Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০২০ সালে বেঙ্গালুরু এফসি থেকে লোনে ইস্টবেঙ্গলে এসেছিলেন এডমুন্ড লালরিনডিকা (Edmund Lalrindika)। সেবার এক ডার্বি ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে মারাত্মক চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। সেই ম্যাচের সমীকরণ হয়তো সেদিন বদলে দিতে পারতেন এই ফরোয়ার্ড। কিন্তু সেই অল্পসময়ের লড়াই আর নাছোড় মানসিকতাই তাঁকে আজও লাল-হলুদ সমর্থকদের হৃদয়ে ‘ঘরের ছেলে’ করে রেখেছে। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ইন্টার কাশী হয়ে ২০২৫ সালে পাকাপাকিভাবে ইস্টবেঙ্গলে ফেরেন তিনি। অস্কার ব্রুজোর কোচিংয়ে ২২ বছরের লিগ খরা কাটানোর নেপথ্যে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য—৩টি গোল ও ৫টি অ্যাসিস্টের পাশাপাশি নির্ণায়ক ডার্বিতেও জালের সন্ধান পেয়েছিলেন তিনি। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরের দিন ক্লাবের মাঠে ভাঙা পায়েই তাঁর সেই উদ্দাম নাচ আজও সমর্থকদের স্মৃতির মণিকোঠায় উজ্জ্বল।
যুবভারতীতে এডমুন্ড-ঝড় (Edmund Lalrindika)
এদিন যুবভারতী স্টেডিয়ামে যেন এক অন্য এডমুন্ডকে দেখা গেল। ম্যাচের ১১, ২২ এবং ৪৪ মিনিটে গোল করে একাই খেলার রং বদলে দেন তিনি। গতির ঝড়, অক্লান্ত পরিশ্রম আর নিখুঁত সুযোগসন্ধান—এই তিনের মিশ্রণে তৈরি ‘মিজো মিসাইল’-কে আটকানোর কোনো উপায়ই খুঁজে পায়নি মোহনবাগান রক্ষণ। পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের ত্রাস হয়ে থেকে তিনি প্রমাণ করে দিলেন কেন তাঁকে এতটা ভরসা করেন কোচ ও সমর্থকরা।
ডার্বির এলিট লিস্টে (Edmund Lalrindika)
কলকাতা ডার্বিতে হ্যাটট্রিক করা যেকোনও ফুটবলারের জন্যই এক অবিশ্বাস্য অর্জন। দীর্ঘ ইতিহাসে মাত্র চারজন খেলোয়াড় এই দুর্লভ নজির গড়েছেন। ১৯৯৭ সালে ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক করেছিলেন বাইচুং ভুটিয়া (সেবারও স্কোরলাইন ছিল ৪-১)। এরপর ২০০৯ সালে আই লিগে মোহনবাগানের ৫-৩ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করেন চিডি এডে। ২০২১ সালে আইএসএলের একটি ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে মোহনবাগানকে জয় এনে দিয়েছিলেন কিয়ান নাসিরি। আর এবার সেই তালিকায় স্বর্ণাক্ষরে নিজের নাম লিখিয়ে নিলেন এডমুন্ড লালরিনডিকা।
ঈশ্বর ও বোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা (Edmund Lalrindika)
ম্যাচ শেষে নিজের এই সাফল্যের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব ঈশ্বর এবং নিজের বোনকে দিয়েছেন এডমুন্ড (Edmund Lalrindika)। আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি বলেন, “ম্যাচের আগে আমি আর আমার বোন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলাম, যাতে হ্যাটট্রিক করতে পারি। ঈশ্বর আমাদের প্রার্থনা শুনেছেন। তাই গোলের পর হাত দিয়ে সেটাই দেখাচ্ছিলাম।” আসন্ন এশিয়ান মঞ্চে নামার আগে ডুরান্ড কাপকে আইএসএলের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছে লাল-হলুদ শিবির। আর সেই প্রস্তুতি পর্বেই তরুণ ভারতীয় ব্রিগেড নিজেদের জাত চিনিয়ে দিল। ম্যাচ শেষে এডমুন্ডের স্পষ্ট হুঙ্কার, “এ তো সবে শুরু হল। আশা করি এই মরসুমে আরও ট্রফি জিততে পারব।”



