Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দীর্ঘদিন ধরে কলকাতার ভোর মানেই কর্পোরেশনের বাঁশির আওয়াজে ঘুম ভাঙা (Kolkata Municipal Corporation)। সেই পরিচিত সুর শহরবাসীর জীবনের অংশ হয়ে উঠেছিল বটে, কিন্তু অনেকের কাছেই তা ছিল বিরক্তির কারণ। এবার সেই চেনা বাঁশির আওয়াজ ইতিহাস হতে চলেছে। কলকাতা পুরসভা এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভোরবেলা শহরের পথে পথে বর্জ্য সংগ্রহের গাড়ি আর বাঁশি নয় শোনা যাবে সুরেলা গান!
পুরসভার অভিনব পরিকল্পনা (Kolkata Municipal Corporation)
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত ময়লা তোলার গাড়িগুলিতে সাউন্ড বক্স বসানোর পরিকল্পনা করেছে। এই সাউন্ড বক্সে বাজবে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক বাংলা গান, ছড়া ও সচেতনতামূলক বার্তা। উদ্দেশ্য একটাই শহরবাসীর মধ্যে সচেতনতা ও আগ্রহ বাড়ানো। পুরসভা আধিকারিকদের ভাষায়, “দীর্ঘদিনের বাঁশির একঘেয়েমি কাটিয়ে শহরকে দিতে চাই নতুন রূপ। গান মানে আনন্দ, আর সেই আনন্দের সুরেই আমরা চাই পরিচ্ছন্নতার বার্তা পৌঁছোক ঘরে ঘরে।”
শুরু কয়েকটি ওয়ার্ডে (Kolkata Municipal Corporation)
প্রথমে কলকাতার কয়েকটি নির্বাচিত ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে এই প্রকল্প। প্রতিটি ওয়ার্ডে অন্তত একটি ‘গান-বাজানো গাড়ি’ চলবে। সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে এই গাড়িগুলি বর্জ্য সংগ্রহ করবে। পুরসভার পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব এলাকায় বর্জ্য সংগ্রহের হার তুলনামূলকভাবে কম, সেখান থেকেই শুরু হবে এই সুরেলা প্রচেষ্টা। ভবিষ্যতে বাকি গাড়িগুলিতেও পেনড্রাইভের মাধ্যমে গান চালানোর ব্যবস্থা করা হবে।
বাঁশির বদলে গান, বেশ মজার লাগবে (Kolkata Municipal Corporation)
শহরবাসীর একাংশ নতুন এই উদ্যোগে খুশি। দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা সুমনা মুখার্জি বলেন, “প্রতিদিন ভোরে বাঁশির শব্দে ঘুম ভাঙত, অনেক সময় বিরক্ত লাগত। এখন যদি গান শুনে দিন শুরু হয়, সেটি আনন্দেরই হবে।”বঅন্য এক বাসিন্দার কথায়, “গানের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করা দারুণ আইডিয়া। এতে পরিবেশও ভালো থাকবে, আর মনও প্রফুল্ল হবে।”
গানের মাধ্যমেই সচেতনতা কি ফিরবে? (Kolkata Municipal Corporation)
এটাই প্রথম নয়। এর আগেও ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে গানের ব্যবহার করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল কলকাতা পুরসভা। স্থানীয় শিল্পীদের দিয়ে তৈরি সেই গানগুলির মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা হয়েছিল, এবং তা কার্যকর হয়েছিল উল্লেখযোগ্যভাবে। সেই অভিজ্ঞতাই এবার কাজে লাগানো হচ্ছে বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থাপনায়। এক পুর আধিকারিক বলেন, “গান মানুষের মনে সহজে পৌঁছয়। তাই বাঁশির বদলে গানের সুরেই এবার আমরা ছড়িয়ে দিতে চাই পরিচ্ছন্নতার বার্তা।”
আরও পড়ুন: KKR: জল্পনার অবসান, কলকাতার নতুন হেড কোচ অভিষেক নায়ার
পরিচ্ছন্ন কলকাতার নতুন প্রতীক
পুর কর্তৃপক্ষের আশা, এই উদ্যোগ শহরবাসীর মধ্যে নতুন উদ্দীপনা আনবে। বর্জ্য সংগ্রহের নিয়মিত অভ্যাস গড়ে উঠবে। আর শহরের সকাল হবে আরও প্রাণবন্ত, সুরেলা ও সচেতন। যদি প্রকল্পটি সফল হয়, তবে খুব শিগগিরই পুরো কলকাতাজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে এই ‘সুরেলা সকাল’-এর উদ্যোগ। তখন আর বাঁশির একঘেয়ে শব্দ নয় কলকাতার রাস্তায় বাজবে গানের তালে “পরিচ্ছন্ন কলকাতা, সুন্দর ভবিষ্যতের প্রতীক”-এর নতুন সুর।



