Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রাথমিক শিক্ষায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটতে পারে রাজ্য সরকার (School Education)। পড়ুয়ারা বছরভর কতটা শিখল, সেই অগ্রগতির মূল্যায়নের সঙ্গে এবার সরাসরি শিক্ষকদের দায়িত্ব ও জবাবদিহি যুক্ত করার ভাবনা রয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই এই ব্যবস্থা চালু হতে পারে। বছরের শেষে পড়ুয়াদের শেখার অগ্রগতি সন্তোষজনক না হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে তার কারণ ব্যাখ্যা করতে হতে পারে। এমনকি পরবর্তী ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর কর্মদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
একজন শিক্ষকই পড়াবেন সব বিষয়? (School Education)
প্রাথমিক স্তরে শিক্ষকতার কাঠামোতেও বদলের চিন্তাভাবনা চলছে। আলাদা আলাদা বিষয়ের জন্য পৃথক শিক্ষক না রেখে একজন শিক্ষককে একাধিক, এমনকি সব বিষয় পড়ানোর দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এর ফলে শিক্ষক-পড়ুয়া অনুপাত কমানোর পাশাপাশি শিক্ষকদের উপর আরও সরাসরি দায়িত্ব বর্তাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কমবে শিক্ষক-পড়ুয়ার অনুপাত (School Education)
বৃহস্পতিবার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদে প্রশাসনিক, পরিকাঠামো এবং পঠনপাঠন সংক্রান্ত বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে প্রায় ২৬ জন পড়ুয়া পিছু একজন শিক্ষক রয়েছেন। মাধ্যমিকে এই অনুপাত আরও বেশি—প্রায় ৫০ থেকে ৬২ জন পড়ুয়া পিছু একজন শিক্ষক। প্রাথমিকে অন্তত ১৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করা গেলে অনুপাত ২০ জন পড়ুয়া পিছু একজন শিক্ষকে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইংরেজি মাধ্যম নিয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত (School Education)
রাজ্যের বিভিন্ন স্কুল থেকে বাংলা মাধ্যমের পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যম চালুর আবেদনও আসছে। তবে শুধুমাত্র পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে মাধ্যম পরিবর্তনের পক্ষপাতী নয় সরকার। সংশ্লিষ্ট এলাকার চাহিদা, বাংলা মাধ্যমের ভবিষ্যৎ এবং আশপাশের স্কুলগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয় বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আবেগ নয়, তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
পরিকাঠামো ও সেমেস্টার নিয়েও নজর (School Education)
স্কুলের শৌচালয়, পানীয় জল ও পরিচ্ছন্নতার মতো মৌলিক পরিষেবার উন্নয়নেও জোর দেওয়া হয়েছে। দুর্বল পরিকাঠামোর স্কুলগুলিকে ধাপে ধাপে উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিকে সেমেস্টার পদ্ধতি নিয়েও শিক্ষকদের একাংশের আপত্তির কথা উঠে এসেছে। পড়ুয়ারা যথাযথভাবে উপকৃত হচ্ছে কি না, তা পর্যালোচনা করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: Cyclone Arnab Effect: ৩১টি বাড়ি ধূলিসাৎ, বিদ্যুৎ বিপর্যয়! বিপর্যস্ত অন্ধ্রে মৃত ৩
যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে কাজেই
সব মিলিয়ে শিক্ষা প্রশাসনে এবার আরও বেশি জবাবদিহির বার্তা স্পষ্ট। নবনিযুক্ত শিক্ষা পর্ষদ ও সংসদের চেয়ারম্যান এবং সদস্যদেরও জানানো হয়েছে—যোগ্যতার ভিত্তিতে দায়িত্ব পাওয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই সেই যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে কাজের মাধ্যমে। শিক্ষকতার মান, নিয়োগে স্বচ্ছতা, বদলি, প্রশাসনিক দুর্নীতি এবং স্কুলের পঠনপাঠনের গুণমান—সব ক্ষেত্রেই নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক শিক্ষায় প্রস্তাবিত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে শিক্ষকতার মূল্যায়নেও নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।



