Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ৪ ঘন্টা ধরে চলা ম্যাচে ঝড় তুললেন কিলিয়ান এমবাপে। তাঁর জোড়া গোলে নকআউটে ফ্রান্স।
ক্লোজেকে ছুঁলেন এমবাপে
এর আগের ম্যাচেই জোড়া গোলে আবার নায়ক লিয়োনেল মেসি। ঠিক ৪০ বছর আগে এই ২২ জুন দিনটিকে দিয়েগো মারাদোনা ফুটবল ইতিহাসের পাতায় তুলে দিয়েছিলেন ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল করে, সেই নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ইতিহাসের পাতায় এর স্থান থাকবেই। একই দিনে মেসি রচনা করলেন অন্য এক কীর্তি।
অস্ট্রিয়া ম্যাচেই বিশ্বকাপের নকআউট নিশ্চিত করে নিতে চেয়েছিলেন লিয়োনেল স্কালোনি। আর সেটাই করে দিলেন মেসি। এই দিন যেমন মেসি নিজের নামে সবথেকে বেশি গোলের রেকর্ড লিখলেন। তারপরের ম্যাচেই আবার দেখা গেল এমবাপের জাদু। তিনিও বার্তা দিলেন যে তিনিও পিছিয়ে নেই।
এমবাপেও নিজের নামে লিখলেন এক নতুন রেকর্ড। বয়সের নিরিখে সবথেকে কম বয়সে বিশ্বকাপে ১৫ গোলের রেকর্ড এখন এই ফ্রান্স তারকার দখলে। ওলিসের পাসে গোল করে এই রেকর্ড নিজের নামে করলেন তিনি।
এর সঙ্গে তিনি একদিকে ভাঙলেন ব্রাজিল তারকা রোনাল্ডোর রেকর্ড। আবার ছুঁলেন ক্লোজেকে। সামনে এখন মেসি। প্রত্যাশা যেমন ছিল তেমনটাই হল। ইরাককে ফ্রান্সের কাছে হারতে হল ৩-০ গোলে। এই ম্যাচে আবারও জোড়া গোল করে নায়ক এমবাপে। তবে এই ম্যাচে আলোচনায় মার্কিন আবহাওয়া। দেড় ঘন্টার ম্যাচ চলল ৪ ঘন্টা ধরে। যেখানে বিরতি হয় ১৫ মিনিটের ঝড় বৃষ্টির কারণে সেটা হল ১৩১ মিনিটের। যে ম্যাচ শেষ হয়ে যেত ৪টে নাগাদ সেই ম্যাচ যখন শেষ হল তখন প্রায় সাড়ে ৬টা বাজে।
ফিলাডেলফিয়াতে যে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে তা আগেই জানা গিয়েছিল। বিরতির সময়েই জানা যায়, স্টেডিয়ামের কাছাকাছি ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। ধীরে ধীরে স্টেডিয়ামেও তা শুরু হয়। দর্শকেরা গ্যালারির ভিতরের দিকে আশ্রয় নেন। প্রবল বৃষ্টি দেখে এক এক সময় মনে হচ্ছিল, আদৌ খেলা শুরু করা যাবে তো। এক সময় হাল ছেড়ে দেওয়ার উপক্রম তৈরি হয়। আমেরিকায় এই দৃশ্য মাঝেমাঝেই দেখা যায়। ফলে সেখানকার ফুটবল স্টেডিয়ামের নিকাশি ব্যবস্থা সে ভাবেই করা। বৃষ্টি থামলে যাতে দ্রুত খেলা শুরু করা যায়।
আমেরিকার এক নিয়মের কারণে খেলা শুরু হতে দেরি হয় আরও । সেই নিয়মে বলা, স্টেডিয়ামের ৮ মাইলের মধ্যে যদি কোথাও ঝড় বা বজ্রপাত চলে সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচ বন্ধ করে দিতে হবে। ঝড়বৃষ্টি থামার পর ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। যদি তার মধ্যে বজ্রপাত না হয় তো খেলা শুরু হবে। আর যদি আবার বজ্রপাত হয় তা হলে আরও ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এই নিয়মের জন্যই দেড় ঘণ্টার ম্যাচ দাঁড়ায় চার ঘণ্টায়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচ সবথেকে দীর্ঘতম ম্যাচ।
আরও পড়ুন: Lionel Messi: বিশ্বকাপের মঞ্চে বিশ্বরেকর্ডের সামনে এলএম ১০
ঝড়বৃষ্টির আগে ও পরে দু’বার ঝড় তুললেন ফ্রান্স তারকা এমবাপে। সেই ঝড়ে উড়ল ইরাক। ১৪ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরাল শটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপে। তাঁর শটের কোনও জবাব গোলরক্ষকের কাছে ছিল না যদিও সেই শটের জবাব কী সেটা কেউই তেমন জানেন না। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ইরাক যে প্রতিআক্রমণের উপরেই ভরসা করবে, তা আগে থেকেই বোঝা গিয়েছিল। ম্যাচেও তা দেখা গেল। কিন্তু প্রতিআক্রমণ করে ফ্রান্সের লৌহ সমান রক্ষণ ভেঙে তাঁরা ঢুকতে পারল না।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরু হওয়ার পর আবার গোল করেন এমবাপে। সেই সঙ্গে ব্রাজিলের রোনাল্ডোকে টপকে তিনি ছুঁয়ে ফেলেন ক্লোজেকে। পরের ম্যাচে একটি গোল করলে মেসির পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসাবে একই বিশ্বকাপে ক্লোজেকে ছাপিয়ে যাবেন এই ফ্রান্স তারকা। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে হবেন দ্বিতীয় সর্বাধিক গোলদাতা। ফ্রান্সের হয়ে ৬৬ মিনিটে দলের তৃতীয় গোল করেন উসমান দেম্বেলে। হেসে খেলে ৩-০ গোলে ম্যাচ জিতে পরের পর্ব নিশ্চিত করল ফ্রান্স।


