Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ঘরের মাঠে লজ্জার হার বাংলার। ইডেন গার্ডেন্সে মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কার্যত আত্মসমর্পণ করল অভিমন্যু ঈশ্বরণের দল (Ranji Trophy)। ব্যাট হাতে দুই ইনিংসেই চূড়ান্ত ব্যর্থ বাংলার ব্যাটাররা। প্রথম ইনিংসে ১৪৩ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও মাত্র ১৮৬ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলা। জয়ের জন্য মহারাষ্ট্রের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ১১২ রান। সেই রান অনায়াসেই তুলে নেয় পৃথ্বী শ-র দল। ১০ উইকেটে জিতে বোনাস-সহ ৭ পয়েন্ট ঘরে তুলল মহারাষ্ট্র। এই হারের জেরে এলিট গ্রুপ সি-র শীর্ষস্থানও হারাল বাংলা।
দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিং বিপর্যয় (Ranji Trophy)
ম্যাচ বাঁচাতে হলে দ্বিতীয় ইনিংসে বড় রান করা ছাড়া উপায় ছিল না বাংলার। কিন্তু প্রথম ইনিংসের ব্যর্থতারই পুনরাবৃত্তি করলেন ব্যাটাররা। শাহবাজ আহমেদ ফিরলেন শূন্য রানে। একদিকে যখন নিয়মিত উইকেট পড়ছে, তখন পালটা লড়াই চালালেন অভিষেক পোড়েল ও সুমন্ত গুপ্ত। সপ্তম উইকেটে দু’জনে যোগ করলেন গুরুত্বপূর্ণ ৬৪ রান।
তবে সেই প্রতিরোধ যথেষ্ট হল না। ৬৫ রান করে আউট হন পোড়েল। অন্যদিকে, নীচের সারির ব্যাটারদের নিয়ে যতটা সম্ভব রান তোলার চেষ্টা চালিয়ে যান সুমন্ত। শেষ পর্যন্ত ৫৯ রানে থামতে হয় তাঁকে। ফলে বাংলার দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় মাত্র ১৮৬ রানে।
অনায়াসে লক্ষ্যপূরণ মহারাষ্ট্রের (Ranji Trophy)
জয়ের জন্য মহারাষ্ট্রের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ১১২ রান। সেই রান তুলতে ২০ ওভারও লাগল না পৃথ্বী শ-র দলের। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন দুই ওপেনার। বাংলার বোলারদের কোনও সুযোগ না দিয়ে অপরাজিত থেকেই ম্যাচ শেষ করেন পৃথ্বী ও শচীন দাস।
অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেন পৃথ্বী। ৫০ বলে ৫৩ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও চারটি ছক্কা। অন্যদিকে, শচীন দাস ৬৮ বলে অপরাজিত ৬১ রান করেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১০টি চার। চা বিরতির আগেই বাংলার যাবতীয় আশা শেষ করে দেয় মহারাষ্ট্র।
অভিষেক-সামির লড়াই বিফলে (Ranji Trophy)
প্রথম ইনিংসেও মাত্র ১৪৩ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলা। সেই ইনিংসে একমাত্র উল্লেখযোগ্য লড়াই করেছিলেন অভিষেক পোড়েল। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছিল ৫৪ রান। দ্বিতীয় ইনিংসেও দলের ভরসা হয়ে ওঠেন তিনিই। কিন্তু দুই ইনিংস মিলিয়ে লড়াই করেও দলকে হার থেকে বাঁচাতে পারলেন না বাংলার উইকেটকিপার-ব্যাটার। হতাশ করলেন দলের বাকি ব্যাটাররাও।
তবে ম্যাচে ফেরার সুযোগ একেবারে ছিল না, তা নয়। মহম্মদ সামির দাপটে প্রথম ইনিংসে একসময় ৬৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল মহারাষ্ট্র। মনে হয়েছিল, বড় লিড নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বাংলার সামনে। কিন্তু সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ায় পৃথ্বীর দল। শেষ চার উইকেটে ১৫৪ রান যোগ করে ম্যাচের ছবিটাই বদলে দেয় তারা। আট নম্বরে নেমে তনয় সাঙ্ঘাভি অপরাজিত ৬০ রান করে বাংলার হাত থেকে ম্যাচ কার্যত ছিনিয়ে নেন। শামির চার উইকেটও শেষ পর্যন্ত কাজে এল না।
শীর্ষস্থান হারাল বাংলা (Ranji Trophy)
এই জয়ের ফলে চার ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে এলিট গ্রুপ সি-র শীর্ষে উঠে এল মহারাষ্ট্র (Ranji Trophy)। অন্যদিকে, চার ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেল বাংলা। টানা তিন জয়ের পর প্রথম হারের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন লক্ষ্মীরতন শুক্লার দলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুন: Jesus Owono: যার হাঁটুর ধাক্কায় মৃত্যু মিগুয়েলের এখন তাঁর মানসিক অবস্থা কী?
কারণ পরের ম্যাচেই বাংলার প্রতিপক্ষ শক্তিশালী গুজরাট। সেই ম্যাচের আগে ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে ছন্দে ফেরাই এখন সবচেয়ে জরুরি। ঘরের মাঠে মহারাষ্ট্রের কাছে এই হারের পর ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন অভিমন্যু ঈশ্বরণরা? সেটাই এখন দেখার।



