Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রতিটা শহরের নিজস্ব কিছু গল্প থাকে এবার সেই গল্পই মিশে যেতে চলেছে ফুটবল বিশ্বকাপের সঙ্গে (FIFA)।
বিশ্বকাপে গল্প বলবে স্টেডিয়াম (FIFA)
ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে রয়েছে এমন অনেক রোমাঞ্চকর গল্প যা হার মানায় সিনেমার গল্পকেও। শুধু যে সেই গল্প জড়িয়ে থাকে মাঠের মধ্যে ম্যাচের সঙ্গে তা নয়। সেখানে প্রতিটা জার্সির যেমন আলাদা গল্প রয়েছে তেমন রয়েছে ফুটবলের নিজস্ব গল্প। কিন্তু এর পাশাপাশি আরও গভীরে রয়েছে যে শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ সেই শহরে তৈরি হওয়া স্টেডিয়ামের গল্প। সেখানে প্রতিটা কোণে রয়েছে সেই শহরের নিজস্ব ঐতিহ্যের ছোঁয়া। শুধুমাত্র পরিকাঠামো নয়, শহরের ইতিহাস এবং তার গৌরবের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে থাকে সেই মাঠ (FIFA)।
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজিত হতে চলেছে তিনটি জায়গায়। আমেরিকা, মেক্সিকো এবং কানাডায়। সেখানে প্রতিটা জায়গার স্টেডিয়ামে সেই শহরের স্বতন্ত্র গল্প জড়িয়ে আছে। আমেরিকার প্রযুক্তিগত উন্নতির প্রতিফলন যেমন দেখা যাবে স্টেডিয়াম জুড়ে তেমন মেক্সিকোর স্টেডিয়ামে রয়েছে স্মৃতি সংরক্ষণ আবার কানাডার স্টেডিয়াম প্রতিনিধি হয়ে থাকবে ভৌগোলিক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের।
আসন্ন বিশ্বকাপ একদিকে আমেরিকার আধুনিক এবং সুপার স্টেডিয়াম হিসেবে সাক্ষী থাকবে বিশ্বকাপের মহারণের। আমেরিকার বেশিরভাগ স্টেডিয়ামের এক দিক থেকে মিল থাকবে তার বিশাল আকার এবং সবরকম ভাবে বিনোদন শিল্পে রূপান্তরিত করার। এখানেই চলে আসবে বিখ্যাত স্টেডিয়াম মেটলাইফ স্টেডিয়ামের কথা। এটি নিউ জার্সিতে অবস্থিত হলেও ফিফা এটিকে নিউইয়র্ক স্টেডিয়ামে হিসেবেই উল্লেখ করেছে। বৃহত্তম মহানগরের প্রতীক এই স্টেডিয়াম (FIFA)।
মেটলাইফ যেমন বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক বহন করে তেমন লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়াম প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত ও বিনোদন-নির্ভর এক মাঠের গল্প বলবে। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্টেডিয়াম হিসাবেও একটি বিবেচনা করা হয়। এর নির্মাণ অনেককটে একে করে তুলেছে মহাকাশযানের মত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার ১৬টি ভেন্যুর পরিচিতি অল্প পরিসরে জেনে নেওয়া যাক। যেখানে অনেক স্টেডিয়াম আমেরিকান ফুটবলের জন্য পরিচিত হলেও, এবার সেগুলোই হয়ে উঠবে বিশ্ব ফুটবলের কেন্দ্রবিন্দু। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১১টি ভেন্যু যুক্তরাষ্ট্রের, মেক্সিকোর ৩টি ও কানাডার ২টি (FIFA)।
কানাডা
টরন্টো — বিএমও ফিল্ড
ধারণক্ষমতা: আনুমানিক ৪৫ হাজার
কানাডার এই দুই বিএমও ফিল্ড দুটি ভেন্যুর মধ্যে একটি। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে শুধু ফুটবলের জন্য নির্মিত স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে এটি একটি। এই স্টেডিয়ামের যাত্রা শুরু হয় ২০০৭ সালে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের মধ্য দিয়ে। এই মাঠে আয়োজিত হবে ছয়টি ম্যাচ। যার মধ্যে পাঁচটি রয়েছে গ্রপ পর্বের এবংহ একটি রয়েছে শেষ ৩২-র।
ভ্যাঙ্কুভার — বিসি প্লেস
ধারণক্ষমতা: আনুমানিক ৫৪ হাজার
১৯৮৩ সালে উদ্বোধন হওয়া এই স্টেডিয়াম ভ্যাঙ্কুভারের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে। এই স্টেডিয়ামকে বিশ্বকাপের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন স্টেডিয়ামগুলির মধ্যে একটি বলেও বিবেচনা করা হচ্ছে। ২০১৫ সালের মেয়েদের বিশ্বকাপ ফাইনাল হয়েছিল এই মাঠেই। এই স্টেডিয়ামে হবে মোট সাতটি ম্যাচ। যার মধ্যে নক আউট পর্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে (FIFA)।
আরও পড়ুন: Vande Mataram Song: গরমের ছুটির পরে খুলল স্কুল, প্রার্থনা সঙ্গীতে গাইতে হবে ‘বন্দে মাতরম’
মেক্সিকো
মেক্সিকো সিটি — এস্তাদিও আজতেকা
ধারণক্ষমতা: আনুমানিক ৮৩ হাজার
এস্তাদিও আজতেকা বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম আইকনিক স্টেডিয়ামগুলির মধ্যে একটি। ৯৭০ ও ১৯৮৬ সালের পর এখানে তৃতীয়বারের মত যদি এখানে এই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হয় তবে সেটি রেকর্ড হবে। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে এই স্টেডিয়াম ছিল বিশ্বকাপের মূল কেন্দ্র আর সেই বিশ্বকাপেই ব্রাজিল বিশ্বকাপের শিরোপা যেতে। এই স্টেডিয়ামে মোট ছয়টি ম্যাচ হবে।
গুয়াদালাহারা — আনুমানিক এস্তাদিও আক্রন
ধারণক্ষমতা: ৪৮ হাজার
এই স্টেডিয়াম যেন আগ্নেয়গিরির আদলে তৈরি। সেখানেই ম্যাচের উত্তেজনা বেড়ে যায় আরও কয়েকগুণ। এখানে মোট চারটি ম্যাচ খেলা হবে যার মধ্যে সবথেকে বেশি নজর থাকবে ২৬ জুন স্পেন-উরুগুয়ে ম্যাচে।
মনতেরে — এস্তাদিও বিবিভিএ
ধারণক্ষমতা: আনুমানিক ৫৩ হাজার ৫০০
পাহাড়ঘেরা মনোরম পরিবেশের মধ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই স্টেডিয়াম। ২০১৫ সালে উদ্বোধন হওয়া এই আধুনিক স্টেডিয়ামে খেলা হবে মোট চারটি ম্যাচ।
যুক্তরাষ্ট্র
আটলান্টা — মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম
ধারণক্ষমতা: আনুমানিক ৭৫ হাজার
এই মাঠের অন্যতম একটি বিশেষ পরিচয় হল সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব স্টেডিয়াম। ২০১৭ সালে উদ্বোধন হওয়া এই মাঠে বিশ্বকাপের আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যার মধ্যে রয়েছে সেমিফাইনালের মত হাই ভোল্টেজ ম্যাচ (FIFA)।
বোস্টন — জিলেট স্টেডিয়াম
ধারণক্ষমতা: আনুমানিক ৬৫ হাজার
এই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সাতটি ম্যাচ। যার মধ্যে রয়েছে একটি কোয়ার্টার ফাইনাল। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় হাই-ডেফিনিশন ভিডিও স্ক্রিনও বসানো হয়েছে এই আধুনিক স্টেডিয়ামে।
ডালাস — এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়াম
ধারণক্ষমতা: আনুমানিক ৯৪ হাজার
সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়াম এনএফএলের ডালাস কাউবয়েজের ঘরের মাঠ আর এই মাঠে খেলার দিকে বিশেষভাবে নজর থাকবে বিশ্ব ফুটবলের। এখানে অনুষ্ঠিত হবে মোট ৯টি ম্যাচ। একটি সেমিফাইনালও হবে এই স্টেডিয়ামে।
হিউস্টন — এনআরজি স্টেডিয়াম
ধারণক্ষমতা: আনুমানিক ৭২ হাজার
হিউস্টন টেক্সান্সের ঘরের মাঠ এনআরজি স্টেডিয়াম স্বয়ংক্রিয় ছাদ ও খাড়া গ্যালারির জন্য বিশ্ব ফুটবলে বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেছে। ২০০২ সালে উদ্বোধন হয়ে এই মাঠের।
কানসাস সিটি — অ্যারোহেড স্টেডিয়াম
ধারণক্ষমতা: আনুমানিক ৭৩ হাজার
বিশাল বাটির মতো নকশার জন্য পরিচিত এই মাঠ। এই স্টেডিয়াম এনএফএলের কানসাস সিটি চিফসের ঘরের মাঠ।
লস অ্যাঞ্জেলেস — সোফি স্টেডিয়াম
ধারণক্ষমতা: আনুমানিক ৭০ হাজার
বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্টেডিয়ামগুলির মধ্যে অন্যতম এই স্টেডিয়াম। এখানে অনুষ্ঠিত হবে মোট আটটি ম্যাচ।
মায়ামি — হার্ড রক স্টেডিয়াম
ধারণক্ষমতা: আনুমানিক ৬৫ হাজার
মায়ামি ডলফিনসের ঘরের মাঠ হার্ড রক স্টেডিয়ামে ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের মোট সাতটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এখানে।
নিউইয়র্ক/নিউ জার্সি — মেটলাইফ স্টেডিয়াম
ধারণক্ষমতা: ৮২ হাজার ৫০০
ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণগুলোর একটি এই স্টেডিয়াম। ফিফার করপোরেট স্পন্সরশিপ–সংক্রান্ত নীতির কারণে বিশ্বকাপ চলাকালে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে রাখা হবে ‘নিউইয়র্ক/নিউ জার্সি স্টেডিয়াম’। এখানে অনুষ্ঠিত হবে মোট ৮টি ম্যাচ। ফাইনালও অনুষ্ঠিত হবে এই স্টেডিয়ামে (FIFA)।
ফিলাডেলফিয়া — লিংকন ফিন্যান্সিয়াল ফিল্ড
ধারণক্ষমতা: আনুমানিক ৬৯ হাজার
এই স্টেডিয়ামে হবে মোট ছয়টি ম্যাচ। ২০০৩ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও বার্সেলোনার প্রীতি ম্যাচ দিয়ে এই স্টেডিয়ামের যাত্রা শুরু হয়েছিল।
সান ফ্রান্সিসকো/সান্তা ক্লারা — লেভাইস স্টেডিয়াম
ধারণক্ষমতা: আনুমানিক ৭১ হাজার
সিয়াটল — লুমেন ফিল্ড
ধারণক্ষমতা: আনুমানিক ৬৯ হাজার
এই স্টেডিয়ামে চারটি গ্রুপ ম্যাচ হবে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচও রয়েছে। দুটি নক-আউট ম্যাচও হবে (FIFA)।


