Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিরাট কোহলির সেরা ওয়ানডে ইনিংস কোনটি? প্রশ্নটা শুনলেই ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখের সামনে ভেসে উঠতে পারে একের পর এক দুরন্ত সেঞ্চুরির ছবি (Virat Kohli)। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৮৩, শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে অপরাজিত ১৩৩ কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে অপরাজিত ১৬০ রানের ইনিংস। কিন্তু নিজের সেরা ইনিংস বেছে নিতে গিয়ে সবাইকে চমকে দিলেন ‘কিং’ কোহলি। তাঁর পছন্দের তালিকায় নেই কোনও সেঞ্চুরি! বরং বিশেষ গুরুত্ব পেল এমন দুটি ইনিংস, যেখানে ব্যক্তিগত রানসংখ্যার চেয়ে দলের পরিস্থিতি এবং জয়ের গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি।
উত্তরে চমক কোহলির (Virat Kohli)
বৃহস্পতিবার ৩৮ বছরে পা দিয়েছেন বিরাট কোহলি। তার আগে স্টার স্পোর্টসের একটি ভিডিওয় তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজের সেরা ইনিংস কোনটিকে মনে করেন? ঘটনাচক্রে, তার আগের দিনই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাত্র ৫১ বলে ৭৪ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। কিন্তু সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নয়, নিজের সেরা ইনিংস বাছতে গিয়ে ফিরে গেলেন পুরনো স্মৃতিতে।
প্রথমেই কোহলির পছন্দের তালিকায় উঠে আসে ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তাঁর ৩৫ রানের ইনিংস। যে ইনিংসের গুরুত্বের কাছে পিছনে পড়ে যায় হোবার্টে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে অপরাজিত ১৩৩ রানও। ২০১২ সালে সেই ম্যাচে ৩২১ রানের লক্ষ্য মাত্র ৪০ ওভারে তাড়া করে জিতেছিল ভারত। একই ভাবে তালিকায় জায়গা পেল না ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৮৫ রানের ইনিংসও। মাত্র ৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছিল ভারত। সেখান থেকে দলকে জয়ের পথে নিয়ে গিয়েছিলেন কোহলি।
সেঞ্চুরিও হার মানল ৩৫ রানের কাছে! (Virat Kohli)
২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১২২ রানের দুরন্ত ইনিংসও কোহলির বিচারে ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের ৩৫ রানকে টপকাতে পারেনি। ৩৫১ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৬৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল ভারত। সেই পরিস্থিতিতে দুরন্ত সেঞ্চুরি করে দলকে লড়াইয়ে ফিরিয়েছিলেন কোহলি। পিছিয়ে পড়েছে ২০১৮ সালে কেপ টাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তাঁর অপরাজিত ১৬০ রানের ইনিংসও।
তবে শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের ৩৫ রানকেও ছাপিয়ে যায় ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের ৪৩। বৃষ্টির কারণে ২০ ওভারে নেমে আসা সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৬৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে প্রবল চাপে পড়েছিল ভারত। সেই বিপর্যয় সামাল দিতে রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে জুটি বাঁধেন কোহলি। দু’জনে মিলে যোগ করেন ৪৭ রান। কোহলির ৪৩ এবং জাদেজার ৩৩ রানের সৌজন্যে লড়াইয়ে ফেরে ভারত। শেষ পর্যন্ত ৫ রানে ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ঘরে তোলে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল।
১৮৩-ও নয়, বিশ্বকাপের ১০৭-ও নয়! (Virat Kohli)
কোহলির পছন্দের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে আরও বেশ কয়েকটি স্মরণীয় ইনিংস। ২০১২ সালের এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৮৩, ২০১৫ সালে চেন্নাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৩৮ এবং সেই বছরই বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১০৭ রান। বিশেষ করে শেষের ইনিংসটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করা প্রথম ভারতীয় ব্যাটার হয়েছিলেন কোহলি। তবুও তাঁর সেরা ইনিংসের তালিকায় জায়গা পেল না এই দুরন্ত শতরান।
রেকর্ডের পাহাড়, তবুও রান নয় (Virat Kohli)
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিরাট কোহলির কৃতিত্বের তালিকা দীর্ঘ। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে একটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ, একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, দুটি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং দুটি আইপিএল খেতাব। ভারতের সফলতম টেস্ট অধিনায়কদের মধ্যেও অন্যতম তিনি। ৬৮টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে জিতেছেন ৪০টি ম্যাচ।
টেস্ট ক্রিকেটে ১২৩টি ম্যাচে ৯২৩০ রান করেছেন কোহলি। গড় ৪৬.৮৫। রয়েছে ৩০টি সেঞ্চুরি ও ৩১টি হাফসেঞ্চুরি। ভারতের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বাধিক রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তিনি চতুর্থ। অন্যদিকে, ৩১৮টি ওয়ানডের ৩০৬টি ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ১৫,১৮৩ রান। গড় ৫৮.৮৪। রয়েছে ৫৫টি সেঞ্চুরি ও ৮০টি হাফসেঞ্চুরি। ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বাধিক সেঞ্চুরির রেকর্ডও তাঁর দখলে।
সেরা ইনিংসের মাপকাঠি যে শুধু রান নয় (Virat Kohli)
এত সেঞ্চুরি, এত রেকর্ডের মালিক হয়েও নিজের সেরা ইনিংস হিসেবে ৪৩ রানকে বেছে নেওয়া নিছক কোনও সিদ্ধান্ত নয় (Virat Kohli)। বরং কোহলির ক্রিকেটীয় দর্শনের পরিচয়। তাঁর কাছে সেরা ইনিংস মানেই ব্যক্তিগত রানের পাহাড় নয়। কখন, কী পরিস্থিতিতে এবং দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা গিয়েছে, সেটাই আসল।
আরও পড়ুন: Cristiano Ronaldo: শেষ হল ২৩ বছরের রূপকথা! পর্তুগালের ৭ নম্বর জার্সিকে বিদায় রোনাল্ডোর
হয়তো সেই কারণেই ১৮৩, ১৬০ কিংবা ১৩৩ রানের ঝলমলে ইনিংসকে পিছনে ফেলে জায়গা করে নিয়েছে ফাইনালের ৪৩ রান। জন্মদিনের আগে নিজের পছন্দের ইনিংস বেছে নিয়ে যেন আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন ‘কিং’ কোহলি—ক্রিকেটে সব সাফল্যের মাপকাঠি স্কোরবোর্ড নয়, কিছু ইনিংসের মূল্য বোঝা যায় ইতিহাস আর আবেগ দিয়ে।



