Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: স্কুলে পর্যাপ্ত সরকারি অনুদান, জরাজীর্ণ ক্লাসরুমের সংস্কার এবং শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে ফ্রান্সে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ক্রমেই ভয়াবহ আকার নিয়েছে (France Protest)। সেপ্টেম্বরের শেষদিকে একটি হাই স্কুলে শিক্ষক-সংকটকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলনের সূত্রপাত, তা ইতিমধ্যেই দেশের প্রায় ৪০টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। ফরাসি সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় আড়াই থেকে তিন লক্ষ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক এই আন্দোলনে রাস্তায় নেমেছেন। পরিস্থিতির জেরে প্রায় ৯০০টি স্কুল বন্ধ রাখার কথাও জানিয়েছে সরকার।

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাসের ব্যবহার (France Protest)
আন্দোলন যত ছড়িয়েছে, ততই বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, রবার বুলেট ও গ্রেনেড ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে প্যারিসের উপশহর সাঁ-দেনিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানে কৃষ্ণাঙ্গ ও মধ্যপ্রাচ্যের তরুণ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
পড়ুয়াদের ‘মানবঢাল’ মেয়র (France Protest)
সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তৈরি করেছে সাঁ-দেনির মেয়র বালি বাগায়োকোর ভূমিকা। পুলিশের হাত থেকে আন্দোলনকারীদের আড়াল করতে তাঁকে সামনে দাঁড়াতে দেখা যায়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, দাঙ্গা পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের মধ্যেও তিনি পড়ুয়াদের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। পরে তাঁর বক্তব্য, রাস্তায় থাকা হাই স্কুলের পড়ুয়ারা তাঁর নিজের সন্তানও হতে পারত। তাই তাঁদের পাশে দাঁড়ানো তাঁর কর্তব্য।
পুলিশের গ্যাসে লাল মেয়রের চোখ (France Protest)
বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ হওয়ার পর মেয়রকেও কাঁদানে গ্যাসের প্রভাবে চোখে অস্বস্তিতে ভুগতে দেখা যায়। তাঁর চোখ লাল হয়ে যায় এবং আই ড্রপ ব্যবহার করতে দেখা যায়। মেয়রের এই অবস্থান ইতিমধ্যেই ফ্রান্সের শিক্ষাব্যবস্থা, পুলিশি পদক্ষেপ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
আন্দোলনের আগুনে রাজনীতি (France Protest)
দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলন এখন শুধুই শিক্ষাক্ষেত্রের সমস্যা নিয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামাজিক বৈষম্য, অভিবাসন এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক। একদিকে আন্দোলনকারীরা উন্নত পরিকাঠামো ও পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের দাবি তুলছেন, অন্যদিকে পরিস্থিতিকে ঘিরে রাজনৈতিক মেরুকরণও ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Jammu Kashmir: জম্মু-কাশ্মীরে ১৫ হাজার অনুপ্রবেশকারী? ৬০০ বাংলাদেশিকে শনাক্ত করে বাংলায় ‘এয়ারলিফট’
ট্রাম্পের মন্তব্যে বিতর্ক আরও তুঙ্গে
এই আবহেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি দাবি করেছেন, ফ্রান্সের আন্দোলন কেবল শিক্ষার অধিকারের লড়াই নয়; এর নেপথ্যে রয়েছে ‘অনিয়ন্ত্রিত গণ-অভিবাসন’ এবং ফ্রান্সের মতো ঐতিহ্যশালী দেশের উপর ইসলামের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্দোলনের প্রকৃত কারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের মূল দাবির কেন্দ্রে রয়েছে স্কুলের পরিকাঠামো, শিক্ষক-সংকট এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগ—যে দাবিতে এখনও ফ্রান্সের রাজপথে অব্যাহত বিক্ষোভ।



