Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্র ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই প্রকাশ্যে এল বিতর্কিত মন্তব্য (Humayun Kabir)। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির রেজিনগর কেন্দ্রের প্রার্থী গোলাম নবী আজাদের একটি বক্তব্যকে ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক চাঞ্চল্য। তাঁর বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যু কামনার ইঙ্গিত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও পুরো বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ছিল পুলিশি হয়রানি ও নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর অভিযোগ।
‘রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে পুলিশ’, অভিযোগ প্রার্থীর (Humayun Kabir)
গোলাম নবী আজাদ অভিযোগ করেন, তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের উপর পুলিশি চাপ তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতিতে তাঁরা রাতে ঘুমোতে পারছেন না, এমনকি কর্মীদের ‘লুকিয়ে’ চলাফেরা করতে হচ্ছে। এই অভিযোগের পরেই মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘‘ওকে যত তাড়াতাড়ি উপরওয়ালা টিকিট কাটিয়ে দেয়, ওরকম করে, সেইটারই তো দোয়া করব।’’
নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি (Humayun Kabir)
এর পাশাপাশি রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন গোলাম নবী আজাদ। তাঁর অভিযোগ, বেলডাঙা থানার আইসি আশুতোষ রায়ের নির্দেশে কাঁসারিপাড়া ও মির্জাপুর এলাকার সাধারণ ভোটারদের কাছ থেকে ভোটার ও আধার কার্ড জোর করে নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিককে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরানো উচিত। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এগুলিকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।
তিন দফা দাবি প্রার্থীর (Humayun Kabir)
নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো স্মারকলিপিতে তিনটি প্রধান দাবি জানানো হয়েছে। প্রথমত, বেলডাঙা থানার বর্তমান আইসি আশুতোষ রায়কে সমস্ত নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিরপেক্ষ পুলিশ আধিকারিক নিয়োগের দাবি করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, যাঁদের কাছ থেকে জোর করে ভোটার কার্ড নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ, তাঁদের পরিচয়পত্র ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনায় যুক্ত পুলিশকর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তৃতীয়ত, ভোটারদের আস্থা বজায় রাখতে বেলডাঙা থানা এলাকার ১০০ শতাংশ বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি করেছেন তিনি।
বাংলা ভাষা নিয়েও প্রশ্ন (Humayun Kabir)
মুর্শিদাবাদ জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় বাংলা ভাষায় সরকারি কাজকর্ম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন গোলাম নবী আজাদ। তাঁর হাতে থাকা একটি নথি দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, সেটি ইংরেজিতে দেওয়ার পর তার বাংলা অনুবাদও রয়েছে। এরপরই তিনি বাংলায় সরকারি ফাইল ও প্রশাসনিক কাজের প্রসঙ্গ তোলেন।
আরও পড়ুন: RG Kar Case: আরজি কর মামলায় ফের বিস্ফোরক দাবি নির্যাতিতার মায়ের
নির্বাচনী আবহে ভাষার ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক
রেজিনগরের উপনির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর রয়েছে। সেই আবহে একজন প্রার্থীর মুখে মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মৃত্যু কামনার ইঙ্গিত রয়েছে—এমন বক্তব্য সামনে আসায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে যেমন গোলাম নবী আজাদ পুলিশি হয়রানি ও ভোটারদের পরিচয়পত্র সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন, অন্যদিকে তাঁর ব্যবহৃত ভাষা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। নির্বাচনী প্রচারে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও রাজনৈতিক বক্তব্যের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আক্রমণের মাত্রা কতটা হওয়া উচিত, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।



