Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বৈদিক গণিতকে শিক্ষাব্যবস্থার পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা (Mathematics Education)। প্রাচীন ভারতীয় গণিতচর্চার ঐতিহ্যকে নতুন করে পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগকে অনেকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সঙ্গে তার সামঞ্জস্য কতটা, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। এই পরিস্থিতিতে বৈদিক গণিত নিয়ে নিজের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার কথা জানালেন একটি বেসরকারি কলেজের গণিতের অধ্যাপক শুভম মুখার্জী। কে টিভি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি যেমন বৈদিক গণিতের ইতিবাচক দিকগুলি তুলে ধরেছেন, তেমনই এর অতিরিক্ত গুরুত্ব আরোপের সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেছেন।
ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নতুন করে চেনার প্রয়োজন (Mathematics Education)
অধ্যাপক শুভম মুখার্জীর মতে, বৈদিক গণিতের মধ্যে বেশ কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বাঙালিরা নিজেদের ইতিহাস ও গণিতচর্চার ঐতিহ্যকে অনেক সময় যথাযথভাবে মনে রাখে না। নীরদচন্দ্র চৌধুরীর বাঙালি জাতি সম্পর্কে করা মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের অবদান নিয়েও যথেষ্ট আলোচনা হয় না। আচার্য আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বের গণিতচর্চার অবদানও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন।
আর্যভট্ট-ব্রহ্মগুপ্তের গণিতচর্চার গুরুত্ব (Mathematics Education)
বৈদিক গণিতের প্রসঙ্গে তিনি প্রাচীন ভারতীয় গণিতজ্ঞদের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, বীজগণিতের বিভিন্ন সূত্র এবং জ্যামিতিক আকার নিয়ে প্রাচীনকাল থেকেই চর্চা হয়ে এসেছে। আর্যভট্ট ও ব্রহ্মগুপ্তের কাজের মধ্যে গণিতের বিস্তৃত উন্নতির পরিচয় পাওয়া যায়। এই ঐতিহাসিক চর্চাকে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে।
পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তি কতটা লাভজনক? (Mathematics Education)
অধ্যাপকের মতে, বৈদিক গণিতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হলে পড়ুয়ারা উপকৃত হতে পারে। বিশেষ করে সহজে গণিত শেখানোর ক্ষেত্রে এর কিছু পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে। অ্যাবাকাসের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, হাতে-কলমে অনুশীলনের মাধ্যমে ছোটদের গণিত শেখানোর মতো বৈদিক গণিতের কিছু পদ্ধতিও শিক্ষাক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে আধুনিক প্রযুক্তিই অগ্রাধিকার
তবে বৈদিক গণিতকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষপাতী নন শুভম মুখার্জী। তাঁর মতে, বর্তমান বিশ্ব এগিয়ে চলেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তির দিকে। সেই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে হলে আধুনিক গণিত ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার উপর জোর দেওয়া জরুরি। শুধু বৈদিক গণিতের উপর নির্ভর করে পড়ুয়াদের সামগ্রিক উন্নতি সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন: Kolkata Development: লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আদলে সাজবে কলেজ স্ট্রিট, বদলাবে বইপাড়া
বৈদিক গণিতের সঙ্গে প্রযুক্তির মেলবন্ধনের পরামর্শ
অধ্যাপকের পরামর্শ, বৈদিক গণিতের পাশাপাশি ক্রিপ্টোগ্রাফির মতো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিষয়ও ছোট বয়স থেকে পড়ুয়াদের শেখানো উচিত। তাঁর মতে, প্রাচীন গণিতের ঐতিহ্য এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে পারলেই শিক্ষার্থীরা প্রকৃত অর্থে লাভবান হবে। তাই সরকারের প্রস্তাব নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া মিশ্র। ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন, তবে ভবিষ্যতের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।



