Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গোটা দেশকে স্তম্ভিত করে দিয়ে ২০২৫ সালের ২১ জুলাই দেশের উপরাষ্ট্রপতি পদে ইস্তফা দিয়েছিলেন জগদীপ ধনকড় (Jagdeep Dhankhar)। প্রাক্তন রাজ্যপাল তথা দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদাধিকারীর সেই আকস্মিক পদত্যাগের পর কেটে গিয়েছে এক বছরেরও বেশি সময়। কিন্তু আজও মাথার ওপর সরকারি ছাদ পাননি ভারতের প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি। অসুস্থ শরীরে বর্তমানে বাধ্য হয়ে তিনি দিন কাটাচ্ছেন হরিয়ানার রাজনৈতিক নেতা অভয় সিং চৌটালার ফার্মহাউসে।
পাননি সরকারি বাংলো! (Jagdeep Dhankhar)
১৯৯৭ সালের ‘ভাইস প্রেসিডেন্টস পেনশন অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, দেশের প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতিরা একাধিক সরকারি সুযোগসুবিধার অধিকারী। এর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট পরিমাণ মাসিক পেনশন, বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা এবং নিখরচায় বিমান ও রেল যোগাযোগের সুযোগ। শুধু তাই নয়, প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতিদের (Jagdeep Dhankhar) জন্য বরাদ্দ থাকে দেশের সর্বোচ্চ স্তরের অর্থাৎ ‘টাইপ-৮’ বাংলো। নিয়ম অনুযায়ী, ভারতের যেকোনও পছন্দসই স্থানে বিনামূল্যে বাংলো পাবেন তিনি, যার জল, বিদ্যুৎ, ফোন সংযোগ এবং আসবাবপত্রের সমস্ত খরচই বহন করবে কেন্দ্র।
আরও পড়ুন:Expired Food Scam: মেয়াদ পেরোনো খাবারেই নতুন তারিখ! গুদামে বড়সড় জালিয়াতির পর্দাফাঁস
তবে উঠে এসেছে বিস্ফোরক তথ্য। পদত্যাগের এক বছর অতিক্রান্ত হলেও কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের তরফে এখনও কোনও সরকারি আবাসন হস্তান্তর করা হয়নি ধনকড়কে (Jagdeep Dhankhar)। তাঁর পূর্বসূরি এম ভেঙ্কাইয়া নায়ডু ইস্তফা দেওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে সরকারি বাংলো পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ধনকড়ের ক্ষেত্রে এই চরম অনীহা কেন, তা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
জানা গিয়েছে, ইস্তফার প্রায় ৬ সপ্তাহ পর অস্থায়ীভাবে থাকার জন্য হরিয়ানার চণ্ডীগড়ে ওমপ্রকাশ চৌটালার পুত্র অভয়ের ফার্মহাউসে উঠেছিলেন ধনকড়। কিন্তু সাময়িক সেই বাসস্থানই এখন তাঁর স্থায়ী ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। গত জুলাই মাসে জয়পুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল প্রাক্তন এই উপরাষ্ট্রপতিকে (Jagdeep Dhankhar)। সেখানে তাঁর অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টিও করাতে হয়। হৃদরোগ সহ একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগলেও নিজের অধিকারের আবাসন থেকে বঞ্চিত রয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: Zomato: জোম্যাটোয় ফের ছাঁটাইয়ের ছায়া, ২৪০ কর্মীকে সরানোর সিদ্ধান্ত!
২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে রাজভবনে দায়িত্ব পালনের পর দেশের উপরাষ্ট্রপতি হন জগদীপ ধনকড় (Jagdeep Dhankhar)। বর্তমানে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যাওয়া ধনকড় এই বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব। কেন্দ্রীয় আবাসন মন্ত্রকের তরফেও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, দেশের একজন প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতির কপালে কেন সরকারি উদাসীনতা?


