Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: একদিকে তাঁকে প্রায় পাঁচজন্য ডিফেন্ডার ঘিরে রেখেছে সামনে গোলকিপার, কিন্তু যাকে ঘিরে রেখেছে তাঁর নাম মেসি। সব বাধা কাটিয়ে নিখুঁত শটে গোল (Lionel Messi)।
মেসি ভক্তদের জন্য ‘গোট নাইট’ (Lionel Messi)
মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক দীর্ঘ এবং বর্ণময় ইতিহাস রয়েছে যা এক দ্বন্দ্বযুদ্ধের প্রতীক হয়ে থেকে গেছে। ষোড়শ শতকে এটি ইউরোপে বিবাদ মেটানো এবং সম্মান রক্ষার একটি উপায় হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তবে এর উল্লেখ কিন্তু মহাভারতেও রয়েছে। যেখানে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের শেষ লগ্নে ভীম আর দুর্যোধনের মধ্যে। সেই গদা যুদ্ধ কিন্তু আসলে ডুয়েল (Lionel Messi)।
ডুয়েল কথার অর্থ হল দুই বীর বা যোদ্ধার মধ্যে প্রাণঘাতী অস্ত্র নিয়ে লড়াই, যেখানে ফলাফল বলতে একজনের প্রাণ নাশ কার্যত প্রায় নিশ্চিত। উদ্দেশ্য একে অপরকে আহত করা। কখনও কখনও মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। এই লড়াই ঘটে থাকতো প্রেয়সীকে পাওয়ার অদম্য ইচ্ছের জন্য। এমন লড়াই আমরা নানা মহাকাব্যে দেখতে পাই। সময়টা ১৭ অগাস্ট ১৭৮০। ভোর সাড়ে পাঁচটায় তৎকালীন বাংলার গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস সাহেব আর ফিলিপ ফ্রান্সিস, বাংলার গভর্নিং কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ঘোড়া চালিয়ে উপস্থিত হন ‘বেলভেডিয়ার এস্টেটের’ (ন্যাশনাল লাইব্রেরি) সামনে (Lionel Messi)।
জন-মানবহীন নির্জন এই জায়গাকে লড়াইয়ের উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করে ১৪ পায়ের স্টেপ গুনে চকিতে ঘুরে একে অপরের দিকে গান ফায়ার করেন। পরাধীন ভারতে সেদিন সূর্যোদয়ের প্রাক্কালেই ঘটে যায় সেই ‘ডুয়েল’ আর এর ইতিহাস আজও টাটকা। এই একই ডুয়েল দেখা গেল আজকের বিশ্বকাপের মঞ্চে।
আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়ার ম্যাচে যাঁর দিকে সবথেকে বেশি নজর ছিল তিনি সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার মেসি। বিপক্ষের কোচ জানেন যে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া মানে ম্যাচ মাঠে ছেড়ে আসা। জোনাল মার্কিং থেকে ম্যান মার্কিং হয়ত সব পরিকল্পনাই তিনি করেছিলেন কিন্তু মেসিকে আটকানো তাঁর দলের পক্ষে ছিল অসম্ভব। সেটাই হল, ঈশ্বরের তৈরি মঞ্চে ফুটবলের রাজপুত্র এলেন নিজের রাজ্যপাট বুঝে নিয়ে আবার চলে গেলেন। মাঝে থাকল রেকর্ড, ম্যাচ জয়, সমকর্থদের উল্লাস, বিপক্ষের আর্তনাদ আরও কত কী।
তবে একটা ফুটবল ম্যাচকে কেন ডুয়েল বলে উল্লেখ করছি সেটাই ভাবছেন তো? ডুয়েল সাধারণভাবে হয় একজনের সঙ্গে আরেকজনের আর এখানে একদিকে বিপক্ষ যাঁরা একটাই দল আর অন্যদিকে একা মেসি। এটাও সেই ওয়ান টু ওয়ান লড়াই (Lionel Messi।)
আরও পড়ুন: Rudranil Ghosh: “সাংস্কৃতিক জগতে নতুন দিগন্ত খুলে দিল এই বাজেট!” কী বললেন রুদ্রনীল
পেনাল্টি নষ্ট যেন আজ ঈশ্বরের ইচ্ছেয়। কারণ বহুবার পেনাল্টি নিয়ে কটূক্তি শুনতে হয়েছে মেসিকে। যদিও পেনাল্টিও অত সহজ নয় তবে ঠান্ডা ঘরে বসে এসব আর কে ভাবে। তর্কে আসল সবই যেন মুখরোচক। তবে এই দিন সেই নিন্দুকদেরও যেন মুখ খুলতে দেবেন না বলেই ঠিক করে নিয়েছিলেন মেসি। সেই বিখ্যাত বাংলা সিনেমার দৃশ্য মনে পড়ে যেতে বাধ্য যেখানে উত্তম কুমার বলছেন তাঁর দলের সেরা খেলোয়াড় বগাকে যে ‘তাঁর দল পেনাল্টিতে গোল করবে না।’ সেটাই যেন আজকের ম্যাচে হল।
মেসিকে ঘিরে রেখেছেন চার থেকে পাঁচ জন। সামনে গোলকিপার। কিন্তু তাঁরা পারলেন না কারণ তাঁদের সামনে মেসি। তিনি বারবার বিপক্ষের বক্সে ঢুকলেন হাসতে হাসতে এবং গোল করে বেরিয়ে এলেন। এই গোল এবং জয় মেসির কাছে বিশেষ কারণ এখন বিশ্বকাপের সবথেকে বেশি গোলের মালিক তিনি। বিশ্বকাপে মেসির গোল সংখ্যা ১৮। এই ম্যাচ জিতিয়ে দলকে নিয়ে গেলেন পরের পর্বে। গতবারের বিশ্বকাপজয়ী মেসির এবারের লক্ষ্যও যে খেতাব জয় সেটা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না (Lionel Messi)।


