Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ৫২ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে কঙ্গো আটকে দিল পর্তুগালকে (Portugal vs DR Congo)।
ভূমিকা (Portugal vs DR Congo)
ম্যাচের কচকচানি কতটা কে আক্রমণে গেলেন বা রক্ষণ পোক্ত করলেন সেই আলোচনা পরে করবো। বরং মেসির পর আজ রোনাল্ডো মাঠে নামলেন তখন সেই ফিতে জড়িয়ে যাওয়া ক্যাসেট আর সেখানে সুমনের কণ্ঠ, গান ভেসে আসছে ‘তিনি বৃদ্ধ হলেন, বনস্পতির ছায়া দিলেন সারাজীবন’, তবে এখানে দ্বিবচন। ২০২৬ সালে এই দুই তারকা খেলছেন নিজেদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। দুজনের শেষ বিশ্বকাপ, হেডলাইন লেখা হচ্ছে লাস্ট ড্যান্স, অধরা মাধুরী ইত্যাদি। শুনছি, পড়ছি কিন্তু মন মানছে কি? মিলেনিয়ালদের কানে এখনও গ্যালারি জুড়ে চিৎকার মেসি, রোনাল্ডো ভেসে আসছে আর অস্ফুটে কেউ বলছে এটাই শেষ (Portugal vs DR Congo)।
রোনাল্ডো আজও বিশ্বকাপ পাননি। কিন্তু এই না পাওয়ার থেকে পাওয়ার সংখ্যাটা অনেক। ৪১ বছরের এই তারকার ঝুলিতে রয়েছে পাঁচটা ব্যালন ডি’অর। পাঁচটা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। ইউরো কাপ। নেশনস লিগ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল ১৪৩টা। সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ২২৭টা। ক্লাব আর দেশ মিলিয়ে ৯০০ এর বেশি গোল। এরপরে যে কেউ হয়ত ভাবতো অনেক হয়েছে এবার তবে থামা যাক। কিন্তু তিনি থামেননি। বিশ্বকাপ নেই বলে? নাকি তাঁর খিদে এখনও সেই বাচ্চা ছেলেটার মত যাঁর কাছে এই বিশ্বকাপ ছিল প্রথমবার।
পরিসংখ্যান দেখে বিচার করার আগে একবার এই তারকার উত্থান জেনে নেওয়া যাক। পর্তুগালের ছোট্ট মাদেইরা দ্বীপ। বাবা মাতোয়া, মানে মাঠ দেখাশোনা করতেন। পরিবারের এতটাই টানাটানি ছিল যে চারজন একটা ছোট্ট ঘরে থাকত, খিদে না মিটলেও চোখে ছিল স্বপ্ন। আর সেই ছেলের হার্টে সমস্যা ধরা পড়ল ছোটবেলায়। অপারেশন হল। ডাক্তার বলেছিল ফুটবল হয়তো হবে না। সেই ছেলে এখন ৪১ বছর বয়সে ষষ্ঠ বিশ্বকাপে। এই মহামানবের গল্প খুব কমই শুনেছে বিশ্ব ফুটবল (Portugal vs DR Congo)।
মাঝে রয়েছে কঠিন অনুশীলন। ট্রেনিং এমন যেন তিনি সবচেয়ে নবীন। কিন্তু সবচেয়ে কঠিন রাতটা ছিল ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। কোয়ার্টারফাইনালে মরক্কোর কাছে হারতে হল পর্তুগালকে। সিআর ৭ পুরো ম্যাচ বেঞ্চে বসে ছিল, কারণ কোচ তাকে প্রথম একাদশে রাখেনি। ১৪ বছর পর এই প্রথম কোনো বড় টুর্নামেন্টে সে বেঞ্চে। ম্যাচ শেষে মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় ক্যামেরায় ধরা পড়ল চোখে জল। আজ সেই চোখের জল ফেলা তারকা আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে। চোখের জল আগুন আর সেখান থেকেই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু।
আরও পড়ুন: Lionel Messi: মেসির হ্যাটট্রিকের মাঝেই শুরু বিতর্ক
আরও দেখুন: https://www.youtube.com/watch?v=xVHQ4K4MRy0
ফের অঘটন বিশ্বকাপে
মানচিত্র ধরে এগোলে স্পেন আর পর্তুগাল পাশাপাশি। দুই দেশের অবস্থান কাছাকাছি আর বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের ফলাফলও এক। দুই দেশই আটকে গেল এমন দুই দেশের কাছে যা নিন্দুকরাও কল্পনা করতে পারেননি (Portugal vs DR Congo)। যে মঞ্চ প্রস্তুতি নিল রোনাল্ডোর জন্য সেই মঞ্চে আলো ছড়াল কঙ্গো। ১-১ গোলে ড্র করে যাত্রা শুরু করল পর্তুগাল। এখন সেই আবার একটাই প্রশ্ন রোনাল্ডো পাবেন অধরা মাধুরীর স্বাদ?
বয়স্কতম ফুটবলার হিসাবে নজির গড়ে এদিন বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করলেন সিআর ৭। ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে গোলের চেষ্টায় নিজেকে নিংড়ে দিতে দেখা গেল তাঁকে। অধিনায়ক সিআর ৭-র নেতৃত্বে প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক পর্তুগালের গোটা স্কোয়াড। মাত্র ৬ মিনিটেই জোয়াও নেভেসের অনবদ্য হেডে এগিয়ে গেল রোনাল্ডোররা। মাঠজুড়ে লাল পর্তুগাল সমর্থকদের দাপটে তখন যেন ‘ভ্যানিশ’ কঙ্গো। তবে সেই উল্লাস শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হল না (Portugal vs DR Congo)।
ম্যাচের শুরুর দিকে পর্তুগিজ ঝড় ওঠে তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই ঝড় সামলে নিয়ে রক্ষণে প্রাচীর পোক্ত করার দিকে মন দেন কঙ্গোর প্লেয়াররা। ঝড়ের গতিবেগ বুঝে সঠিক সময় সঠিক কাজ করলেই যে সাফল্য আসে সেটা প্রমাণ করে দিল কঙ্গো। সেখান থেকেই পর্তুগালের শুধুই হতাশা আর আর্তনাদ। একের পর এক অনবদ্য আক্রমণ করেছেন ভিতিনহা-নেতোরা। কিন্তু কঙ্গোর রক্ষণে প্রতিহত বারবার। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার কয়েক মুহূর্ত আগেই কঙ্গোর ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে লাফিয়ে উঠে মাথা ছোঁয়ালেন ইয়োআন উইজা। বিশ্বকাপে প্রথম গোল কঙ্গোর। লেখা হল ইতিহাস, প্রথম ম্যাচেই পর্তুগালকে আটকে আলোচনার কেন্দ্রে কঙ্গো।


