Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ৪-২ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করল ইংল্যান্ড।
হ্যারি কেন বনাম মদ্রিচ (England vs Croatia)
ভারতের ঘড়ির কাটা এখন চারটের দিকে এগোচ্ছে আর বিশ্ব ফুটবল মঞ্চে ইংল্যান্ডের ৪-২ ব্যবধানে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল। একদিকে রোনাল্ডো প্রথম জয় পেতে ব্যর্থ হলেন তেমন অন্যদিকে ইংল্যান্ডের তারকা বা বলা ভাল মূল স্তম্ভ হ্যারি কেন জোড়া গোলে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন।
এবার যেন বদলা পূরণের বিশ্বকাপ। আট বছর আগে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপেরে স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড দলের আর আজ বুধবার রাতে ডালাসে ক্রোয়েশিয়াকে চার গোল মেরে ইংল্যান্ড বুঝিয়ে দিল, এ বার তাদের সমীহ করে চলতে হবে বাকি দলগুলিকে।
ম্যাচের আগেই মনে হচ্ছিল যে খাতায় কলমে যতই লেখা হোক ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়া, আসল লড়াই হতে চলেছে হ্যারি কেন বনাম লুকা মদ্রিচের। বুধবার বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন দুই টিমের দুই তারকা হ্যারি ও মদ্রিচ। এই ম্যাচের আগে দুই টিমের কোচের গলাতেই এই দুই ফুটবলাররা নিয়ে শ্রদ্ধা, আর যে সম্মানটা আসলে সব ক্ষেত্রেই থাকা বাঞ্চনীয়। ইংল্যান্ড কোচ টমাস তুচেল ম্যাচের আগে বলেছিলেন, ‘মাঝমাঠে মদ্রিচের মতো বৈচিত্র্যময় ফুটবলার এই বিশ্বকাপে আর কেউ নেই। বয়স যাই হোক, মদ্রিচই ক্রোয়েশিয়া দলের মূল চালিকাশক্তি।’ অন্য দিকে ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচের কথায়, ‘হ্যারি কেন দুরন্ত ফর্মে। ক্লাব ও দেশ সব জার্সিতেই ও সমান উজ্জ্বল।
আজকের ম্যাচের ছবি
রোনাল্ডো বাদে এমবাপে, মেসি দুজনেই গোল পেয়েছেন। এবার নজরে ছিলেন হ্যারি কেন। ক্লাব ফুটবলেও ছিলেন দুরন্ত ফর্মে আর সেই ফর্ম নিয়েই বিশ্বকাপেরে রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হলেন এই ইংরেজ তারকা।
এই ম্যাচে ডালাসে প্রথমার্ধেই হয় চার গোল। দু’বার পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে সমানে সমানে টক্কর ছুঁড়ে দিতে থাকে ক্রোয়েশিয়া বাহিনী। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ডের আগ্রাসী ফুটবলের সামনে আর টিকতে পারেনি তাঁরা। আট মিনিটের মাথায় লুকা মদ্রিচ বক্সে ফাউল করেন নোনি মাদুয়েকেকে। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। তবে সেই পেনাল্টি ছিল টানটান উত্তেজনায় ভরা। কেনের প্রয়াস ক্রোয়েশিয়া গোলকিপার লিভাকোভিচ আটকিয়ে দেন। তবে সেই প্রয়াস বাতিল হয়ে যায়। কারণ কেন শট মারার আগেই লিভাকোভিচ গোললাইন ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন। দ্বিতীয় প্রয়াসে কেন বল জালে জড়াতে কোনও ভুল করেননি।
এর পর খেলায় ইংল্যান্ডের দাপট ক্রমশ বাড়তে থাকে। বলের নিয়ন্ত্রণ থেকে গোল লক্ষ্য করে শট, সবেতেই তারা এগিয়ে ছিল। কিন্তু ক্রোয়েশিয়াও ছেড়ে কথা বলছিল না। থেকে থেকে আক্রমণে উঠছিল তারা এবং লড়াই তখন রাজায় রাজায়। সেই আক্রমণ থেকেই দুরন্ত শটে গোল করেন মার্তিন বাতুরিনা, যা ছিল নান্দনিক।
আরও পড়ুন: Telegram Issue: টেলিগ্রাম: গোপনীয়তার প্রতীক নাকি সরকারের মাথাব্যথা?
পাঁচ মিনিট পরে আবার দ্বিতী গোল করেন হ্যারি। ডেক্লান রাইসের কর্নার থেকে হেডে বল জালে জড়ান। এ ক্ষেত্রেও ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণের ভুল ছিল। কেন এমনিতেই এরিয়াল বলে শক্তিশালী। হেডও করেন দুর্দান্ত। তা হলে কেন তাঁকে কর্নারের সময় ফাঁকা রেখে দেওয়া হল? মার্ক করা হয়নি কেন তাঁকে সেটা কেউ জানেন না। ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে ১০টি গোল করে ফেললেন কেন। যুগ্ম ভাবে শীর্ষে গ্যারি লিনেকারের সঙ্গে। এ বার সমতা ফেরাতে সময় নেয়নি ক্রোয়েশিয়া। চার মিনিট পরে ইভান পেরিসিচের পাস থেকে গোল করেন পেতার মুসা।
দ্বিতীয় অর্ধে পুরোপুরি পাল্টে যায় ইংল্যান্ডের খেলা। যে ইংল্যান্ড প্রথমার্ধে কিছুটা সতর্ক হয়ে খেলছিল, দ্বিতীয়ার্ধে তারাই আক্রমণের ঝড় বইয়ে দেয় এবং খেলার রাশ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। বিরতির দু’মিনিট পরে গোল করেন বেলিংহ্যাম। ডান প্রান্তে বল পেয়ে একাই টেনে নিয়ে গিয়ে লিভাকোভিচকে পরাস্ত করেন তিনি। ইংল্যান্ডের ওই আগ্রাসনের সামনে দিশা খুঁজে পায়নি ক্রোয়েশিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি থেকে আবার পাল্টা আক্রমণ করতে থাকে ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু নিজেদেরই ভুলে স্কোর কার্ডে আর গোল যোগ করতে পারেনি তাঁরা। উল্টে বেঞ্চ থেকে নেমেই গোল করেন রাশফোর্ড।কেন যেখানে সাফল্য পেলেন, সেখানে মদ্রিচ একেবারেই নিষ্প্রভ। তাঁকে বাধ্য হয়ে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি তুলে নিতে হল। কেন’র মূল প্রতিপক্ষ যাকে মনে করা হচ্ছিল সেই লুকা আজ ফিকে।


