলেন তিনিও ভোটের আগে এসে সেতু দেখে গেছেন কিন্তু তারপরে বহুদিন কেটে গেলেও সেতু আজ অব্দি মেরামতিটুকুও হয়নি। এলাকার যে সমস্ত বাচ্চা আছে যারা স্কুলে পড়াশোনা করে, তাদেরকে স্কুলে দিয়ে আসার জন্য স্থানীয় মানুষদের সাহায্য নিতে হয়। কেননা বাড়ির মহিলারা সকলেই জমিতে কাজে ব্যস্ত থাকেন। রাতের দিকে এই সেতু দিয়ে চলাচল আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সেতুর পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে তার উপর দিয়ে একটি সাইকেল নিয়ে যেতে ভয় পায় মানুষ জন। কোন মানুষকে হাসপাতাল নিয়ে যেতে হলে অ্যাম্বুলেন্স গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনা । খাটিয়া বা কাঁধে করে নিয়ে যেতে হয় রোগীকে।
সিপিআই(এম) হুগলি জেলা কমিটির সদস্য বিকাশ হেমব্রম বলেন, “২০০৮ সালে শেষ সংস্কারের কাজ হয়েছিল। তখন বামফ্রন্ট সরকার, তার পর থেকে সেভাবে আর সেতুর কোন কাজ হয়নি। আমরা প্রশাসনের কাছে বহুবার দারস্ত হয়েছি প্রয়োজন হলে আবারো যাব। আমরা চাই কংক্রিটের সেতু তৈরি হোক। যাতে এলাকার মানুষ থেকে চাষী সকলেই উপকৃত হয়”
বাসিন্দার বক্তব্য
স্হানীয় বাসিন্দার স্বপন সিংহ রায় বলেন, “বড় ব্রিজ দরকার নেই। অন্তত হাতে টানা একটি ভ্যান নিয়ে যাওয়া যাবে আর মানুষ চলাফেরা করতে পারবে , এই উপযুক্ত একটা চলাচলের সেতু হোক এই লোয়ার বেহুলা খালের উপর দিয়ে। তাতে এলাকার চাষীর পাশাপাশি ওই এলাকার স্থানীয় মানুষজন ও উপকৃত হবে।”



