Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে শুরু হয়েছে দু’দিনব্যাপী ব্রিক্স সম্মেলন(BRICS Summit 2025)। যোগ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কিন্তু উপস্থিত নেই চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আর তাতেই প্রশ্ন উঠেছে— এই দুই শক্তিধর রাষ্ট্রনেতার অনুপস্থিতি কি ব্রিক্স-এর ভবিষ্যৎ ও গুরুত্বকে ধাক্কা দিচ্ছে?
কেন এই অনুপস্থিতি? (BRICS Summit 2025)
চিন ও রাশিয়া— দু’টি দেশই ব্রিক্স-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রভাবশালী সদস্য(BRICS Summit 2025)। অথচ জিনপিং এবং পুতিন কেউই এবারের সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না সশরীরে। যদিও রাশিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, পুতিন ভিডিয়ো কনফারেন্সে অংশ নেবেন।
- চিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্যস্ত সূচির কারণে জিনপিং যেতে পারেননি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু সময়ের অভাব নয়, বরং শি জিনপিংয়ের অভ্যন্তরীণ অবস্থান দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত।
- পুতিনের অনুপস্থিতির কারণ আইনি। ব্রাজ়িল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য হওয়ায় ইউক্রেন যুদ্ধ সংক্রান্ত অভিযোগে পুতিনকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হতে পারে সে দেশের প্রশাসন। সেই কারণেই ভ্লাদিমির পুতিন ব্রিক্স সম্মেলনে যাননি। ঠিক একই কারণে গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকায়ও যাননি তিনি।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও জল্পনা (BRICS Summit 2025)
চিনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও জিনপিংয়ের ক্ষমতা ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও নানা জল্পনা চলছে(BRICS Summit 2025)। বিশিষ্ট পর্যবেক্ষক গর্ডন চ্যাং জানিয়েছেন, “বেজিংয়ে ধীরে ধীরে প্রভাব হারাচ্ছেন জিনপিং, ব্রিক্সে তাঁর অনুপস্থিতি তারই প্রতিফলন।”
একই সঙ্গে, অর্থনৈতিক মন্দা, আবাসন খাতের পতন এবং আমেরিকার সঙ্গে উত্তপ্ত শুল্ক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্রিক্স-এর গুরুত্ব হয়তো জিনপিংয়ের অগ্রাধিকার তালিকায় নেই বলেই ধারণা।

আরও পড়ুন: Ship Attack Near Yemen : লোহিত সাগরে ফের জাহাজে সশস্ত্র হামলা, সন্দেহের তির হুথির দিকে!
ব্রিক্স-এর অবস্থা ও প্রসঙ্গ (BRICS Summit 2025)
২০০৯ সালে গঠিত এই জোটে প্রথম দিকে ছিল ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা(BRICS Summit 2025)। পরে সদস্যপদ পায় ইরান, ইথিওপিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, মিশর ও ইন্দোনেশিয়া। পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার বিকল্প হয়ে উঠতে চেয়েছিল ব্রিক্স(BRICS)। তবে সাম্প্রতিক সম্মেলনে শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতি সেই ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জোটটি আমেরিকা-বিরোধিতার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই পরিচিত, যদিও সদস্যরা প্রকাশ্যে তা মানতে চায় না। এবারের সম্মেলনের ঠিক আগে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্রিক্স-সদস্যদের উপর ১০% অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যা জোটের ভবিষ্যৎ ভূমিকাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

আরও পড়ুন: Donald Trump vs BRICS : ব্রিক্সকে হুমকি ট্রাম্পের, পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় চিন-দক্ষিণ আফ্রিকা!
ভারতের অবস্থান (BRICS Summit 2025)
এই পরিস্থিতিতে নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতি এবং সন্ত্রাসবাদ নিয়ে তাঁর বক্তব্য ব্রিক্স-এ ভারতের ভূমিকাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে (BRICS Summit 2025)। মোদী সরাসরি পাকিস্তানকে আক্রমণ করে বলেন, “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতা চলবে না। ভারত সন্ত্রাসের শিকার, পাকিস্তান তার মদতদাতা।”
জিনপিং ও পুতিনের সশরীর অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে এ বছরের ব্রিক্স সম্মেলনের গরিমা কিছুটা কমিয়েছে। তবে ভারতের মতো দেশ ব্রিক্স-এর মূল মঞ্চে থেকে কৌশলগত ও রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টায় রয়েছে। এই অনুপস্থিতি ভবিষ্যতে জোটের কাঠামো ও অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য কতটা নাড়িয়ে দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


