Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হাওড়ার ক্ষীরেরতলা এলাকায় দিনের আলোয় যাত্রীবোঝাই একটি বাসে দাদাগিরি দেখাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের রোষের মুখে পড়ল এক দুষ্কৃতী (Howrah)। ৭২ নম্বর রুটের একটি বাসে তিন যুবকের তাণ্ডব, চালককে মারধর, বাস ভাঙচুর এবং কন্ডাক্টরের ব্যাগ ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন যাত্রীরা। প্রতিবাদে একজোট হয়ে তাঁরা তিন অভিযুক্তকে প্রতিরোধ করেন। দুই দুষ্কৃতী পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও একজনকে হাতেনাতে ধরে গণধোলাই দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে গ্রেপ্তার করে ব্যাটরা থানায় নিয়ে যায়।

চলন্ত বাসেই শুরু তাণ্ডব (Howrah)
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়ার ক্ষীরেরতলা এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় যাত্রীবোঝাই ৭২ নম্বর রুটের একটি বাসে আচমকাই উঠে পড়ে তিন যুবক। বাসে ওঠার পর থেকেই তারা চালকের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই বচসা হাতাহাতিতে পরিণত হয়। অভিযোগ, চালককে মারধর করার পাশাপাশি বাসের একাধিক কাঁচ ভেঙে ফেলে তারা। হঠাৎ এমন ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে।
ছিনতাইয়ের চেষ্টা হতেই প্রতিবাদে ফেটে পড়েন যাত্রীরা
ঘটনা আরও ভয়াবহ মোড় নেয় যখন অভিযুক্তরা বাসের কন্ডাক্টরের ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় দুষ্কৃতীদের দাপট ও তোলাবাজির অভিযোগে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ এদিন আর নীরব থাকেননি। বাসের ভেতরেই যাত্রীরা একজোট হয়ে তিন দুষ্কৃতীকে ঘিরে ফেলেন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে দুই যুবক পালিয়ে গেলেও একজনকে ধরে ফেলেন যাত্রীরা।

গণরোষের মুখে ধৃত দুষ্কৃতী (Howrah)
ধৃত যুবককে ঘিরে মুহূর্তের মধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উপস্থিত বহু যাত্রী ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং অভিযুক্তকে মারধর করেন। কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বাস চলাচলও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশের হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি (Howrah)
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় ব্যাটরা থানার পুলিশ। মারমুখী জনতার হাত থেকে ধৃত যুবককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পালিয়ে যাওয়া অপর দুই অভিযুক্তের খোঁজেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

‘ভয় নয়, প্রতিবাদ’, বার্তা সাধারণ মানুষের (Howrah)
এই ঘটনাকে অনেকেই সাধারণ মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘদিন ধরে দাদাগিরি, তোলাবাজি বা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ অনেক সময় নিরুপায় হয়ে নীরব থাকতেন। কিন্তু ক্ষীরেরতলার এই ঘটনা দেখিয়ে দিল, সুযোগ পেলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষও সংগঠিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেন।
তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধীকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়াই আইনের সঠিক পথ। গণপিটুনি বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ভবিষ্যতে আরও জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। তাই নাগরিকদের সাহসী ভূমিকার পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার উপর আস্থা রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: Cockroach janata party: সোনম অনশন ভাঙলেন, তবুও মোদির কড়া বার্তার পরও প্রতিবাদে অনড় পড়ুয়ারা
তদন্তে পুলিশ
পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। বাসে থাকা যাত্রীদের বক্তব্য সংগ্রহের পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পালিয়ে যাওয়া দুই অভিযুক্তকে শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



