Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সেন্ট্রাল কলকাতা পোস্টাল ডিভিশনকে উত্তর ও পূর্ব কলকাতার মতো অন্যান্য ডিভিশনের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রস্তাবের প্রতিবাদে সরব হলেন ডাক বিভাগের কর্মীরা। ভারতীয় পোস্টাল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে যোগাযোগ ভবনের সামনে একযোগে বিক্ষোভ ও হাঙ্গার স্ট্রাইকে (Hunger Strike) সামিল হন কর্মীরা। সংগঠনের স্পষ্ট দাবি, ঐতিহ্যবাহী সেন্ট্রাল কলকাতা ডিভিশনের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বজায় রাখতে হবে এবং মার্জারের পরিবর্তে এর পরিকাঠামো ও পরিষেবার মান উন্নয়নে জোর দিতে হবে।
মার্জার কার্যকর হলে কর্মীদের কাজে জটিলতার আশঙ্কা! (Hunger Strike)
সংগঠনের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, এই মার্জার কার্যকর হলে কর্মীদের পোস্টিং, চাকরির নিরাপত্তা, কর্মীকল্যাণ এবং প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। দীর্ঘ ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে সেন্ট্রাল কলকাতা ডিভিশনে কর্মরত কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, ডিভিশনের স্বতন্ত্র পরিচয় ও প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে গেলে কর্মীদের ছুটি, গ্র্যাচুইটি, নথিপত্র এবং অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কাজকর্মে জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভারতীয় পোস্টাল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলের সার্কেল সেক্রেটারি স্বর্ণেন্দু চক্রবর্তী বলেন, “সেন্ট্রাল কলকাতা একটি ঐতিহ্যবাহী ডিভিশন। একে অন্য ডিভিশনের সঙ্গে মার্জ করা উচিত নয়। যেখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিভিশন বাড়ানো ও প্রশাসনিক পরিকাঠামো উন্নত করার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনকে অন্যের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রস্তাব উদ্বেগজনক।”
অন্যদিকে, সংগঠনের সেন্ট্রাল কলকাতা ডিভিশনের (Central Kolkata Division Merger) ডিভিশনাল সেক্রেটারি দেবদত্ত রায়ের বক্তব্য, এই মার্জারের ফলে শুধু কর্মীদের নয়, সাধারণ গ্রাহকদেরও সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে। তাঁর দাবি, এতদিন সেন্ট্রাল কলকাতা ডিভিশনের আওতায় থাকা গ্রাহকেরা নিজেদের এলাকার মধ্যেই বিভিন্ন পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করতে পারতেন। কিন্তু মার্জারের পরে তাঁদের নথিপত্র বা অন্যান্য প্রশাসনিক কাজের জন্য বেলগাছিয়া কিংবা নিউ টাউনের মতো দূরবর্তী এলাকায় যেতে হতে পারে।
আরও পড়ুন:IPAC Case: আইপ্যাক কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে চূড়ান্ত শুনানি শেষ, কিন্তু রায়দান স্থগিত
বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের কথা তুলে ধরে দেবদত্ত রায় বলেন, বউবাজার ও বড়বাজার এলাকার বহু গ্রাহকের বয়স ষাটের বেশি। তাঁদের কোনও পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের জন্য দূরে যেতে হলে যথেষ্ট ভোগান্তির আশঙ্কা (Hunger Strike) রয়েছে।

স্বর্নেন্দু চক্রবর্তী বলেন, রাজভবন, ফোর্ট উইলিয়াম, বিধানসভা ও রাইটার্স বিল্ডিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলি এই সার্কেলের মধ্যে রয়েছে। তাঁর মতে, ডিভিশনের কাঠামো বদলে গেলে ওই এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ গ্রাহকদের ডাক পরিষেবা সংক্রান্ত কাজেও অসুবিধা হতে পারে।
প্রস্তাবিত মার্জারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি
সংগঠনের বক্তব্য, তাদের আন্দোলন শুধুমাত্র কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়; ডাক বিভাগের পরিষেবা গ্রহণকারী সাধারণ মানুষের সুবিধা বজায় রাখাও এই আন্দোলনের অন্যতম উদ্দেশ্য। তাই সেন্ট্রাল কলকাতা ডিভিশনের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বজায় রাখা এবং প্রস্তাবিত মার্জারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
আরও পড়ুন:Mid Day Meal: শিশুদের পাতে পোকা মেশানো খাবার? তালাবন্দি শিক্ষিকা-সহায়িকা
হাঙ্গার স্ট্রাইক (Hunger Strike) চলাকালীন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলের চিফ পোস্টমাস্টার জেনারেলের আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেবদত্ত রায়। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁদের প্রস্তাবগুলি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি, বিষয়টি যাতে কর্মীদের স্বার্থের পরিপন্থী কোনও সিদ্ধান্তের দিকে না যায়, সে দিকেও নজর রাখার আশ্বাস মিলেছে বলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে।


