Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রকৃতির রুদ্ররূপে কার্যত বিপর্যস্ত জম্মু ও কাশ্মীর। সোমবার একের পর এক মেঘভাঙা বৃষ্টি , আকস্মিক বন্যা, প্রবল বর্ষণ এবং ঝোড়ো হাওয়ার জেরে উপত্যকার একাধিক জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে (Kashmir)। কোথাও নদী-নালা উপচে পড়েছে, কোথাও রাস্তা ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, আবার কোথাও বাড়িঘর ও শিবিরে ঢুকে পড়েছে বন্যার জল। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে, বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং ডাল লেকে আটকে পড়া চার কিশোরকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক জেলা (Kashmir)
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কুপওয়াড়া, শোপিয়ান, অনন্তনাগ, গন্দেরবল এবং বান্দিপোরা জেলার একাধিক এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগের খবর মিলতেই প্রতিটি জেলায় দ্রুত উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, SDRF এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবা যৌথভাবে উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছে।
৮০ জনকে নিরাপদে সরানো হল (Kashmir)
দক্ষিণ কাশ্মীরের শোপিয়ান জেলার জাভোরা, বুধেরহামা এবং কিজারসিন্দা এলাকায় পাহাড়ি অঞ্চলে হঠাৎ মেঘভাঙা বৃষ্টির ফলে প্রবল জলস্রোত নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। SDRF-এর উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৮০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে স্কুলের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও কর্মীরাও ছিলেন। প্রশাসনের দাবি, শোপিয়ানে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের সম্পত্তির ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব তৈরির কাজ চলছে।
কুপওয়াড়ায় প্রাণ গেল এক মহিলার (Kashmir)
সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে উত্তর কাশ্মীরের লোলাব উপত্যকার হিমলি এলাকায়। সেখানে মেঘভাঙা বৃষ্টির পর আকস্মিক বন্যার জেরে প্রাণ হারান নাসিমা বেগম নামে এক মহিলা। তিনি ওয়ারনো গ্রামের বাসিন্দা এবং মোহাম্মদ আইয়ুবের স্ত্রী। প্রবল জলস্রোতে ভেসে যাওয়ার পর পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল তল্লাশি চালিয়ে তাঁর দেহ উদ্ধার করে। এলাকায় এখনও ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের কাজ চলছে।
পহেলগামে আতঙ্ক, ক্ষতিগ্রস্ত সেতু ও রাস্তা (Kashmir)
অনন্তনাগ জেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র পহেলগামের বাটকুট এলাকায় আরেকটি মেঘভাঙা বৃষ্টির ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে পাহাড়ি জলধারা নেমে এসে ফ্ল্যাশ ফ্লাডের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অবিরাম বৃষ্টির ফলে আইশমুকাম–পহেলগাম সড়ক লাংনাই ব্রিজের কাছে বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে প্রবল জলস্রোতের ধাক্কায় লাংনাই বাটকুট সেতুরও ক্ষতি হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
নুনওয়ান বেস ক্যাম্পে জল ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত শিবির
পহেলগামের নুনওয়ান বেস ক্যাম্পেও প্রবল বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। ভারী বর্ষণের চাপে ক্যাম্পের একটি কংক্রিটের দেওয়াল ভেঙে পড়ে এবং বন্যার জল ঢুকে যায় শিবিরের ভিতরে। জলে একাধিক অস্থায়ী তাবু ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, স্বস্তির খবর এই ঘটনায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের কাজ শুরু করেছে।
গন্দেরবলে ঝোড়ো হাওয়ায় উড়ে গেল বাড়ির ছাদ
মধ্য কাশ্মীরের গন্দেরবল জেলার বাকুরা এলাকায় সন্ধ্যার দিকে প্রবল ঝোড়ো হাওয়ায় একটি বাড়ির ছাদ উড়ে যায়। পাশাপাশি একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও কোনও প্রাণহানি বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
বান্দিপোরায় উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত (Kashmir)
বান্দিপোরা জেলার এরিন এলাকায় মেঘভাঙা বৃষ্টির পর আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় SDRF-এর বিশেষ উদ্ধারকারী দল সমস্ত সরঞ্জাম নিয়ে মোতায়েন করা হয়েছে। সুমলার ও এরিন-সহ আশপাশের গ্রামগুলিতে প্রশাসন পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে এবং প্রয়োজন পড়লে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

ডাল লেকের মাঝখানে আটকে পড়া চার কিশোরকে উদ্ধার
শ্রীনগরের বিখ্যাত ডাল লেকে হঠাৎ প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার কারণে একটি ছোট নৌকা মাঝপথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। নৌকায় থাকা চার কিশোর বিপদের মুখে পড়ে। খবর পেয়ে হজরতবল SDRF-এর কুইক রেসপন্স টিম (QRT) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। অল্প সময়ের মধ্যেই চারজনকেই নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনা হয়। কোনও কিশোরই আহত হয়নি। উদ্ধারকারী বাহিনীর দ্রুত তৎপরতায় একটি সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।



