Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি (Cockroach Janata Party)। এই সংগঠনের বিরুদ্ধে বিদেশি অর্থের মদতে দেশে অরাজকতা ছড়ানোর অভিযোগ তুললেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। শুধু তাই নয়, সংগঠনের দুই পরিচিত মুখ অভিজিৎ দীপক এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে বিদেশি শক্তির কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য পাওয়ার অভিযোগেও বিদ্ধ করেছেন তিনি। মন্ত্রীর দাবি, তাঁর হাতে এই অভিযোগের সপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত সেই প্রমাণ প্রকাশ্যে আনা হয়নি। ফলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

বিদেশি অর্থে চলছে অরাজকতা? (Cockroach Janata Party)
বেঙ্গালুরুতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জিতেন্দ্র সিং দাবি করেন, দেশের ভিতরে এবং বাইরে থাকা একাধিক ভারতবিরোধী সংগঠন বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে। সেই অর্থ ব্যবহার করে ভারতে অস্থিরতা তৈরি এবং ডিপ স্টেটের কার্যকলাপ চালানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
মন্ত্রীর বক্তব্য, অভিজিৎ দীপক মার্কিন সংস্থাগুলির কাছ থেকে অর্থ পাচ্ছেন। অন্যদিকে, আশুতোষ রাঙ্কাকে অর্থ জোগাচ্ছেন পাকিস্তানি রাজনীতিবিদরা। তাঁর দাবি, এই ধরনের আর্থিক মদতের পিছনে রয়েছে ভারতবিরোধী উদ্দেশ্য। তবে কোন সংস্থা বা ব্যক্তির কাছ থেকে কীভাবে অর্থ এসেছে, তার নির্দিষ্ট তথ্য কিংবা নথি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেননি তিনি (Cockroach Janata Party)।
যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ ঘিরেই উঠেছিল তহবিলের প্রশ্ন (Cockroach Janata Party)
উল্লেখ্য, যন্তর মন্তরে সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে আগেই নানা প্রশ্ন উঠেছিল। বিশেষ করে সংগঠনের আর্থিক উৎস নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। কোথা থেকে আসছে আন্দোলনের টাকা, কারা এই কর্মসূচির পিছনে রয়েছেন, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার সরাসরি বিদেশি অর্থের অভিযোগ তুলে সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
কংগ্রেসকেও নিশানা বিজেপির (Cockroach Janata Party)
শুধু সিজেপি নয়, এই ইস্যুতে কংগ্রেসকেও আক্রমণ করেছে বিজেপি। বিজেপি মুখপাত্র তুহিন এ সিনহার অভিযোগ, দেশের শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বদনাম করার উদ্দেশ্যেই কংগ্রেস এবং সিজেপি একযোগে কাজ করছে। তাঁর দাবি, উৎসবের মরশুমে রাজধানীতে অরাজকতা তৈরি করাই ছিল সিজেপির উদ্দেশ্য। একই সময়ে দুই পক্ষের বিচারব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত বলেও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।
তদন্তের মুখে সিজেপির দুই নেতা
যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের অধিকার সংক্রান্ত বিধিনিষেধের পরদিনই সেখানে প্রবেশ করেছিলেন আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস। তাঁদের সাত দিন জেলে থাকতে হয়। দুই নেতার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফের তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ সূত্রে দাবি, তদন্তে তাঁরা যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন না।
আরও পড়ুন: Kolkata Development: লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আদলে সাজবে কলেজ স্ট্রিট, বদলাবে বইপাড়া
অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ কোথায়, উঠছে প্রশ্ন
তবে এই বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, বিদেশি অর্থের মদতের অভিযোগ এখনও পর্যন্ত সরকারি তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দিল্লি পুলিশও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এবং বিজেপি মুখপাত্র তুহিন এ সিনহার বিস্ফোরক মন্তব্যের পরেও সিজেপির তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।



