Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে একসময় যে ‘ভাসমান বাজার’ (Floating Market) ছিল কলকাতার অন্যতম গর্ব, আজ সেই পাটুলির বাজারই পরিণত হয়েছে এক করুণ ধ্বংসস্তূপে। সিঙ্গাপুরের বাজারের আদলে তৈরি নৌকার সেই স্বপ্নিল হাট এখন শুধুই ভাঙা কাঠ আর কচুরিপানার জঞ্জাল। আর এই ধ্বংসস্তূপকে আঁকড়ে ধরে পুনর্বাসনের আশায় দিন গুনছেন বেশ কিছু বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তি।
আকর্ষণীয় বাজারের আজ বেহাল দশা (Floating Market)
আজ থেকে কয়েক বছর আগে কলকাতা লাগোয়া গড়িয়া-পাটুলির একটি পরিত্যক্ত খালের ওপর তৈরি হয়েছিল রাজ্যের প্রথম এই ভাসমান বাজার (Floating Market)। বিভিন্ন আকারের নৌকার ওপর মাছ, মাংস (মুরগি ও খাসি), চিংড়ি, সবজি, ফল থেকে শুরু করে মনিহারি ও স্টেশনারি দোকান— সবই ছিল এই বাজারে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য কাঠের তৈরি সেতু, নৌকার ওপর নিজেদের বাবা-মা বা ঠাকুর-দেবতার নামে দোকানের নামকরণ, সবকিছু মিলিয়ে এটি ছিল সত্যিই এক স্বপ্নের বাজার। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসতেন শুধু কেনাকাটা নয়, অভিনব অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে। প্রায় দুই শতাধিক নৌকা বা দোকান নিয়ে শুরু হয়েছিল এই বাজার।
আজ সেই বাজারের (Floating Market) করুণ দশা দেখলে চোখে জল আসবে। এলাকার মানুষজনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নৌকাগুলির কোনও সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। তার উপর ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ধাক্কায় একে একে সব নৌকা ভেঙে জলের তলায় চলে গেছে বা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

তবে এখনও দু-একটি দোকান নিজেদের পসরা সাজিয়ে বসে। সামান্য বেচাকেনা হলেও তা দিয়ে সংসার চালানো দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ধ্বংসস্তূপে ঠাঁই! পুনর্বাসনের দাবি (Floating Market)
বাজারের এই ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই এখনো ঠাঁই করে নিয়েছেন কয়েকজন প্রবীণ মানুষ ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তি। নৌকাগুলিকে কোনওমতে বাসস্থানে পরিণত করে, এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁরা বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন।
আরও পড়ুন:West Bengal Assembly: বিধানসভায় ‘ভূতের উপদ্রব’? রাত নামলেই নাকি ঘুরে বেড়ায় ‘অশরীরী’!
তাঁদের একটাই দাবি— মুখ্যমন্ত্রী যেন তাঁদের প্রতি সদয় হন। যারা এই বাজারকে (Floating Market) আগলে বসে আছেন, সেই সমস্ত হতভাগ্য বিক্রেতারা সরকারের কাছে আবেদন করেছেন, স্থলভাগে তাঁদের দোকান করার এবং মাথা গোঁজার একটি স্থায়ী ঠাঁই করে দেওয়া হোক।
একসময় যে প্রকল্পটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে রাজ্য সরকারের গর্ব ছিল, আজ সেই প্রকল্পের ব্যর্থতা এবং এর সাথে যুক্ত মানুষের অসহায়তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে এক কঠিন বাস্তব। প্রশ্ন উঠেছে, এই সব অসহায় মানুষের আশা কি শুধুই স্বপ্ন হয়ে থাকবে? নাকি মুখ্যমন্ত্রী তাদের পুনর্বাসনের জন্য কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন? উত্তরের অপেক্ষায় অসহায় এই বিক্রেতারা।


