Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ঘরের মাটিতে ২-০ ব্যবধানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল মেক্সিকো (Mexico vs South Africa)।
জিতে অভিযান শুরু মেক্সিকোর (Mexico vs South Africa)
বিশ্বকাপের ঢাকে কাঠি পড়ে গেছে। এই মুহূর্তে ভারতে মধ্যরাত সেটা বোঝার কোনও উপায় নেই। এই মুহূর্তে ভারত এখন রাট জাগছে দ্য গ্রেট নাইট শো অন আর্থ-এর জন্য। না এটা ১৯৫২ সালের অস্কারজয়ী বিখ্যাত আমেরিকান ড্রামা-র কথা বা নাম না। ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ আর তার জন্য ঘুমের বারোটা বাজলেও রাত জগতে কুছ পরোয়া নেহি (Mexico vs South Africa)।
কলকাতার খুব পরিচিত রাস্তা নিউ মার্কেট আর সেখানে দেখো দোকানে শোভা পাচ্ছে নেইমার থেকে রোনাল্ডো, মেসি থেকে এমবাপে-দের জার্সি। ওয়ান লাস্ট ডান্স-এর জন্য অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব। কারোর এই বিশ্বকাপ প্রথম আবার কারোর এই বিশ্বকাপ শেষ। এক প্রজন্ম যদি এই বিশ্বকাপে ইতি টানে তবে আরেক প্রজন্মের অভ্যুত্থান হতে চলেছে এই বিশ্বকাপ।
ফুটবলের সবথেকে বড় মহারণের প্রথম ম্যাচ আয়োজিত হল মেক্সিকো সিটিতে। আর নিজেদের দেশের মাটিতে মেক্সিকোর বিপক্ষ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এর আগে বিশালভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এই বিশ্বকাপের উন্মাদনা বাড়িয়ে দিয়েছে দ্বিগুণ। বল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই যেন সমর্থকদের শিরদাঁড়া দিয়ে উত্তেজনার স্রোত বইতে থাকে (Mexico vs South Africa)।
আরও পড়ুন: Kunal Ghosh : কুণাল ঘোষের মন্তব্যে জোর রাজনৈতিক জল্পনা
মেক্সিকো নিজেদের ঘর সাজায় ৪-১-২-৩ কম্বিনেশন-এ আর অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের ঘুঁটি সাজায় ৫-৩-২ ফরমেশন-এ। তবে আজ মাঠের মধ্যের থেকে বেশি বৈচিত্র ছিল মাঠের বাইরে (Mexico vs South Africa)।
সকাল থেকেই এই দিন সবার পথ এসে মিলিত হয়েছিল স্টেডিয়াম-এ। সকলের যে টিকিট ছিল এমনটা নয় বরং ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার জোয়ারে গা ভাসাতে উপস্থিত হয়েছিলেন তাঁরা। গায়ে নানান রঙের পোশাক। তবে বেশিরভাগ মানুষের উপস্থিতি নিজেদের স্থানীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জন্যই। এই কারণেই বলা যেতে পারে ফুটবল পারে গোটা বিশ্বকে এক সূত্রে বেঁধে দিতে (Mexico vs South Africa)।
এই ম্যাচে আলভারেজ না থাকাটা কিছুটা বিস্ময় তৈরি করেছে। তবে বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে মাঠে বল গড়াতে থাকে তখন থেকেই সমর্থকদের গর্জন বাড়তে থাকে। একদিকে গ্যালারি জুড়ে যেমন রয়েছে সেই দেশের ঐতিহ্য তেমনই মাঠেও সেই পরিচিত মেক্সিকান ফুটবল।
মেক্সিকান সমর্থকদের বেশিক্ষণ অপেক্ষায় রাখেনি মেক্সিকোর প্লেয়াররা। জুলিয়ান কিনিওনেস-এর গোলে খেলার প্রথম হাফেই ব্যবধান তৈরি করে মেক্সিকো। খেলার সময় যখন ৯ মিনিট মাত্র সেই সময় বল গোলে জড়িয়ে দিতে কোনও ভুল করেননি সৌদি লিগে খেলা এই তারকা ফরোয়ার্ড সেই সময় নিজেদের ঘরের মাঠে সমর্থকরা মেতেছে বিখ্যাত ব্যালে ড্যান্স-এ (Mexico vs South Africa)।
এই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল ছিল মেক্সিকোর সামনে ফিকে। বারবার আক্রমণ দক্ষিণ আফ্রিকার ডি-বক্সে উঠে আসলেও দক্ষিণ আফ্রিকা সেই আক্রমণ দেখাতে পারেনি। রক্ষণ বিভাগেও দক্ষিণ আফ্রিকা ছিল দুর্বল আর সেই দুর্বলতার সুযোগ ভাল ভাবে কাজে লাগান মেক্সিকান প্লেয়াররা।
জমাট রক্ষিণ, টেকনিক্যাল ড্রিবলিং এবং ছোট ছোট পাসিং, চেনা ছন্দে মেক্সিকান ফুটবল। মেক্সিকোর অলি গলিতে দেখা যায় যে নান্দনিক ফুটবলের নিদর্শন আর সেই ছবি তখন মাঠ জুড়ে। দ্বিতীয় গোল রাউল জিমেনেজের বুট থেকে আসে।
দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার থেম্বা জুয়ানে লাল কার্ড দেখেন। সিদ্ধান্ত নিতে রেফারিকে ভার-এর সাহায্যও নিতে দেখা গেছে। তবে ততক্ষণে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে। জুয়ানের পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার ইয়ায়া সিথোলও লাল কার্ড দেখেন। মেক্সিকোর সিজার মন্টেসও দেখেন লাল কার্ড।
৭ মিনিট অতিরিক্ত পেলেও খেলার ছবি পাল্টায়নি। গোটা ম্যাচ কার্যত বলা যায় মেক্সিকোর দখলেই ছিল বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ। নিজেদের ঘরের মাটিতে ২-০ ব্যবধানে জিতে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল মেক্সিকো (Mexico vs South Africa)।


