Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও জয়, হারলেও মন জয় করে নিল আইভরি কোস্ট (Germany vs Ivory Coast)।
নকআউট নিশ্চিত জার্মানির (Germany vs Ivory Coast)
ফুটবল বরাবরই অসম্ভবের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অন্যতম সম্ভাবনাময় খেলা। শুরু আর শেষের হিসেব পাল্টে যেতে সময় লাগে না। শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত নিশ্চিত হয়ে কিছু বলার জো নেই। খাতায় কলমের হিসেব আর ময়দানের হিসেব যে আলাদা সেটা বারবার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে এই বিশ্বকাপে (Germany vs Ivory Coast)।
২০১৪ সালে খেতাব জেতা জার্মানি এরপর দুই বার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল। কিন্তু এবার তাঁরা প্রথম ম্যাচ থেকেই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। প্রথম ম্যাচে ৭-১ গোলে জিতে এই ম্যাচে তাঁরা ছিল আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। অন্যদিকে আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্ট-ও লড়াই চালিয়ে গেল।
আফ্রিকার এই দেশ তথা আইভরি কোস্টের সামনে শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল জার্মানি। একটা সময় মনে হতে থাকে খেলা ঘুরে যেতে চলেছে, জার্মানি রাশ হারাতে চলেছে। কিন্ত সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হল আইভরি কোস্টকে। পিছিয়ে পড়েও জয় ছিনিয়ে নিল জার্মানি (Germany vs Ivory Coast)।

আরও পড়ুন: Algeria: মেসির নামে ফিফার কাছে নালিশ আলজেরিয়ার
আন্তর্জাতিক ফুটবলে শেষ ন’ম্যাচ জিতেছিল জার্মানি। তাদের বিজয়রথ প্রায় থামিয়ে দিয়েছিল আইভরি কোস্ট। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এক ভুলে ৯০ মিনিটের পুরো লড়াই মাঠেই থেমে গেল। পিছিয়ে পড়েও আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারাল জার্মানি। পরিবর্ত হিসাবে নেমে জোড়া গোলে নায়ক ডেনিজ উন্ডাভ। এই জয়ের ফলে ১২ বছর পর বিশ্বকাপের নক আউটে উঠল জার্মানি। ম্যাচ হারলেও মন জয় করে নিল এই আফ্রিকান দেশ (Germany vs Ivory Coast)।
ম্যাচের শেষে ম্যানুয়েল নয়্যারকে, কোচের আনন্দ উল্লাস বুঝিয়ে দিচ্ছিল এই ম্যাচ তাঁদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ২০১৪ সালের পর আর গ্রুপ পর্ব পার না করতে পারা যে জার্মানির মত দলের কাছে কতটা হতাশার ছিল সেটা আজ গ্রুপ পর্ব পার করার উল্লাসেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শেষ মিনিট পর্যন্ত তাঁরা লড়াই করল এবং জিতে মাঠ ছাড়ল।
তবে এই ম্যাচে আইভরি কোস্ট দেখিয়ে দিল, এই জার্মানিকেও সমস্যায় ফেলা যায় যাঁরা প্রথম ম্যাচে সাত গোল দিয়েছিল বিপক্ষকে। বিশ্বফুটবলে আইভরি কোস্টকে ডাকা হয় ‘দ্য এলিফ্যান্টস’ নামে। সেই হাতির হানায় বার্লিনের দুর্গ প্রায় ভেঙে পড়েছিল কিন্তু শেষ মুহূর্তে আগলে নিয়ে সবটা যেন নতুন করে সাজালেন বালকদের উত্তরসূরিরা। ওই যে, ফুটবলে গোলই শেষ কথা বলে। সেখানেই পিছিয়ে পড়ল দিদিয়ের দ্রোগবার দেশ আর জিতে গেল অলিভার কানের দেশ। তবে আইভরি যে ফুটবল টরন্টোর স্টেডিয়ামে খেলল তা মুগ্ধ করেছে ফুটবলপ্রেমীদের (Germany vs Ivory Coast)।
জার্মানির বিরুদ্ধে প্রতিআক্রমণের ছকে নেমেছিল আইভরি কোস্ট। সেটাই স্বাভাবিক কারণ এই বিশ্বকাপে একটা বিষয় স্পষ্ট যে রক্ষণাত্মক খেললে বিপদ বাড়ছে সেই জায়গায় আক্রমণ করা শ্রেয়। বড় দলের বিরুদ্ধে অপেক্ষাকৃত ছোট দল তাই করে। কিন্তু সেই প্রতিআক্রমণ কী ভাবে হচ্ছে, তার উপরেই নির্ভর করে ছোট দল কেমন ফল করবে। সেই প্রশ্নে প্রথমার্ধে ১০-এ ১০ পাবে আইভরি কোস্ট। ইয়ান দিয়োমান্দে নজর কাড়লেন। ১৯ বছরের এই ফুটবলার কেন এ বার ইউরোপের সেরা প্রতিভাবান ফুটবলার হয়েছেন তা বোঝালেন। হাসতে হাসতে জার্মানির অ্যাটাকিং থার্ডে ঢুকছিলেন তিনি। তবে তাঁর ফাইনাল ক্রস ও ফিনিশিংয়ের সমস্যা রয়েছে। তবে তাঁর পরিণত হওয়ার এখনও অনেক সুযোগ রয়েছে।
প্রথমার্ধে ফ্রাঙ্ক কেসির করা গোল আক্রমণাত্মক মনোভাবের সুফল। যদিও গোল করা উচিত ছিল আমাদ দিয়ালোর। দিয়োমান্দের ক্রস গোলের সামনে পেয়েছিলেন তিনি। সেই বল ম্যানুয়েল নয়্যার কোনও রকমে বাঁচালেও ফিরতি বলে গোল করেন কেসি (Germany vs Ivory Coast)।
প্রথমার্ধে দলের খেলায় খুশি হতে পারেননি নাগেলসম্যান কারণ সেখানে জার্মানি অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধে ৬০ মিনিটের মাথায় তিনটি বদল করলেন তিনি। নামিয়ে দিলেন উন্ডাভ, জেমি লিউইলিং ও নাদিম আমিরিকে। জার্মান কোচের এই চালেই বাজিমাত হল। উন্ডাভ আগের ম্যাচেও বেঞ্চ থেকে নেমে গোল করেছিলেন। এই ম্যাচেও তাই করলেন। তিনি নামার পর ডান প্রান্ত ধরে একের পর এক ক্রস তুলতে শুরু করলেন আমিরি, জোশুয়া কিমিচেরা। আমিরির তেমনই এক ক্রসে সমতা ফেরান উন্ডাভ। আর আইভরি কোস্টের রক্ষণ ভাঙতে থাকে বারবার (Germany vs Ivory Coast)।
ম্যাচের প্রথম ৬০ মিনিটে দাপট ছিল আইভরি কোস্টের। কিন্তু ৬০ মিনিটের পর থেকে একের পর এক আক্রমণ জার্মানির সেই দাপট ফিকে হয় যায়। এত বড় দলের বিরুদ্ধে এতটা রক্ষণাত্মক হয়ে গেলে তার ফল তো ভুগতে হবেই। একটা ভুল করলেই গোল। সেটাই হল। তবে তার পরেও কিন্তু ড্রয়ের জন্য খেলেনি আইভরি কোস্ট। তারাও আক্রমণ ভাগে বদল করে। সেই বদলই জয় আসতে পারত। নিকোলাস পেপে বল পেয়ে গতিতে সকলকে পরাস্ত করে জার্মানির বক্সে ঢোকেন। অরক্ষিত ছিলেন আদিংরা। তিনি চলতি বলে শট নিলে হয়ত গোলকিপার মিস করতেন কিন্তু বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে কিছুটা ভুল করে বসেন আর সুযোগ নষ্ট হয়।
শেষ তিন মিনিট জার্মানির শক্তি এবং গতির কাছে ক্লান্ত হয়ে পড়েন আইভরি-র প্লেয়াররা। প্রথম দিকের সেই গতি তখন নেই আর। সেই সুযোগটাই নিলেন উন্ডাভ। বিশ্বকাপে নিজের তিন নম্বর গোল করে জার্মানিকে নকআউটে তুললেন (Germany vs Ivory Coast)।


