Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মসজিদ থেকে মাইক খোলার মামলার শুনানিতে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্রর বেনজির সংঘাত(Mosque Mike HC)। ‘চটি চাটা’ বনাম ‘বুট চাটা’ মন্তব্যে উত্তাল এজলাস। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। মসজিদ থেকে মাইক খোলার অভিযোগ প্রসঙ্গে পুলিশ কী পদক্ষেপ করেছে, তা আগামী মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট পরবর্তী শুনানিতে রাজ্যকে রিপোর্ট আকারে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
শুনানিতেই এজলাসে নজিরবিহীন সঙ্ঘাত (Mosque Mike HC)
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চে মসজিদ থেকে মাইক খোলার অভিযোগ নিয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার শুনানি চলছিল। আর সেই শুনানিতেই এজলাসে নজিরবিহীন সংঘাতে জড়ালেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র। মামলাকারী দানিশ ফারুকী আদালতে দাবি করেন, শ্রীরামপুর, রিষড়া, চাঁপদানি, ভদ্রেশ্বর সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মসজিদ থেকে মাইক জোর করে খুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে পুলিশ।
মামলাকারী আইনজীবী আরও দাবি করেন ১৯৯৯ সালে এই কলকাতা হাইকোর্ট আজানের জন্য মসজিদে লাউড স্পিকারের শব্দের মাত্রা (ডেসিবল) বেঁধে দিয়েছিল। ২০২৩ সালেও সরকারি নির্দেশিকা এবং পরবর্তী বিভিন্ন রায়ে নির্দিষ্ট ডেসিবেল মেনে মাইক ব্যবহারের অনুমোদন রয়েছে। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশি চাপের জন্য জনস্বার্থ মামলা দায়ের করতে তারা বাধ্য হয়েছেন। প্রায় ৪ হাজার লাউডস্পিকার খুলে নেওয়ার জন্য ইমামদের ওপর পুলিশ মৌখিকভাবে চাপ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন মামলাকারী আইনজীবী(Mosque Mike HC)।
এই সওয়াল জবাবের মাঝেই হঠাৎ করে তৃণমূল সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাঁড়িয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির কাছে অভিযোগ করেন যে রাজ্যের এডভোকেট জেনারেল নাকি তাঁকে ‘চটি চেটে খায়’ বলে কুরুচিকর মন্তব্য করে ব্যক্তি আক্রমণ করেছেন। তারপরই এজি-এর বিরুদ্ধে পাল্টা ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে কল্যাণ তাঁকে ‘শুভেন্দু অধিকারীর বুট চেটে খাওয়া অ্যাডভোকেট জেনারেল’ বলে কটাক্ষ করেন।
দু’জনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে বেরিয়ে যেতে থাকে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এবং এজলাস ভর্তি আইনজীবীদের সামনেই বেনজির সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুরজিৎ নাথ মিত্র। দু’ই পক্ষকে থামাতে অবশেষে আসরে নামেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। অবশেষে তাঁর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়(Mosque Mike HC)।
এজলাস থেকে বেরিয়ে আবারও রাজ্যের এজি-কে তীব্র আক্রমণ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্ষিয়ান আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি অমিত শাহর বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার জন্য সংসদে আমাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। আর পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকারই উকিলদের অপ্রাসঙ্গিক ও অযৌক্তিক অভিযোগ তোলার বদভ্যাস হয়ে গিয়েছে। বেশিরভাগ সংবেদনশীল মামলায় রাজ্য সরকার হারছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করে যাঁদের জেলে ঢোকানো হচ্ছে তাঁরা জামিন পেয়ে যাচ্ছেন। ফলে ওদের চাপ বাড়ছে। আর এই চাপ থেকেই এরাম দুর্ব্যবহার করছে।’
এরপরই রাজ্যের এজি-কে আক্রমণ করে কল্যাণ বলেন, ‘একজন দেওয়ানী আদালতের উকিল কখনও সাংবিধানিক আইন বোঝেন নাকি? সংবিধান সংক্রান্ত কোনও ধারণা ছাড়াই স্রেফ টেকনিক্যাল পয়েন্ট তুলে সময় নষ্ট করছে(Mosque Mike HC)।
এদিন এই জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে মামলার গ্রহণ যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাজ্যের আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য্য। পাল্টা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি করেন, পুলিশ জুতো পরে মসজিদের উপর উঠে মাইক খুলছে। কোন জেলা থেকে কতগুলো মসজিদ থেকে মাইক খোলা হয়েছে, সেই নির্দিষ্ট তথ্য আদালতে জমা দিতে নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের কাছে আবেদন করেন সমস্ত মসজিদে পুনরায় মাইক লাগানোর অনুমতি দেওয়া হোক। ধর্মীয় আচার পালনে কেন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ হবে সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। বুসিয়ান আইনজীবী দাবি করেন, শুধুমাত্র হুগলি জেলার চাঁপদানিতেই ১০০টি মসজিদ থেকে মাইক জোর করে খুলিয়ে দিয়েছে পুলিশ।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আজান দিতে কেউ বাধা দিচ্ছে না। সকাল সাতটার পর কি মামলাকারী আজানের জন্য শব্দবিধি মেনে মাইক ব্যবহারের অনুমতি চাইছেন? যদি সত্যিই ৪ হাজার মাইক খুলে নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে রাজ্যকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানাতে হবে(Mosque Mike HC)।’
তখন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল বলেন, আদালত যদি কোনও অন্তবর্তী নির্দেশ না দেয় তাহলে রাজ্য তার অবস্থান আদালতকে জানাতে পারবে। আর যদি অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হয় তাহলে এই মামলা খারিজ করার জন্য আবেদন করা হবে। কারণ শুধুমাত্র মৌখিক অবস্থানের উপর দাঁড়িয়ে এই মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন এজি।
মামলাকারীর অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে এজি বলেন,’পুলিশ বৈঠকের জন্য ডেকেছে বলে বলা হচ্ছে। কোন অফিসার? তাঁর নাম কী? কোনও পুলিশ মাইক খোলার নির্দেশ বা চাপ দেয়নি। ৪ হাজার মাইক খোলা হয়েছে বলা হয়েছে। অথচ একজন ইমামও এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ জানাতে আসেননি(Mosque Mike HC)।’
আরও পড়ুন: US Fake Marriage: গ্রিন কার্ডের তাড়নায় বিয়ের ছল: আমেরিকায় কোটি টাকার প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস
এই জনস্বার্থ মামলায় এদিন যতটুকু শুনানি হয়েছে তার ভিত্তিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ পুলিশের থেকে রিপোর্ট তলব করেছে। জোর করে মসজিদের মাইক খোলার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এখনও পর্যন্ত কী পদক্ষেপ করেছে, তা রিপোর্ট আকারে রাজ্যকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত(Mosque Mike HC)। আগামী মঙ্গলবার তথা ১৮ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি। ওইদিন পুলিশকে রিপোর্ট দিতে হবে হাইকোর্টে।



