Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গত চব্বিশ ঘণ্টায় আর্জেন্টিনা ফুটবল টিমের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে একের পর এক বার্তা (Lionel Messi)। কোথাও লেখা—‘স্বাগতম ক্যাপ্টেন’, কোথাও আবার—‘রাজা ঘরে ফিরেছে’। খাতা-কলমে হয়তো বেনিনের বিরুদ্ধে নিছক একটা প্রীতি ম্যাচ! কিন্তু কিছু ম্যাচ থাকে, যা কেবল নব্বই মিনিটের মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকে না। কিছু রাত থাকে, যা শেষ হয়েও শেষ হতে চায় না। থেকে যায় স্মৃতির চিরন্তন অ্যালবামে, গ্যালারির চোখের জলে, আর অগণিত মানুষের আবেগে। বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে বুধ-ভোরে তেমনই এক মহাজাগতিক রাত নামতে চলেছে। যে রাতে পঁচাশি হাজারের স্টেডিয়াম গর্জাবে কেবল একটিই নামে—লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।
হার থেকে বিশ্বজয়ের রূপকথা (Lionel Messi)
মাস দু’য়েক আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন এক বার্তা দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ফুটবলের ঈশ্বর কি আর এত নিঃশব্দে বিদায় নিতে পারেন? আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন তাই ঘরের মাঠে এই বিশেষ ম্যাচের আয়োজন করেছে—প্রিয় অধিনায়ককে তাঁর প্রাপ্য সম্মান জানাতে।
আরও পড়ুন: Suryakumar Yadav: ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেও বাদ সূর্যকুমার যাদব, ভবিষ্যৎ কি বিশ বাঁও জলে?
একটা সময় ছিল, যখন এই দেশের মানুষই প্রশ্ন তুলতেন, ‘ক্লাবের মেসি দেশের হয়ে কোথায়?’ একের পর এক ব্যর্থতা, ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালের বিষাদ, পর পর কোপা আমেরিকার হার… ২০১৬-র ফাইনালে চিলির কাছে হেরে ভেঙে পড়েছিলেন মেসি। কান্নাভেজা চোখে বলেছিলেন, ‘আমি আর ফিরছি না।’ কিন্তু গল্পটা সেখানে শেষ হলে তো তিনি সাধারণ পাঁচজনের একজন হয়েই থেকে যেতেন! মেসি ফিরলেন, আর লেখা শুরু হলো ফুটবলের সবচেয়ে মায়াবী রূপকথা। প্রথমে ব্রাজিলের মারাকানায় কোপা জয়, ইতালিকে গুঁড়িয়ে ফিনালিসিমা, আর অবশেষে দোহার সেই ঐতিহাসিক রাত—ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বজয়ের অধরা মাধুরী স্পর্শ।
ইতিহাসের যবনিকাপতন (Lionel Messi)
এবার তবে সত্যিই শেষ! মনুমেন্টালের গ্যালারিতে শেষবারের মতো প্রতিধ্বনিত হবে পরিচিত সেই গর্জন—‘মেসি… মেসি… মেসি…’। শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী নীল-সাদা ১০ নম্বর জার্সিতে দৌড়বেন তিনি, সতীর্থদের কাঁধে হাত রেখে শেষবারের মতো গাইবেন জাতীয় সঙ্গীত। সেই মুহূর্তে হয়তো বিশ্বজয়ীর চোখেও জল নামবে, কারণ এই জার্সির সঙ্গে শুধু ফুটবল জড়িয়ে নেই; জড়িয়ে রয়েছে শৈশবের শৈশব-কৈশোরের স্বপ্ন, ব্যর্থতার তীব্র যন্ত্রণা আর ইতিহাস গড়ার চূড়ান্ত আনন্দ।
ভালোবাসার নিবেদন (Lionel Messi)
যাঁরা একসময় প্রশ্ন তুলেছিলেন, আজ তারাই বিদায়বেলায় সবচেয়ে ভারাক্রান্ত (Lionel Messi)। স্টেডিয়ামের ভেতরের পঁচাশি হাজার দর্শক তো স্রেফ এক ভগ্নাংশ, বাইরে থাকবেন অগণিত অনুরাগী। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি যেমন বলছিলেন, “যদি পাঁচটা মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামও থাকত, সেটাও পূর্ণ হয়ে যেত। সবাই ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছে, মেসি নিজেও। এই অবিস্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে পারাটাও এক পরম সৌভাগ্য।”
আরও পড়ুন: France vs Belgium: জিদানের মাস্টারস্ট্রোকে বেলজিয়ামকে উড়িয়ে ফ্রান্সের জয়
সময়ের নিয়মে সবাইকে থামতে হয়, ফুটবলের জাদুকরকেও থামতে হচ্ছে। বুয়েনস আইরেসের রাতের আকাশ তাই আজ কেবল একটি প্রীতি ম্যাচের সাক্ষী থাকবে না—সাক্ষী থাকবে বহু বছরের যন্ত্রণা, জয় এবং এক ভালোবাসার মহাকাব্যিক সমাপতনের।



