Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ৭-২ গোলে প্রতিপক্ষকে চূর্ণ করে উড়তে উড়তে আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে উঠেছিল ইস্টবেঙ্গল (Mohun Bagan Champion)। কিন্তু ফাইনাল মহারণে সেই দাপটের লেশমাত্র মিলল না। মেগা ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানের কাছে হেরে খেতাব হাতছাড়া হতেই এখন লাল-হলুদ সমর্থকদের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—তবে কি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়েই মাশুল দিল ইস্টবেঙ্গল? নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে যে ফুটবলাররা গোলের ফুলঝুরি ছুটিয়েছিলেন, তাঁদের প্রথম একাদশে না রেখেই এদিন মাঠে দল নামিয়ে দিলেন কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। আর তাতেই ডুবল তরী। টানা দ্বিতীয়বার শিল্ড পকেটে পুরে উল্লাসে মাতল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।
বেঞ্চে আনোয়ার, তাসের ঘর রক্ষণ (Mohun Bagan Champion)
জাতীয় দলে খেলে আসার ‘অজুহাত’ দেখিয়ে আনোয়ার আলিদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ডিফেন্ডারকে ম্যাচের শুরু থেকেই বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছিলেন হাবাস। যার খেসারত দিতে হল পুরো দলকে। ৯০ মিনিট ধরে বেঞ্চে বসে আনোয়ার দেখলেন, তাঁকে ছাড়া লাল-হলুদের রক্ষণভাগ ঠিক কতটা ভঙ্গুর এবং কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। ডিফেন্সে হার্দিক কিংবা চুংনুঙ্গারা সবুজ-মেরুন ফরোয়ার্ডদের আক্রমণ রুখতে বিন্দুমাত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। লাল-হলুদ শিবিরের জন্য এই হারের ব্যবধান যে আরও লজ্জাজনক রূপ নেয়নি, তার একমাত্র কারণ গোলকিপার লাচেনপা। ম্যাচের পর ম্যাচ দুর্দান্ত সেভ করে দলকে রক্ষা করলেন তিনি। এই হতাশার সন্ধ্যায় লাল-হলুদ জার্সি গায়ে একমাত্র তিনিই ছিলেন স্বস্তির আলো।
অফ ফর্মের ‘অসুখ’ (Mohun Bagan Champion)
গত ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা ডেভিড লালসাঙ্গহাকে প্রথম একাদশে না রেখে এডমুন্ড লালরিন্ডিকার উপর ভরসা রেখেছিলেন হাবাস। হয়তো ধরে নিয়েছিলেন, ডুরান্ড কাপের ফাইনালে যেভাবে মোহনবাগানকে ফালাফালা করে দিয়েছিলেন, এদিনও ব্রাজিল-উরুগুয়ে ম্যাচ খেলে আসার পর অনায়াসে সেটাই করে ফেলবেন এডমুন্ড। কিন্তু বাস্তবটা হল, এদিন মাঠে গত ডার্বির নায়ককে খুঁজেই পাওয়া গেল না। শুধু এডমুন্ড নন, অফ ফর্মের ‘অসুখ’টা যেন পুরো ইস্টবেঙ্গল শিবিরকেই গ্রাস করেছিল। মাঝমাঠে মহম্মদ রশিদের খেলায় চেষ্টার তীব্র অভাব স্পষ্ট ছিল; সঙ্গে রামিরেজ, বিপিন ও জিকসন—সবাই একসঙ্গে ফ্লপ।
আরও পড়ুন: Abhishek Porel Bengal: রঞ্জি ট্রফির প্রথম ম্যাচে বাংলা দলে ধর্ষণে অভিযুক্ত অভিষেক পোড়েল, সরল ম্যাচ
ডিলেমপেরিসের মাস্টারস্ট্রোক (Mohun Bagan Champion)
অন্যদিক থেকে দল হিসেবে মোহনবাগানকে এদিন অনেক বেশি সংঘবদ্ধ ও লক্ষ্যভেদী দেখিয়েছে (Mohun Bagan Champion)। জাতীয় দল থেকে ফেরা বেশিরভাগ ফুটবলারকেই শুরুর একাদশে নামিয়ে ঝুঁকি নিয়েছিলেন সবুজ-মেরুন কোচ। শুভাশিস বসুকে বসিয়ে অভিষেক টেকচামকে নামানোর চালটিই ছিল প্যানাজিওটিস ডিলেমপেরিসের আসল মাস্টারস্ট্রোক। অভি মিতেই একাই লাল-হলুদের সমস্ত আক্রমণ ভেস্তে দেন। রক্ষণ জমাট বাঁধতেই মাঝমাঠে আত্মবিশ্বাস বাড়ে সমীর জেলকোভিচদের, যার ফলে ম্যাচের সিংহভাগ সময়ই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ছিল মোহনবাগানের কবজায়। ডুরান্ডের হার থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিটি পদক্ষেপে মোহনবাগান ছিল অনেক বেশি ফোকাসড।
ম্যাচের শেষ কুড়ি মিনিটে রশিদরা কিছুটা কামড় দেওয়ার চেষ্টা করলেও সবুজ-মেরুন রক্ষণের শক্ত প্রাচীর ভাঙা সম্ভব হয়নি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে ট্রফি হারানোর পর ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মনে এখন শুধুই এক বুক ক্ষোভ আর ধোঁয়াশা—হাবাসের মতো অভিজ্ঞ কোচ কীভাবে এমন ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারলেন? তবে কি সত্যিই এবার মরচে পড়তে শুরু করেছে স্প্যানিশ প্রফেসরের মগজাস্ত্রে?



